ইলন মাস্ক কিংবা আম্বানি নন, বিশ্বের সর্বকালের 'ধনীতম' ব্যক্তি ইনিই! তাঁর 'সম্পত্তি' কত, জানেন?
Richest Man of All Time : এই গল্প শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। ভিরমিও খেতে পারেন। রাতারাতি সাধারণ একজন মানুষ এত টাকার মালিক হতে পারেন!

বিশ্বের ধনীদের তালিকায় কে কখন ওপরে যাচ্ছে, কে নিচে নামছে, এসবের দিকে সংবাদমাধ্যমের নজর থাকেই। আম্বানি-আদানির মধ্যে লড়াই হোক কিংবা ইলন মাস্কের প্রতিপত্তি, আজকাল সাধারণের মধ্যেও এটা চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাটা-বিড়লা হোক, বা বিল গেটসের মতো মানুষ, এই ধনকুবেরদের সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে ওঠে। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে, সে-ও একদিন এমন সম্পত্তির মালিক হবে। সর্বকালের ধনীতম ব্যক্তি হবে।
কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, বিশ্বের ইতিহাস একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ধনীতম ব্যক্তি হিসেবে যাঁদের ভাবছি, তাঁরা কেউই সেই সিংহাসনে নেই! বিল গেটস, ইলন মাস্ক হোক কিংবা টাটা, আম্বানি – কেউই বিশ্বের সর্বকালের ধনীতম ব্যক্তি নন। তাহলে কে সেই জায়গা দখল করে আছে? এই গল্প শুনলে অবাক হয়ে যাবেন আপনি। ভিরমিও খেতে পারেন। রাতারাতি সাধারণ একজন মানুষ এত টাকার মালিক হতে পারেন!
ঘটনাটি অবশ্য আজকের নয়, ২০১৩ সালের। প্রথমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে উঠে আসে একটি নাম – ক্রিস রেনল্ডস (Chris Reynolds)। না, তাঁর কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিপত্তি নেই; নেই বিশাল বড় কোনও এমএনসি কোম্পানি। ৫৬ বছরের এই মানুষটি একেবারে আমার আপনার মতো সাধারণ একজন। সেই আমেরিকান মানুষটির দিকেই ঘুরে গেল সমস্ত ক্যামেরা। কেন? কারণ পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি! যে অঙ্কটা শুনলে ভিরমি খেয়ে উল্টে পড়বেন আপনিও। তাবড় তাবড় শিল্পপতি, কোটিপতিরাও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। এত সম্পত্তি ক্রিসের কাছে এল কী করে!
২০১৩ সাল ক্রিস রেনল্ডস পেপ্যালে (Paypal) একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। তাতে মেরেকেটে ১০০০ ডলার মতো খরচ করেছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর হঠাৎই নিজের পেপ্যালের ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে ঘাবড়ে যান তিনি। মাথাও হালকা ঘুরে যায়। সেখানে লেখা আছে, ক্রিসের কাছে এই মুহূর্তে ৯২,২৩৩,৭২০,৩৬৮,৫৪৭,৮০০ মার্কিন ডলার মজুত রয়েছে! এত অঙ্কের টাকার অর্ধেকও কোনওদিন চোখে দেখেননি ক্রিস। তাঁর কাছে এত বিপুল পরিমাণ টাকা কী করে চলে এল? আলাদিনের জাদু? নাকি পরশপাথর খুঁজে পেয়ে গিয়েছেন তিনি?
আর এই খবরটাই রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেল। রাতারাতি, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্বের তাবড় কোটিপতিদের সরিয়ে সর্বকালের ধনীতম ব্যক্তির তকমা পেয়ে গেলেন ক্রিস রেনল্ডস। আকাশের চাঁদ যেন হাতের মোয়া – এমনটাই কি মাথায় ঘুরছিল তাঁর! সমস্ত সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা, বুম তাঁর সামনে, তাঁর বাড়ির দরজায় অপেক্ষা করে থাকেন অগুনতি মানুষ। কিন্তু আসল ঘটনাটি কী?
পরে জানা যায়, এটা আসলে পেপ্যাল কর্তৃপক্ষেরই ভুল। কোনও একটি কারণে, ভুলবশত এই বিপুল অঙ্কের টাকা ক্রিসের অ্যাকাউন্টে লেখা হয়ে যায়। মিনিটখানেক পরেই নিজেদের ভুল বুঝতে পারে পেপ্যাল, এবং সেই ভুলটি ঠিক করে নেন। আবারও পুরনো অবস্থায় ফিরে যান ক্রিস। কিন্তু ২০১৩-র ওই মুহূর্ত ইতিহাসের পাতায় রয়ে যায়। আজও বিশ্বের সর্বকালের ধনীতম ব্যক্তি বললে তাঁর নামটাই সামনে আসে। কিন্তু ক্রিসের সততার নজিরও এখানে তারিফ করার মতো! নয়তো এত বিপুল পরিমাণ টাকা পেলে কেউ ছাড়ে!















