রাজধানীর মুখ্যমন্ত্রী থেকে গুগলের কর্তা, আইআইটি-র সেরা ছাত্রের তালিকা দেখলে পিলে চমকে যাবে
Top IIT students: আজ তাঁরা সকলেই বিশ্বের দরবারে বন্দিত। আইআইটি দেখিয়ে দিয়েছে ভারতীয়রাও গোটা বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে।

জীবনে বড় কিছু করার এবং বড় কিছু হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বলতে গেলে আমাদের সকলেরই থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে ক’জনই বা পারে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাগ্য বদলে দিতে পারে আম আদমির। বিশ্বের দরবারে একজন অতি সাধারণ মানুষকেই প্রতিষ্ঠা দিতে পারে। আর তেমনটাই করে দেখিয়েছে আইআইটি (Indian Institute of Technology)। IIT-র হাত ধরে যারা পথ চলা শুরু করেছে তাদের অনেকেই আজ গোটা বিশ্বের চোখে একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে। IIT র মূল মন্ত্র হল - Dare to Dream অর্থাৎ স্বপ্ন দেখার মতো সাহস রাখো। এবং এই সাহসই একদিন আপনাকে বিশ্বের দরবারে প্রশংসনীয় করে তুলবে।
IIT থেকে পড়ে ছাত্ররা স্রেফ সুদক্ষ ইঞ্জিনিয়ারই হয়েছেন এমনটা নয়। পাশাপাশি কিছু অভাবনীয় লেখক, কম্পোজার, কমেডিয়ান, রাজনীতিবিদ, আমলা, অভিনেতা দিয়েছে যারা আজকে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। বিশ্বের অনেক বড় বড় সংস্থা আজ তাদের সংস্থায় বিশ্বের অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় IIT থেকে পাশ করা ব্যক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ভারতীয় স্টার্ট আপ থেকে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় ব্যবসা, IIT-র জয়জয়কার লোকাল থেকে গ্লোবালে। দেখে নেওয়া যাক এমন কয়েকজন ব্যক্তিত্বের উড়ান যা আসলে আইআইটি-র মুখ বিশ্বের মঞ্চে উজ্জ্বল করেছে-
অরবিন্দ কেজরিওয়াল, আইআইটি খড়গপুর
১৯৬৮ সালের ১৬ আগস্ট হরিয়ানার শিবানিতে এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। ভারতীয় রাজনীতিতে অন্যতম এক বিশিষ্ট ব্যক্তি তিনি। সমাজকর্মী হিসেবেও তিনি জনপ্রিয়। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। একবার পরীক্ষা দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের আইআইটি খড়গপুরে পড়ার সুযোগ পান। বিষয় হিসেবে বেছে নেন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং।
রঘুরাম গোবিন্দ রাজন, আইআইটি দিল্লি
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নরও ছিলেন একজন আইআইটি ছাত্র। তিনি ১৯৮৫ সালে আইআইটি দিল্লি থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে গ্র্যাজুয়েশন পড়াকালীন তিনি অলরাউন্ডার ছাত্র হিসেবে গোল্ড মেডেলও পেয়েছিলেন।
বিনোদ খোসলা, আইআইটি দিল্লি
ভারতীয় মার্কিন ব্যবসায়ী এবং সেই সঙ্গে সান মাইক্রো সিস্টেমসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিনোদ খোসলা এক অতি পরিচিত নাম। তিনি আইআইটি দিল্লি থেকে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি. টেক ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৪ সালের ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪০০ জন ধনী ব্যাক্তির মধ্যে খোসলা অন্যতম একজন।
দীপেন্দর গোয়েল, আইআইটি দিল্লি
ভারতের সবথেকে বড় ফুড ডেলিভারি অ্যাপ জোমাটোর সিইও দীপেন্দর গোয়েল। আজ জোমাটোর হাত ধরে অনেক ছেলে মেয়ে নিজেদের জীবিকা অর্জনের পথ খুঁজে নিয়েছে। দীপেন্দর ২০০৫ সালে আইআইটি দিল্লি থেকে অঙ্ক এবং কম্পিউটিং এর ওপর তার গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন।
চেতন ভগত, আইআইটি দিল্লি
চেতন ভগতকে চেনেন না এমন লোক পাওয়া মুশকিল। একজন সফল লেখক হিসেবে তিনি নিজেকে ভারতীয় পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখা বইগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – থ্রি মিসটেক অফ মাই লাইফ, হাফ গার্লফ্রেন্ড ইত্যাদি আরও অনেক। চেতন ভগত আইআইটি দিল্লি থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন এবং IIM আহমেদাবাদ থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর ওপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
এন. আর. নারায়ণ মূর্তি, আইআইটি কানপুর
পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত এন. আর. নারায়ণ মূর্তি ভারতের মাল্টি-ন্যাশানাল ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি ‘ইনফোসিস’ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যান। নারায়ণ মূর্তি ১৯৬৯ সালে কানপুর থেকে তার স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
সুন্দর পিচাই, আইআইটি খড়গপুর
সুন্দর পিচাইয়ের নামটাই হয়তো যথেষ্ট তার আর অন্য কোনো ইন্ট্রোডাকশনের দরকার পড়ে না। গুগল LLC -র সিইও পিচাই সুন্দর রাজন। প্রথমে দশম শ্রেণীর পড়া শেষ করে মাদ্রাজের আইআইটিতে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি কিন্তু সেখানে ভর্তির জন্য তার যথেষ্ট র্যাঙ্ক ছিল না। এরপর তিনি আইআইটি খড়গপুর থেকে মেটিওলর্জিতে বি. টেক ডিগ্রি নেন। ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট তিনি গুগুলের সিইও হিসেবে যোগ দেন। আজ তিনি ভারতের অন্যতম সফল ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম।
সচিন বনসল, দিল্লি
যদি আপনি অনলাইন শপিং করতে পছন্দ করেন তো আপনি নিশ্চয়ই সচিন বনসলের নাম শুনে থাকবেন। ভারতের সবথেকে বড় ই-কমার্স কোম্পানি ফ্লিপকার্ট এর প্রাক্তন সিইও এবং সহ সংস্থাপক ছিলেন বনসল। যদিও ২০১৮ সালে ওয়ালমার্ট কোম্পানি ফ্লিপকার্টকে অধিগ্রহণ করে নেয়। সচিন ২০০৫ সালে আইআইটি দিল্লি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনয়ারিং এ গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন।
ভাবিশ অগ্রওয়াল, আইআইটি পোওয়াই মুম্বাই
আমি আপনি আজ যে ওলা ক্যাব করে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছি জানেন কি সেই ওলা ক্যাবের কো-ফাউন্ডার ভাবিশ অগ্রওয়াল নিজেও একজন আইআইটিয়ান। তিনি আইআইটি পোওয়াই, মুম্বাই থেকে কম্পিউটার সায়েন্সের ওপর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি কমপ্লিট করেছেন। ২০১৮ সালে প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনে ‘মোস্ট ১০০ ইনফ্লুয়েন্সড পিপল’ এর মধ্যে ভাবিশ অগ্রওয়াল ছিলেন অন্যতম।
জীতেন্দ্র কুমার, আইআইটি খড়গপুর
জীতেন্দ্র কুমার নামটা আশা করি আজ অনেকেই চেনেন। ‘পঞ্চায়েত’ ওয়েব সিরিজ খ্যাত এই অভিনেতার নাম আজ সকলের মুখে মুখে, তার অভিনয়, কমিক সেন্স যে কাউকে অভিভূত করে। অবাক হবার মতো ব্যাপার হল, তিনিও আইআইটি খড়গপুর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন এবং সেই সঙ্গে আইআইটি খড়গপুরের ‘হিন্দি টেকনোলজি ড্রামাটিক সোসাইটি’র গভর্নর হিসেবেও নিযুক্ত ছিলেন।
রোহিত বনসল, আইআইটি দিল্লি
ফ্লিপকার্টের মতো আরেক ই-কমার্স জায়েন্ট স্ন্যাপডিলের কো-ফাউন্ডার এবং সিওও রোহিত বনসল আইআইটি দিল্লি থেকে তার গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
উপরে যাদের কথা বলা হল তারা সকলেই এক সময় আইআইটির হাত ধরে নিজের পথ চলা শুরু করেছিলেন। তাদের স্বপ্নপূরণের কাহিনি আমাদের অনেকেরই জানা। আম আদমিদের যেমনটা হয়, ওঁদেরও শুরুটা হয়তো সহজ ছিল না। কিন্তু তারা কোনোভাবে দমে না গিয়ে সাহস করে এগিয়ে গেছেন নিজের লক্ষ্য এবং স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আজ তাঁরা সকলেই বিশ্বের দরবারে বন্দিত। আইআইটি দেখিয়ে দিয়েছে ভারতীয়রাও গোটা বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে।
















