কমলালেবু বিক্রেতার হাতে পদ্মশ্রী

Amit Pratihar
৩ মিনিট
কমলালেবু বিক্রেতার হাতে পদ্মশ্রী

ছবিতে যাদের দেখছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ, যাকে মোটামুটি সব্বাই চেনেন। কিন্তু অন্যজন কে? উনি একজন ফল বিক্রেতা। যার হাতে ভারতের রাষ্ট্রপতি তুলে দিচ্ছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। কি চমকে উঠলেন? একজন ফল বিক্রেতার হাতে পদ্মশ্রী পুরস্কার!? যে পুরস্কার আচ্ছা আচ্ছা গুণী মানুষেরা পাওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবেন না, সেই পুরস্কার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক সামান্য ফল বিক্রেতা? কেন? কীভাবে?

গল্পটা জানতে গেলে পাতা উল্টে পিছিয়ে যেতে হবে পুরানো দিনে।

ছবিতে যিনি পদ্মশ্রী পুরস্কার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন সেই ফল বিক্রেতার নাম হলো হরেকলা হাজব্বা। কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরের অধিবাসী। সারাটা জীবন তার কেটেছে ম্যাঙ্গালোরের একটি বাস ডিপোতে কমলালেবু বিক্রি করতে করতে। সেই ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি কমলালেবু বিক্রি করেন। শৈশব কেটেছে বড়ই অভাব অনটনে, পড়াশোনা করার সৌভাগ্যটুকু হয়নি তার। শিক্ষা সবার অধিকার হলেও, জোটে আর ক'জনের কপালে? হরেকলা হাজব্বার কপালেও জোটেনি। ১৯৭৮ সালের এক শীতের সকালে তার ফলের দোকানে আসেন এক বিদেশি ট্যুরিস্ট। তিনি ফলের দাম ইংরেজিতে জানতে চাইলে হরেকলা কিছুই বুঝতে পারেন না তাঁর ভাষা। ভাষা বুঝতে না পারলেও হরেকলা সেদিন এটা বোঝেন প্রথাগত এবং পুঁথিগত শিক্ষা জীবনে ঠিক কতটা প্রয়োজনীয়। তার তৎক্ষণাৎ মনে পড়ে নিজের গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর কথা, যাদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি তখনও। কারণ তার গ্রাম নিউপাডাপুতে ছিলো না কোনও স্কুল। ফলত গ্রামের সমস্ত শিশু ছিল অশিক্ষার সুবিস্তৃত আঁধারের চাদরে ঢাকা।

শুরু হয় এক যুদ্ধ। দৈনিক ১৫০টাকা আয় করা ফল বিক্রেতা হরেকলা হাজব্বা সিদ্ধান্ত নেন তিনি তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে তার গ্রামে তৈরি করবেন একটি স্কুল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নিজের গ্রামে কিনে নেন ১ একর জমি। তারপির বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে গড়তে থাকেন স্কুলবাড়ির ইঁট চুন সুরকি রড। আস্তে আস্তে তার স্বপ্ন পরিণত হয় বাস্তবে। বর্তমানে তার স্কুলে ছাত্রের সংখ্যা ১৭৫। তার তৈরি করা স্কুলে দশম শ্রেণী অবধি শিক্ষা প্রদান করা হয়। কিন্তু কেন এই স্কুল তৈরির স্বপ্ন? কেন এক সামান্য ফল বিক্রেতা নিজের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, উপার্জন খরচ করলেন গ্রামের শিশুদের শিক্ষার পিছনে? তার জুবানি ইংরেজি অনুবাদ করলে যা দাঁড়ায় তা হলো, 'I never had the opportunity to access education, and I didn't want the children in the village to suffer the pain'

হরেকলার স্কুল প্রচারের আলোয় আসার পর হরেকলাকে কর্ণাটকের বিভিন্ন সংস্থা থেকে পুরস্কৃত করা হয়, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে পুরস্কারের যেটুকু অর্থ তিনি যখন যখন পেয়েছেন, তখন তখন তা তুলে দিয়েছেন নিজের স্কুলের তহবিলে। হরেকলার এই মহান কার্য্যকলাপের খবর দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর, তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ থেকে ৪ দিন আগে তিনি যখন মাননীয় রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী তুলে নিচ্ছিলেন তখন তার জন্য হাততালি দিচ্ছিলেন এই দেশের তাবড় তাবড় সম্মানীয় ব্যক্তিরা। এক ফল বিক্রেতা তার জীবদ্দশায় আবার প্রমাণ করে দিলেন, মানুষ সম্মানীয় হয় তার কাজের মাধ্যমে।

'স্কুল তো হলো, কিন্তু এরপর কী?'

হরেকলাকে এই প্রশ্ন করলে উত্তর আসে, 'আমি আমার গ্রামে আরও স্কুল কলেজ খুলতে চাই। এই প্রাইজমানি দিয়ে আমি জমি কিনবো। আমি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই আমাদের গ্রামে একটা উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য'

লিখেছেন
Amit Pratihar
Amit Pratihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।