পেটপুজোয় খরচ ৭৫ হাজারেরও বেশি! বেঙ্গালুরুর অর্ডার চমকে দিল সুইগিকেও
Swiggy Food delivery Bangalore : যা দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়েছে এই বেসরকারি সংস্থাটিও। আপাতত এটাই সুইগির ২০২২-এ সবচেয়ে বেশি টাকার অর্ডার।

অফিস হোক বা বাড়ি, ব্যস্ততম জীবনে হাজার কাজের ফাঁকে শরীরের পুষ্টিও তো দরকার। প্রয়োজন হোক বা পার্টি – এই মুহূর্তে সব ব্যাপারেই ভরসা অনলাইন ফুড ডেলিভারি। সুইগি কিংবা জোম্যাটোতে অর্ডার দিলেই সঙ্গে সঙ্গে হাজির খাবার। বিশেষ করে করোনার সময় দীর্ঘ লকডাউনের পর এই অনলাইন ফুড ডেলিভারি ব্যবস্থার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে ভারতের আম জনতা। সংস্থাগুলি মুনাফাও কামাচ্ছে ভালো।
তবে সেই কাজ করতে গিয়ে এবার অবাক হল খোদ সুইগিই! ২০০, ৫০০ বা খুব বেশি হলে ১০০০ থেকে ২০০০ – একজন ব্যক্তি অনলাইন খাবার অর্ডার করতে গিয়ে সর্বোচ্চ এমন টাকাই খরচ করতে পারবেন। কিন্তু তাই বলে একদিনে ৭৫,৩৭৮ টাকা! তাও বারে বারে নয়, একজন ব্যক্তি একবারেই এত টাকার অর্ডার দিয়েছিলেন সুইগিতে! যা দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়েছে এই বেসরকারি সংস্থাটিও। আপাতত এটাই সুইগির ২০২২-এ সবচেয়ে বেশি টাকার অর্ডার।
ঘটনাটি কী? সুইগি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনা গত অক্টোবরের। দীপাবলির মুহূর্ত ছিল সেটি। বেঙ্গালুরু থেকে একটি অর্ডার আসে, যা দেখে চমকে যান ডেলিভারি বয়। ৭৫,৩৭৮ টাকার অর্ডার দিয়েছেন এই ব্যক্তি! চোখ রীতিমতো কপালে উঠে যাওয়ার জোগাড়। তবে আশ্চর্য হওয়ার আরও ঘটনা বাকি ছিল। ওইদিনই পুনে থেকে এক ব্যক্তি অর্ডার দেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করেন, এবং তাঁর টিমের বাকিদের বার্গার খাওয়াতে চান। তিনিও অর্ডার করলেন… কত টাকার? হিসেব করে দেখা গেল, ৭১,২২৯ টাকা!
এই মুহূর্তে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলির জনপ্রিয়তা কতটা বেড়েছে, এই দু’টো ঘটনাই তার প্রমাণ। রাস্তাঘাটে সুইগি, জোম্যাটোর ডেলিভারি বয়দের আনাগোনা, নতুন চাকরির সুযোগ। সেইসঙ্গে নিত্যনতুন ক্যাফে এবং রেস্তোরাঁ খুলছে গোটা ভারতে। বিরিয়ানি থেকে বার্গার, পাস্তা থেকে পোলাও সবই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দোকানেরও লাভ, ফুড ডেলিভারি সংস্থারও পোয়া বারো।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের পর থেকে এই ট্রেন্ড আরও বড়ো আকার নিয়েছে। রিপোর্ট বলছে, ২০২১-এ প্রতি মিনিটে ১১৫ প্লেট বিরিয়ানির অর্ডার দেওয়া হয়েছে অনলাইনে। ২০২২-এ এসে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৭-এ। কেবল তাই নয়, অনলাইনে অর্ডারের নিরিখে ভারতীয়দের সবচেয়ে পছন্দের খাবার সেই আদি অকৃত্রিম বিরিয়ানিই। তার ঠিক পরেই রয়েছে মশলা ধোসা এবং চিকেন ফ্রায়েড রাইস।
এ তো গেল খাবারের কথা। সুইগি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে বেঙ্গালুরু থেকেই সবচেয়ে বেশি মুনাফা আসে তাদের। তথ্যপ্রযুক্তির এই হাবে বহু সংখ্যক মানুষ এসে বসবাস করেন। বহু লোক বাইরে থেকে এসে থাকেন। কেউ ভাড়ায়, মেসে, কেউ বা বাড়ি কিনে। ‘সুইগি ওয়ান’, অর্থাৎ সুইগির বিশেষ সাবস্ক্রিপশন মডেলও সবচেয়ে বেশি ফলো করে বেঙ্গালুরু। মুম্বই, হায়দ্রাবাদ, দিল্লির থেকে যা বহুগুণে বেশি। কাজেই, পেটপুজোর রসদ ভালো মতোই করে নিচ্ছে নিউ নর্মালের ভারত।















