কেমন হবে যদি বাকিটা জীবন কাটে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া?

Amit Patihar
৪ মিনিট
কেমন হবে যদি বাকিটা জীবন কাটে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া?

মানুষের আধুনিক জীবনে টেকনোলজি জড়িয়ে আছে অঙ্গে অঙ্গে। রোজ সকালে ঘুম ভাঙা এলার্ম ঘড়ি থেকে রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এসির বটন অথবা ফ্যানের সুইচ অবধি জড়িয়ে আছে টেকনোলজি। রোজ সকালে আমাদের ঘুম ভাঙে এলার্ম ঘড়ির আওয়াজে। ঘুম ভাঙা চোখে আমরা হাতড়িয়ে হাতড়িয়ে প্রথমেই যেটা খুঁজি সেটা হলো আমাদের মুঠোফোন বা মোবাইল। শারীরিক থেকে মানসিক যে কোনো ক্ষেত্রে আমাদের জীবনে টেকনোলজির গুরুত্ব অপরিসীম। স্মার্ট ওয়াচে ক্যালোরি মাপা, কতো মাইল হাঁটলাম সারাদিনে মাপা থেকে মন খারাপ করলে ফোনের একটা বটন টিপে প্রিয়জনের গলার আওয়াজ পর্যন্ত বিস্তৃত টেকনোলজির মায়াজাল। তাই, টেকনোলজি ছাড়া একটা গোটা দিন বা একটা গোটা জীবন কাটানো মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তবু, ভাবতে ক্ষতি কী? কেমন ছিল আমাদের আদিম জীবন যখন আধুনিক প্রযুক্তির কিছুই ছিল না জীবনে? মানুষ কী করতো তখন? কীভাবে কাটাতো সারাটা জীবন?

■ টেকনোলজি বিহীন জীবন :

ধীরে নেওয়া যাক এলার্ম ক্লক বা মোবাইল ফোন আবিষ্কার হয়নি। আপনার ঘুম ভাঙলো কিচিরমিচির করা পাখির ডাকে। অথবা রোদের তাপে বেড়ে যাওয়া গরমে সকাল হতেই ঘেমে উঠলো আপনার গা, এসির রিমোট খুঁজতে গিয়ে দেখলেন এসি নামক কোনও যন্ত্র নেই, এমনকি পাখা ও নেই মাথার ওপর। অস্বস্তি নিয়ে উঠে বসে আপনি ভাবলেন এক কাপ কফি খাওয়া যাক কিংবা এক কাপ চা। কফি বানাতে গিয়ে দেখলেন না আছে গ্যাস, না আগুন, না কফি। বদলে রাখা আছে কিছু কাঠ, শুকনো পাতা আর দুটো পাথর। অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে আপনি ভাবলেন নিকুচি করেছে কফির, যাই স্নান করে নিই। স্নান করতে গিয়ে দেখলেন না আছে শাওয়ার, না গিজার, না ট্যাংক ভর্তি জল। স্নান করতে গেলে হয় পুকুরে ডুব দিতে হবে না হলে নদীর জলে। স্নান করে এসে ভাবলেন, যাই এবার অফিস যাই। কিন্তু এক মিনিট? অফিস ও তো নেই। মানুষ অফিস যায় টাকা উপার্জন করতে, আর টাকা উপার্জন করে পেট ভরতে। কিন্তু টাকাই তো আবিষ্কৃত হয়নি। তাহলে পেট ভরবে কী করে?

একমাত্র উপায় বোন জঙ্গলে গিয়ে কিংবা মাঠে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে হবে। কোনও গ্রোসারি অ্যপ বা জম্যাটো আপনাকে খাবার দিয়ে যাবে না। বোনে গিয়ে আপনি হরিণ শিকার করতে গ্যালেন, আর হঠাৎ বিষাক্ত কাঁটা গাছে ছড়ে গেল আপনার গা হাত পা। আপনি বুঝতে পারলেন এক্ষুণি একটা ভালো হসপিটাল প্রয়োজন আপনার। প্রয়োজন ভালো চিকিৎসার। কিন্তু, সেটাও তো নেই! এদিকে আপনি আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পড়ছেন বিষাক্ত কাঁটার বিষে। উপায় কী? ভাবতে পারছেন?

■ টেকনোলজি কেন গুরুত্বপূর্ণ? :

মানুষের জীবনের প্রত্যেক ছোটখাটো অংশে টেকনোলজির গুরুত্ব অপরিসীম। সেটা শিক্ষা হোক বা স্বাস্থ্য বা খাদ্য কিংবা রোজকার জীবন। টেকনোলজি মানুষের জীবনযাপনকে বানিয়ে তুলেছে অত্যন্ত সহজ এবং আরামদায়ক। কীভাবে?

◆ কৃষিক্ষেত্রে টেকনোলজির অবদান :

খুব অল্প জমিতে বেশি শস্যের উৎপাদন থেকে উন্নত মানের শস্য উৎপাদনে সার ও বীজের ব্যবহার অবধি সর্বক্ষেত্রে টেকনোলজির ছাপ সুস্পষ্ট। বাড়তে থাকা জনবসতির সাথে সাথে পৃথিবীতে বাড়ছে খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা। টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে সেই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে চাষী ভাইরা।

◆ ব্যবসা বাণিজ্যে আধুনিক প্রযুক্তির অবদান :

বাণিজ্যে টেকনোলজি প্রতি পদে পদে জড়িত। পরিবহন ব্যবস্থা থেকে আধুনিক গ্যাজেটস অবধি সবজায়গায় টেকনোলজির সাহায্য ছাড়া বাণিজ্য করা অসম্ভব। লক্ষ লক্ষ অফিস, তাতে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার হিসাব রেখে দিচ্ছে ব্যবসার সমস্ত ছোটছোট তথ্য। বাড়িতে বসে মুঠোফোন থেকে অর্ডার করলে চলে আসছে। জরুরি মিটিংয়ে ভিন রাজ্যে মুহূর্তে উড়ে যেতে সাহায্য করছে এয়ারপ্লেন। কোরোনা পরিস্থিতিতে বাড়িতে বসে উপার্জন করতে সাহায্য করছে ল্যাপটপ। আর এভাবেই টেকনোলজি লতা গাছের মতো জড়িয়ে রেখেছে ব্যবসা বাণিজ্যকে নিজের সাথে।

◆ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে টেকনোলজির অবদান :

টেকনোলজির সাহায্য ছাড়া নতুন নতুন মেশিন বানাতে সক্ষম না হলে মানুষ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতো সেই আদিম যুগের আশেপাশেই। এক্সরে মেশিন থেকে শুরু করে কেমো অবধি, ব্লাড টেস্ট থেকে শুরু করে এম আর আই অবধি সর্বত্র টেকনোলজির অবদান অনস্বীকার্য। এই জটিল জটিল মেশিনগুলোকে চালানোর লোকেদের জ্ঞান, ডাক্তারদের মতোই বাঁচিয়ে তুলছে রোজ হাজার হাজার রুগীকে। আধুনিক জীবনে টেকনোলজি ছাড়া স্বাস্থ্য অন্ধ বললেও ভুল বলা হবে না।

◆ মহাকাশের রহস্য আবিষ্কারে টেকনোলজির অবদান :

অজানা কে আবিষ্কার করার নেশা এবং অচেনা কে চেনার নেশা মনুষ্য প্রজাতির মধ্যে শুরু থেকেই অদম্য। ছোট টেলিস্কোপ থেকে শুরু করে মহাকাশে পাড়ি দেওয়া রকেট অবধি সবই টেকনোলজির অবদান। চাঁদের মাটিতে প্রাণ আছে কিনা, মঙ্গলের লাল মাটির দেশে জল আছে কিনা, বৃহস্পতির উপগ্রহে প্রাণ আছে কিনা, পৃথিবীর দিকে তাক করে কোনও উল্কা পিন্ড ধেয়ে আসছে কিনা সব কিছুর উত্তর দেওয়া একমাত্র টেকনোলজির সাহায্য ছাড়া দেওয়া অসম্ভব।

■ টেকনোলজি ভালো না খারাপ? :

মনুষ্য জীবনযাত্রার বিবর্তনের ইতিহাসে টেকনোলজির অবদান অস্বীকার করার কোনও উপায়ই নেই। কিন্তু টেকনোলজি ভালো না খারাপ? এই প্রসঙ্গে উত্তর দিতে গেলে বলতে হয় যে কোনও জিনিসেরই ভালো এবং খারাপ দুই দিকই আছে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করেছে, আরামদায়ক করেছে তেমন এর প্রভাবে মানুষের মধ্যে বেড়েছে বিলাসিতা, ল্যাদ। আরামের জীবন কে আপন করার পর মানুষ ভুলে গেছে কষ্ট কী? তাই যে কোনও অসম পরিস্থিতি মানুষকে ভেঙে ফেলেছে সহজেই।

তাই টেকনোলজির সঠিক ব্যবহার মানুষের জন্য ভীষণই জরুরী। উদাহরণস্বরূপ, রাত্রে ডাইনিং টেবিলে খেতে বসে মোবাইল ফোনটাকে হাত থেকে নামিয়ে দূরে কোথাও সরিয়ে রেখে এসে পরিবারের সাথে হা হা হি হি করতে করতে খাওয়ার অভ্যাস শুরু করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, টেকনোলজি যেন আপনার থেকে আপনার আপনজনদের দূরে না সরিয়ে দেয়।

Source : https://www.comptia.org/blog/a-day-without-technology

লিখেছেন
Amit Patihar
Amit Patihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।