এক সময় ঠেলাগাড়িতে বিক্রি হতো কুলফি, আজ ট্রাম্প-আম্বানির অনুষ্ঠানে পৌঁছয় সেই আইসক্রিম!

Shankar Ice Cream library: আইসক্রিম খাওয়ার পর মানুষের মুখের অভিব্যক্তি কেমন হচ্ছে, কোন স্বাদটা মানুষ বারবার চাইছে—এসব তিনি খুব মন দিয়ে খেয়াল করতেন। গ্রাহকদের সেই ভালোলাগাকে বুঝেই তিনি একের পর এক আইসক্রিমের স্বাদে বদল আনতেন। আর এই ‘মানুষের মন বোঝার ম্যাজিক’-ই হয়ে উঠেছিল আজকের এই বিশাল ব্র্যান্ডের আসল ভিত্তি।

inscript
৪ মিনিট
এক সময় ঠেলাগাড়িতে বিক্রি হতো কুলফি, আজ ট্রাম্প-আম্বানির অনুষ্ঠানে পৌঁছয় সেই আইসক্রিম!

১৯৬০ সাল। গুজরাতের আহমেদাবাদ শহরে Law Garden-এর ব্যস্ত রাস্তায় তখন এক ভদ্রলোক হাতে চালানো একটি ঠেলাগাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। নাম তাঁর গোপিলাল সামনানি। তিনি নিজেই কাঠ দিয়ে হাতে ঘুরিয়ে (Hand-churned) তৈরি করতেন আইসক্রিম আর কুলফি। দোকানের নাম দিয়েছিলেন ‘শঙ্কর আইসক্রিম অ্যান্ড কুলফি সেন্টার’।

গোপিলাল সামনানির পুঁজি বলতে বড় কোনো দোকান বা মোটা অঙ্কের টাকা ছিল না। কিন্তু তাঁর কাছে ছিল একটা অসামান্য গুণ। তিনি গ্রাহকদের মন পড়তে পারতেন। আইসক্রিম খাওয়ার পর মানুষের মুখের অভিব্যক্তি কেমন হচ্ছে, কোন স্বাদটা মানুষ বারবার চাইছে—এসব তিনি খুব মন দিয়ে খেয়াল করতেন। গ্রাহকদের সেই ভালোলাগাকে বুঝেই তিনি একের পর এক আইসক্রিমের স্বাদে বদল আনতেন। আর এই ‘মানুষের মন বোঝার ম্যাজিক’-ই হয়ে উঠেছিল আজকের এই বিশাল ব্র্যান্ডের আসল ভিত্তি।

বছরের পর বছর কেটে গেল। ধীরে ধীরে সেই ঠেলাগাড়িটা একটা স্থায়ী দোকানে রূপ নিল, আর সেই দোকানটাই মানুষের মুখে মুখে হয়ে উঠল একটা ভরসার নাম।

১৯৮৯ সাল। ব্যবসায় পা রাখল পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্ম—অরুণ সামনানি। তাঁর হাত ধরেই এই ব্যবসার চেহারাটা পুরোপুরি বদলে যেতে শুরু করে। অরুণভাই বুঝলেন, শুধু সনাতন পদ্ধতিতে আর বেশিদিন টিকে থাকা যাবে না; ব্যবসার পরিধি বাড়াতে গেলে দরকার আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া।

তিনি ব্যবসায় নিয়ে এলেন এক সুনির্দিষ্ট কাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি। তবে একটা জায়গায় তিনি কোনো আপস করেননি, তা হলো গুণগত মান। একদম খাঁটি দুধ এবং ফ্রেশ ক্রিম বেস ব্যবহার করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে আইসক্রিম বানানোর ধারা বজায় রাখলেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আদিবাসী নারীদের হাতে তৈরি মহুয়া আজ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড

Mahua liquor: পৃথিবীতে ফুল থেকে তৈরি হওয়া হাতেগোনা কয়েকটি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের মধ্যে মহুয়া অন্যতম। এটি শুধু একটি পানীয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতের গভীর জঙ্গল, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং এক দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস। কিন্তু জংলি ফুল দিয়ে তৈরি মহুয়া এখন আর স্রেফ ‘কান্ট্রি লিকার’ নয়, বরং হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক লাক্সারি ব্র্যান্ড।

এই সময় তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন আইসক্রিম বিশেষজ্ঞ নিতিন বি. শাহ। অরুণ সামনানি এবং নিতিন বি. শাহের যৌথ প্রয়াসে আইসক্রিম তৈরি করাটা কেবল একটা রান্নার কাজ রইল না, তা হয়ে উঠল এক সূক্ষ্ম শিল্প। আর এই সৃজনশীলতার হাত ধরেই আইসক্রিমের জগতে শুরু হলো একের পর এক দুর্দান্ত এক্সপেরিমেন্ট বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

২০১৩ সালে এলেন তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি ভাগ্যেশ সামনানি। তরুণ প্রজন্মের এই আইকন ব্যবসার ভোল পাল্টে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এরপরই, ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ আত্মপ্রকাশ করে এক অভিনব কনসেপ্ট—‘শঙ্কর’স আইসক্রিম লাইব্রেরি’।

আমরা যেমন লাইব্রেরিতে গিয়ে হাজার হাজার বইয়ের খোঁজ পাই, ঠিক তেমনি এই আইসক্রিম পার্লারে ঢুকলে চোখের সামনে ভেসে উঠবে আইসক্রিমের এক অনন্ত সমুদ্র! বর্তমানে এদের নিজস্ব আবিষ্কার করা ফ্লেভারের সংখ্যা ১৩০০-রও বেশি। ফুল, ফল, নানারকম বাদাম, চকোলেট থেকে শুরু করে মশলাপাতি—কী নেই সেখানে!

এখানে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে ‘লাইভ কাউন্টার’ আর ‘কোল্ড স্টোন প্রিপারেশন’-এর সুবিধা। অর্থাৎ, আপনার চোখের সামনেই আপনার পছন্দের ফ্লেভারের আইসক্রিম মেখে তৈরি করে দেওয়া হবে। আর কেনার আগে মনের মতো চেখে দেখার সুযোগ তো আছেই!

আপনি যদি বোদাকদেব (Bodakdev) বা সিজি রোডের (CG Road) মডার্ন আউটলেটে যান, তবে মেনু কার্ড দেখে আপনার চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। এদের কিছু জনপ্রিয় ফ্লেভারের তালিকয় আছে:

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাত্র ৫-১০ হাজার টাকা দিয়েই শুরু করুন মাশরুম চাষ, বছরে কোটি টাকার ব্যবসার পথ দেখাচ্ছেন জিথু থমাস

Mushroom Farming at Home: বাড়ি বসেই মাশরুম চাষ করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব—এই কথাটি শুনলে হয়তো অনেকেরই বিশ্বাস হতে চাইবে না। কিন্তু এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন কেরালার পিরাভোমের এক তরুণ, নাম জিথু থমাস। মায়ের সাথে মাত্র একটা ছোট প্যাকেট মাশরুমের বীজ (স্পন) দিয়ে শুরু করে আজ তিনি প্রতি মাসে ১২ লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন! তাঁর এই ১৫ বছরের পথচলা আজ দেশের বহু মানুষের কাছে এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

  • ফলের জাদু: ব্ল্যাক জামুন, আলফনসো ম্যাঙ্গো কিংবা জামুন-ম্যাঙ্গো মিক্স।

  • অভিজাত স্বাদ: স্প্যানিশ হ্যাজেলনাট, বেলজিয়াম বা মাদাগাস্কার চকোলেট, আঞ্জির আখরোট ও আফগান রোজ পিস্তা চিলগোজা।

  • ইউনিক এক্সপেরিমেন্ট: বাকলাভা, রেড ভেলভেট ক্র্যানবেরি এবং হোয়াইট চকোলেট সিনামন (দারুচিনি)।

  • স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য: সুগার-ফ্রি ক্র্যানবেরি জাম্বু কিংবা ভেগান ও লো-সুগার কেসার চিলগোজা।

একটি সাধারণ ঠেলাগাড়ি থেকে উঠে এসে দেশের সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল ইভেন্টগুলিতে জায়গা করে নেওয়াটা মুখের কথা নয়। কিন্তু শঙ্কর আইসক্রিম লাইব্রেরি সেই অসম্ভবকেও সম্ভব করেছে।

১. ট্রাম্প (২০২০): আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়ামে যখন আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসেছিলেন, তখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) থেকে শঙ্করের কাছে আইসক্রিম সাপ্লাইয়ের অনুরোধ যায়। কড়া নিরাপত্তা বলয় পার করে স্টেডিয়ামে পৌঁছেছিল তাঁদের বিশেষ ‘জামুন-ম্যাঙ্গো’ এবং ‘তুলসী স্ট্রবেরি’ ফ্লেভার। ট্রাম্প থেকে শুরু করে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো তারকারা সেই স্বাদ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছিলেন।

২. আম্বানিদের প্রি-ওয়েডিং (২০২৪): অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের সেই বিশ্বখ্যাত প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানেও ডাক পেয়েছিল এই ব্র্যান্ড। প্রায় ৩০,০০০ অতিথির জন্য আইসক্রিম তৈরি করতে ভাগ্যেশ সামনানিকে ২২-২৩ জন কর্মীর এক বিশাল টিম নিয়ে দিনরাত এক করতে হয়েছিল। সেখানে তাঁদের তৈরি ভেগান ও স্টিভিয়া দিয়ে মিষ্টি করা ‘কেসার চিলগোজা’ আইসক্রিমটি তুমুল সাড়া ফেলেছিল।

তাছাড়া, ২০১৭ সালে সেরা আইসক্রিমের জন্য ‘টাইমস্ ফুড অ্যাওয়ার্ড’-ও জিতে নেয় এই প্রতিষ্ঠান।

আজকের দিনে দাঁড়িয়েও কিন্তু তাঁদের আদি দোকানটি (Law Garden-এর অরিজিনাল শঙ্কর আইসক্রিম অ্যান্ড কুলফি সেন্টার) সগৌরবে চলছে। বহু পুরনো মানুষ এখনও সেখানে ছোটবেলার নস্টালজিয়া খুঁজতে যান, যাকে তাঁরা ভালোবেসে বলেন “ওল্ড ইজ গোল্ড”।

তবে শঙ্কর আইসক্রিম লাইব্রেরি এখানেই থেমে থাকতে চায় না। কার্পিগিয়ানির (Carpigiani) মতো বিশ্বমানের আধুনিক মেশিন ব্যবহার করে কোয়ালিটি ধরে রাখার পাশাপাশি তাঁরা এবার তৈরি হচ্ছেন বিশ্বজয়ের জন্য। আগামী দিনে কিটো (Keto), ভেগান (Vegan) এবং হাই-প্রোটিন আইসক্রিমের সম্ভার আরও বাড়িয়ে গ্লোবাল মার্কেটে পা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

একটি সাধারণ ঠেলাগাড়ি, একজোড়া পরিশ্রমী হাত আর আকাশছোঁয়া স্বপ্ন—এই তিনের মেলবন্ধনে যে একটা কিংবদন্তি তৈরি করা যায়, শঙ্কর আইসক্রিম লাইব্রেরির গল্পটা আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। বড় কিছু গড়তে গেলে যে কোটি কোটি টাকার চেয়েও বেশি প্রয়োজন মানুষের কথা শোনা, সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলানো আর নতুন কিছু করার অদম্য সাহস—তা এই তিন প্রজন্মের পথচলা প্রতি পদে প্রমাণ করে দিয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।

সুপারমার্কেটের শাকে নয়, বুনোশাকেই রয়েছে বেশি পুষ্টিগুণ

Wild leafy greens: Scientific Reports (2024)-এর গবেষণা বলছে, বাণিজ্যিক উপায়ে চাষ করা সাধারণ সবজির চেয়ে এই বুনো শাকগুলিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং ফাইবার অনেক বেশি থাকে। এমনকী কর্ণাটকের সোলিগা উপজাতির মহিলারা গর্ভবতী মায়েদের রক্তশূন্যতা দূর করতে বিশেষ কিছু বুনো শাক ব্যবহার করে আসছেন যুগের পর যুগ।