কেন হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

Strait of Hormuz crisis: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রো নৌ অবরোধ করছে। এই পদক্ষেপে কি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আবারও বড় সংকট তৈরি হবে? বাড়বে যুদ্ধের আশঙ্কা? নাকি এটি কেবল কূটনৈতিক চাপের কৌশল, যার লক্ষ্য ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা?

inscript
৩ মিনিট
কেন হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ—স্ট্রেট অব হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনী নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইরানের বন্দরগুলিকে ঘিরে একটি ‘নৌ অবরোধ’ তৈরি করেছে, যার লক্ষ্য ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করে তাকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা। এই পরিস্থিতি শুধু দুই দেশের দ্বন্দ্ব নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং ভূ-রাজনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালী এমন একটি সামুদ্রিক পথ, যার গুরুত্ব বোঝাতে গেলে একটি তথ্যই যথেষ্ট—বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলকে ঘিরে যে কোনো সামরিক উত্তেজনা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালীর উপর প্রভাব বিস্তার করে এসেছে, আর সেই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অনেকেই কৌশলগত পাল্টা চাল হিসেবে দেখছেন।

এই অবরোধের পেছনে মূল কারণ হলো ভেস্তে যাওয়া শান্তি আলোচনা। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-আমেরিকা আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ চালু করবে। এই অবরোধের লক্ষ্য একদিকে ইরানের উপর চাপ বাড়ানো, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে ‘স্বাভাবিক নৌ চলাচল’ পুনঃস্থাপন করা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান-আমেরিকার ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ: আগেই ছিল সেই ইঙ্গিত?

Iran-US Peace Talks: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও কেন ভেঙে গেল ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা? ইউরেনিয়াম ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা নাকি আঞ্চলিক প্রভাব—কোন মতভেদ সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল?

তবে এই অবরোধ পুরো প্রণালী বন্ধ করে দেয়নি। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যেসব জাহাজ ইরানের সঙ্গে যুক্ত নয়, তারা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরগুলিতে যাতায়াত করবে, তাদের থামানো বা আটকানো হতে পারে। অর্থাৎ, এটি একটি লক্ষ্যভিত্তিক অবরোধ, যার মূল নিশানা ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, অর্থাৎ তেল রফতানি।

এই পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। কারণ, ইরান প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানি করে, যা এই অবরোধে আটকে যেতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচে।

অন্যদিকে, ইরান এই অবরোধকে সরাসরি ‘অবৈধ’ এবং ‘সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে অভিযোগ করেছে। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী বলেও দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের জাহাজ আটকানো হলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। অর্থাৎ, পরিস্থিতি যে কোনো সময় সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি ঠিক কতটা জখম?

Mojtaba Khamenei Injury Update: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি ঠিক কতটা জখম? বিমান হামলার পর তাঁর মুখ বিকৃত হওয়ার দাবি কি সত্যি? পা হারানোর আশঙ্কা কতটা বাস্তব? কেন এখনও প্রকাশ্যে আসছেন না তিনি?

এই অবরোধের আরও একটি বড় প্রভাব পড়েছে সামুদ্রিক চলাচলে। অনেক জাহাজ এই অঞ্চল এড়িয়ে যাচ্ছে, কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে যাচ্ছে। ফলে শুধু তেল নয়, অন্যান্য পণ্য পরিবহণেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর এর প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল এখানে স্পষ্ট, ইরানের অর্থনীতিকে এমনভাবে চাপে রাখা যাতে তারা আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আগে ব্যবহার করা কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি। তবে ইরানের অবস্থান ভিন্ন। তারা শুধু তেল রফতানির উপর নির্ভরশীল নয়, আঞ্চলিকভাবে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতিও রয়েছে। ফলে এই সংঘাত আরও জটিল হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় দেশগুলি বলছে, হরমুজ প্রণালী সবসময় খোলা থাকা উচিত, কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। অন্যদিকে, চিন ও অন্যান্য দেশ উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই অবরোধ কি সত্যিই ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি এটি আরও বড় সংঘর্ষের সূচনা করবে? সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।