নোট গোনার মেশিন বানান! আইআইটি পড়ুয়াদের কাছে এ কেমন আবদার ধনখড়ের?
Jagdeep Dhankhar to IIT students: ধানবাদ, ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-তে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি জানালেন, দ্রুততম টাকা গোনার মেশিন বানাক পড়ুয়ারা।

না, অত্যাধুনিক চিকিৎসার কোনও যন্ত্রপাতি নয়। দ্রুততম ট্রেন, বাস বা কোনও যানবাহন পর্যন্ত নয়। দেশের উপরাষ্ট্রপতি আইআইটি পড়ুয়াদের কাছে আবদার করে বসলেন অন্য এক যন্ত্রের। ধানবাদ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ইন্ডিয়ান স্কুল অব মাইনস)-এ গিয়ে উপরাষ্ট্রপতির জানালেন, দ্রুততম টাকা গোনার মেশিন বানাক পড়ুয়ারা। যা দিয়ে নিমেষে গুনে ফেলা যাবে হাজার হাজার টাকা।
প্রায় সমস্ত রাজ্য়ের নেতামন্ত্রী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের কথা শোনা যাচ্ছে ইদানীং! সেদিক থেকে দেখতে গেলে তেমন বড় কোনও দাবি কি আদৌ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। সম্প্রতি আইআইটি-আইএসএম, ধানবাদের সমাবর্তন উপলক্ষে অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন ধনখড়। সেখানেই কথা বলার সময় তাঁর কথায় উঠে আসে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারদের দুর্দশার কথা। টাকা গুনতে গিয়ে যে ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় তাঁদের, সে কথা তুলে ধরে ধনখড়ের পড়ুয়াদের কাছে আর্জি, তাঁরা যেন এমন কোনও মেশিন বানায়, যা দ্রুতগতিতে টাকা গুনতে পারবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সম্প্রতি রাঁচির কংগ্রেস সাংসদ ধীরজ সাহুর বাড়িতে হানা দেয় আয়কর দফতর। প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকা উদ্ধার হয় তাঁর কাছ থেকে। বাড়ির সামনে জড়ো হয় টাকার বিরাট স্তূপ। সেই বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা গোনার মেশিন আনা হয়েছিল বটে। তবে কাজের কাজ কিছু হয়নি। কারণ ওই বিপুল পরিমাণ নোট গুনতে গিয়ে খারাপ হয়ে যায় মেশিন। জানা গিয়েছে স্টেট অব ব্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার যে শাখায় টাকা গোনা হয়েছে, সেখানে টাকা গোনার পর জড়ো হয় টাকা-ভর্তি মোট ১৭৬টি ব্যাগ। গত ৬ ডিসেম্বর টাকা গোনার কাজ শুরু হলেও ১৭৬টি ব্যাগের মধ্যে ১৪০টি ব্যাগ গোনার কাজই শেষ হয়েছে এখনও পর্যন্ত। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার আঞ্চলিক শাখার ম্যানেজার ভগৎ বেহেরা জানান, ব্যাঙ্কের ৫০ জন কর্মী ও ৪০টি মেশিন মোতায়েন করেও এখনও টাকা গোনার কাজ বাকি অনেকটাই। আর সেই সমস্যাটার দিকে তাকানোর জন্য আইআইটি পড়ুয়াদের কাথে আর্জি নানা তিনি। ধানবাদ আইআইটির সমাবর্তনে এসে স্বাভাবিক ভাবেই কংগ্রেস সাংসদের সেই দুর্নীতির কথা তুলে ধরতে ভোলননি ধনখড়। আর তার প্রেক্ষিতেই পড়ুয়াদের কাছে একটি দ্রুততর নোট গোনার মেশিন তৈরির আর্জি জানান তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সব জল্পনা নস্যাৎ করে বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করে ফের একবার চমকে দিয়েছেন মোদি-শাহরা। তাই বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ধনখড়ের নাম ঘোষণা করতেই হইচই পড়ে যায়।
সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন, বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় শেঠ জিরো আওয়ারের সময় লোকসভায় প্রশ্নটি তোলেন। শুধু ধীরজই নয়, কংগ্রেসের বাকি নেতা-নেত্রীদের অনেকেই এই ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। বরবারই বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলে বদনাম রয়েছে জগদীপ ধনখড়ের। বাংলার রাজ্যপাল থাকাকালীন বারবার এ রাজ্যের সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন জগদীপ। এমনকী তিনি এমন এমন সিদ্ধান্তও নিয়েছেন, যা একান্তভাবে রাজ্য সরকারবিরোধী, এমনকী জনবিরোধীও। বারবার তাঁর দরবারে পৌঁছে সিলমোহরের জন্য পড়েছে রাজ্যসরকারের বহু প্রস্তাব, প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল সংঘাত রীতিমতো আলোচনার ব্যপার হয়ে উঠেছিল তখন বাংলায়। অবশেষে বাংলার রাজ্যপালের পদ ছেড়ে দেশের উপরাষ্ট্রপতির পদে আসেন জগদীপ ধনখড়। এদিন আইআইটি ধানবাদের সমাবর্তনে এসে প্রকট ভাবে না হলেও প্রচ্ছন্ন ভাবে বিজেপি সমর্থনের চেষ্টা দেখাই গেল ধনখড়ের মধ্যে। এদিন তিনি বলেন, পাওয়ার কডিডোরগুলি দুর্নীতির কবলে পড়ে নষ্ট পড়ে রয়েছে। তবে আইনের উপরে কেউ-ই নয় বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
সাধারণ ভাবে, আইআইটিতে এসে বিজ্ঞান-আবিষ্কার ও সমাজ সংক্রান্ত কথাবার্তাই বলে থাকেন মানুষ। তবে ধনখড় যে বরাবরই প্রথা ভাঙতে পছন্দ করেন। আইআইটি পড়ুয়াদের কাছ থেকে সমাজ ও বিজ্ঞানের উন্নতি হয়, চিকিৎসা আরও আধুনিক জায়গায় পৌঁছতে পারে, এমন জিনিসপত্র চাওয়ার বদলে যে ভাবে টাকা গোনার মেশিন চেয়ে বসেছে জগদীপ ধনখড়, তা নজিরবিহীন বলেই জানিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি। অনেকেই বেশ মজাও পেয়েছেন উপরাষ্ট্রপতির এমন অদ্ভুত আবদারে।






