মোদি-শাহ ঘনিষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ! কতটা পক্ষপাতহীন হবে নির্বাচন?
Election Commissioner Elected: জ্ঞানেশ কুমার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে থাকাকালীন ৩৭০ ধারা বাতিলের তদারকি করেছিলেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ প্যানেলের দু'টি পদ ছিল শূন্য। সেই পদের জন্য অবশেষে নির্বাচিত হলেন আমলা সুখবীর সিং সান্ধু এবং জ্ঞানেশ কুমার। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী সংস্থার প্রস্তুতির লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারকে সাহায্য করার জন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বাছাই করার জন্য একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খোদ সেই প্যানেলের সভাপতি। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছাড়াও এই প্যানেলের অংশ ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটিতে থাকতেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। সেই জায়গায় একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিয়ে আসা নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। অধীরের মতে, ভারতের প্রধান বিচারপতির এই কমিটিতে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু গত বছর আনা আইনের জেরে প্রধান বিচারপতির জায়গা নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিজেপির সরকার। আইন বদলানো নিছকই বাঁ হাতের খেলা তাই!
অধীর বলছেন, তাঁকে গত রাতে যাচাইয়ের জন্য ২১২টি নাম দেওয়া হয়েছিল। অধীর নিজেই এই বাছাই তালিকা চেয়েছিলেন যাতে প্রার্থীদের বিশদ তথ্য পরীক্ষা করতে পারেন। কিন্তু অধীরের অভিযোগ সেই সুযোগই পাননি তিনি। বৈঠকের দশ মিনিট আগে তাঁকে ৬টি নামের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হয়। এক রাতের মধ্যে বাছাইয়ের জন্য তাঁকে ২১২ জনের নাম দেওয়া হয়, যা কার্যত অসম্ভব। "এক রাতে, আমার পক্ষে ২১২টি নাম পরীক্ষা করা এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা মানবিকভাবে অসম্ভব,”বলছেন অধীর। তাই নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Amit Shah on CAA: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলছেন, দেশভাগের সময় পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ ছিল হিন্দু। এখন তা কমে হয়েছে ৩.৭ শতাংশ।
সুখবীর সিং সান্ধু এবং জ্ঞানেশ কুমার হচ্ছেন ১৯৮৮ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার। সুখবীর সিং সান্ধু হচ্ছেন উত্তরাখণ্ড ক্যাডারের আইএএস আর জ্ঞানেশ কুমার কেরল ক্যাডারের। সুখবীর সিং সান্ধু এর আগে উত্তরাখণ্ডের মুখ্য সচিব এবং ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে কাজ করেছেন। জ্ঞানেশ কুমার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক এবং অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন সহযোগিতা মন্ত্রকের সচিব হিসাবে কাজ করেছেন।
২০২১ সালে পুষ্কর সিং ধামি যখন মুখ্যমন্ত্রী হন তখন সুখবীর সিং সান্ধু উত্তরাখণ্ডের মুখ্য সচিব হিসাবে নিযুক্ত হন৷ জ্ঞানেশ কুমার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে থাকাকালীন ৩৭০ ধারা বাতিলের তদারকি করেছিলেন। সূত্রের খবর, মোদি এবং শাহ গোষ্ঠীর খুব বিশ্বস্ত আমলা তারা।
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের শুনানির ঠিক একদিন আগে এই দুই কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সার্চ কমিটি একটি বাছাই তালিকা তৈরি করে। তারপরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি প্যানেল চূড়ান্ত নাম নির্বাচন করে।
সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের মার্চে রায় দিয়েছিল যে প্যানেলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী, ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং লোকসভার বিরোধী দলের নেতা থাকতে হবে। কিন্তু এর পরেই প্রধান বিচারপতির বদলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিয়ে আসার জন্য একটি আইন আনে কেন্দ্র।





