তিল তিল করে ছড়াচ্ছে ব্যাধি, আপনার যে ছোট্ট ভুলেই ভয়ানক ক্ষতি হচ্ছে সন্তানের
Reduce screen time for child : চিলড্রেনস ন্যাশনাল হসপিটালের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডাঃ মাইকেল মিন্টজ বলেছেন, অতিরিক্ত সময় রঙিন পর্দায় আকৃষ্ট হওয়ার ফলে আমাদের শিশুর মস্তিষ্কের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যাহত হয়

প্রযুক্তির পিঠে চেপে যে সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বর্তমান প্রজন্ম, তাতে জন্ম ইস্তক একখানা মোবাইল যেন দস্তুর হয়ে ঠেকেছে। বড়দের তো বটেই এমনকী একদম ছোট শিশু, যারা হয়তো এখনও কথা বলতে অথবা হাঁটতেও শেখেনি তাদেরও মন ভালো করতে এই যন্ত্রটাই তুলে দেওয়া হচ্ছে হাতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিভাবকরাই তুলে দিচ্ছেন। ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্সের চক্করে শিশুর কান্না থামাতে তাই মোবাইল অথবা কম্পিউটারের সামনে বসিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। রঙিন ছবি আর শব্দের মোহে আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে শিশুরা। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই মোহ আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। তখন চাইলেও আর হাত থেকে কেড়ে নেওয়া যাচ্ছে না যন্ত্রটি।
এখানেই শেষ নয়, আজকাল যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই সঙ্গী স্ক্রীন। হাতের ফোন তো আছেই তাছাড়া কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা টিভি ইত্যাদিও রয়েছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যে গাড়িতে চড়ছেন সেখানেও থাকছে স্ক্রীন। শপিং মল, রেস্তোরাঁ, এমনকী ডাক্তারের চেম্বারে অপেক্ষা করতে বসেও মনোরঞ্জনের জন্য রাখা থাকে এই স্ক্রীন। আর সহজেই তাতে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে সকলে। আর এর জেরেই অজান্তে বাসা বাঁধছে ভয়াবহ রোগ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sexually Transmitted Infections: সেক্সটয়ে লেগে থাকা যৌনাঙ্গের তরল বা জেনিট্যাল ফ্ল্যুইড থেকে যৌন সংক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছেই।
বর্তমানে অভিবাবক এবং ডাক্তারদের নিয়মিত কথোপকথনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এটাই যে, শিশুকে কিছুতেই স্ক্রিনের সামনে থেকে সরানো যাচ্ছে না। তাই এই বিষয়ে সম্প্রতি নতুন একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাবলেট, টিভি যে কোনও স্ক্রিনের সামনে একটানা অনেকক্ষণ থাকার ফলে শিশুদের শিক্ষাগত সাফল্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে পরবর্তীতে প্রভাবিত করতে পারে। জামা পেডিয়াট্রিক্সে প্রকাশিত এই নতুন গবেষণা অনুসারে, এটি আপনার সন্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি হতে পারে।
প্রায় ১০০ জনেরও বেশি শিশুর ওপর চালানো হয়েছিল এই গবেষণা। প্রত্যেকটি শিশুর বয়স ছিল মোটামুটি নয় থেকে দশ বছরের মধ্যে। ফলাফলে দেখা যায় প্রতিক্ষেত্রেই শিশুদের মধ্যে স্বাভাবিক কাজ করার যে প্রবণতা, অথবা দৌড়, ঝাঁপ করার ফলে যে মানসিক বিকাশের সুযোগ থাকে তা হ্রাস পায়। আর এই নেতিবাচক প্রভাবের ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে আপনার শিশুদের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Google Effect Digital Amnesia : পানিপথের যুদ্ধ থেকে কোনও দেশের রাজধানী – হঠাৎ প্রশ্ন করলে অনেকেই হয়তো উত্তর দিতে পারবেন না। ছুটতে হবে গুগলে।
চিলড্রেনস ন্যাশনাল হসপিটালের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডাঃ মাইকেল মিন্টজ বলেছেন, এই অতিরিক্ত সময় রঙিন পর্দায় আকৃষ্ট হওয়ার ফলে আমাদের শিশুর মস্তিষ্কের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যাহত হয়। এর ফলে নতুন কোনও কিছু শেখার আগ্রহ কমে যায়, অমনোযোগী হয়ে পড়ে শিশু, এমনকী শরীরের যে স্বাভাবিক স্ব-নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া, তাতেও সমস্যা তৈরি হয়, বাচ্চা অশান্ত এবং খিটখিটে হয়ে পড়ে।
যদিও এই নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে অভিবাবকদেরই। বাড়িতে বড়দের দেখে ছোটরা এই পথে যাতে এগিয়ে না যায় তাই সতর্ক থাকতে হবে তাদের। জনস হপকিন্স মেডিসিনের ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ডঃ জোসেফ এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, অভিভাবকদের নিজেদের সবার আগে স্ক্রিন টাইম নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের খাওয়ানো বা অন্যান্য কাজ সহজে হাসিল করার জন্য বাবা মায়েরা যে সামনে মোবাইল ধরছেন তাতেই হচ্ছে ভয়াবহ বিপদ। তাই এই বিষয়ে সবার আগে প্রয়োজন বাবা মায়েদের সচেতনতা। প্রয়োজনে ব্যস্ত জীবন থেকে আরও খানিকটা সময় বের করুন শিশুটির জন্য। ঘরোয়া কিছু খেলায় নিজেকে শিশুটির সঙ্গে ব্যস্ত রাখুন। কাছেপিঠে ঘুরতে যান। শপিং মল অথবা ক্যাফের পরিবর্তে খোলামেলা পরিবেশ বেছে নিন। আপনার সামান্য সচেতনতাই বদলে দিতে পারে সন্তানের ভবিষ্যত।







