সোশ্যাল মিডিয়া ধুন্ধুমার, আদৌ কি অস্কারের দৌড়ে রয়েছে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’? আসল সত্যিটা জানুন
The Kashmir Files on Oscars 2023 : বিবেক মিথ্যে কথা বলছেন, নিজের সিনেমার মতোই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন হনসল। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক...

১০ জানুয়ারি, ২০২৩। টুইটারের ট্রেন্ডিংয়ের তালিকায় নতুন করে উঠতে এল ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files) সিনেমাটি। শুধু সেই দিনটিই নয়, এখনও খবরের শিরোনামে, বিতর্কে, আলোচনায় রয়েছে এই সিনেমাটি। কেন? ১০ জানুয়ারি একটি টুইট করেন ছবিটির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী (Vivek Agnihotri)। সেখানে তিনি দাবি করে, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমাটি ২০২৩-এর অস্কার পুরস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়নের তালিকায় শর্টলিস্টেড হয়েছে। কেবল তাই নয়, তিনি এও দাবি করেন, পল্লবী জোশী, মিঠুন চক্রবর্তী, অনুপম খের, দর্শন কুমার – এই চারজনের নামও সেরা অভিনেতার চূড়ান্ত মনোনয়নের তালিকায় শর্টলিস্টেড হয়েছে।
BIG ANNOUNCEMENT:
has been shortlisted for
in the first list of
. It’s one of the 5 films from India. I wish all of them very best. A great year for Indian cinema. 🙏🙏🙏
— Vivek Ranjan Agnihotri (@vivekagnihotri)
এরপরই কার্যত ঝড় শুরু হয়। জাতীয় স্তরের অজস্র মিডিয়া এই খবরটি দেখাতে শুরু করে। রিপাবলিক থেকে ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস নাও সহ বহু প্রথম সারির সংবাদ সংস্থায় ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’-এর অস্কারের দৌড়ে থাকার খবর দেখানো হয়। ভারতের অন্যান্য সিনেমা নয়, স্রেফ এই একটি সিনেমার কথাই বারবার উঠে আসে। পাশাপাশি, অনুপম খের, দর্শন কুমাররাও টুইটে এমন ‘খবর’ দেন। দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর খোদ মিঠুন চক্রবর্তী কাশ্মীর ফাইলস ও অস্কার নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “যারা এই সিনেমাটিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, ‘অশ্লীল’ বলেছিল, তাদের জবাব দেওয়া হল।”
বিতর্ক শুরু
কিন্তু গোল বাঁধল এরপরই। ১০ জানুয়ারিতেই ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে একটি পোস্ট করেন অসীম ছাবরা। তিনি নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত একজন লেখক। টুইটে তিনি বিবেক অগ্নিহোত্রীকে একহাত নেন। সেইসঙ্গে তোপ দাগেন সিনেমার অভিনেতা ও নির্দিষ্ট কিছু সংবাদমাধ্যমকে। তিনি নিজের টুইটে স্পষ্ট করে বলেন, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ আর অস্কার নিয়ে যে খবর রটানো হচ্ছে, তা ভুল। ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’-এঁর নাম উঠেছে ঠিকই, কিন্তু সেটা অস্কারের প্রাথমিক তালিকায়। ভারত থেকে প্রতিবছর এরকম অনেক ছবিই প্রাথমিক তালিকায় যায়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সিনেমাটি চূড়ান্ত মনোনয়নের তালিকায় শর্টলিস্টেড হল। বরং অসীম ছাবরা বলেছেন, যে সিনেমা গুলি লস অ্যাঞ্জেলেসে একটু ব্যবসা করতে পারে, সেগুলোর প্রায় প্রতিটাই এই প্রাথমিক তালিকায় জায়গা করে নেয়।
You are a genocide denying anti-national.
— Hansal Mehta (@mehtahansal)
অসীম ছাবরার এই টুইটটিই রিটুইট করেন বলিউডের আরেক পরিচালক হনসল মেহতা। ‘স্ক্যাম ১৯৯২’ (Scam 1992) ছবির পরিচালক সরাসরি একহাত নেন বিবেক অগ্নিহোত্রীকে। বিবেক মিথ্যে কথা বলছেন, নিজের সিনেমার মতোই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন হনসল। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।
সত্যিটা কী? নেশন ওয়ান্টস টু নো…
তত্ত্ব ও তথ্য নিয়ে বিস্তর খানা তল্লাশ করার পর একটা জিনিস পরিষ্কার। অসীম ছাবরা যে দাবি করেছিলেন, সেটি সর্বৈব সত্যি। বিবেক অগ্নিহোত্রী, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’-এর অভিনেতারা এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি ‘বিশেষ গোষ্ঠী’ যে দাবি করছিলেন, তা মিথ্যা। তাহলে সত্যিটা কী?
ইতিমধ্যেই অস্কারের অফিসিয়াল সাইটে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ৪৪ পাতার সেই তালিকায় কোথাও ‘শর্টলিস্টেড’-এর কথা বলাই হয়নি। ইতিমধ্যে মোট ১০টি বিভাগের চূড়ান্ত মনোনয়নের শর্টলিস্ট ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে সেরা মৌলিক গানের বিভাগে জায়গা পেয়েছে পরিচালক এসএস রাজামৌলির সুপারহিট সিনেমা ‘RRR’-এর গান ‘নাটু নাটু’। উল্লেখ্য, এই গানটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারও পেয়েছে। সেইসঙ্গে ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্ম বিভাগে মনোনীত হয়েছে ‘অল দ্য ব্রিদস’ (All the Breathes)। এছাড়াও ডকুমেন্টারি শর্ট ফিল্ম বিভাগে শর্টলিস্টেড হয়েছে ‘দ্য এলিফ্যান্ট হুইসপারার্স’ (The Elephant Whisperers)। সেইসঙ্গে গুজরাতি সিনেমা ‘চেলো শো’ (Chhello Show) আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে ভারতের অফিসিয়াল এন্ট্রি।
এই চারটে তালিকা বাদ দিয়ে এখনও অবধি কোনও ভারতীয় সিনেমা বা অভিনেতা চূড়ান্ত মনোনয়নে শর্টলিস্টেড হয়নি। তাহলে? আসলে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমাটি অস্কারের ‘রিমাইন্ডার লিস্ট অফ প্রোডাকশন’-এর তালিকায় রয়েছে। সহজ ভাষায়, এটি হল একেবারে প্রাথমিক তালিকা। এই তালিকা আর শর্টলিস্টেড সিনেমার তালিকা কখনই এক নয়। রিমাইন্ডার লিস্টে মোট ৩০১ টি সিনেমা আছে। সেখানে আমেরিকায় যে সিনেমাগুলি মুক্তি পেয়েছে সবগুলোই আছে। সেই সূত্রে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ও আছে। পাশাপাশি রয়েছে ‘গাঙ্গুবাঈ কাঠিয়াওয়াড়ি’, ‘কান্তারা’র মতো সিনেমাও।
সিনেমা মুক্তির দিন থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’। কারও কাছে এই সিনেমা ‘ঐতিহাসিক’, ‘বৈপ্লবিক’; কারও কাছে আবার ‘সত্যের মুখোশের নিচে লুকিয়ে থাকা প্রোপাগান্ডা’। তর্ক আজও চলেছে সমানে সমানে। সেখানে অস্কারের ঘটনা ফের বিতর্কের ঝাঁঝ বাড়িয়ে দিল কয়েকগুণ।
















