সবচেয়ে লম্বা বাদ্যযন্ত্র ইউক্রেনের অহংকার, বিবাহরীতিও বিচিত্র সে দেশে

Debabrata Mondal
৩ মিনিট
সবচেয়ে লম্বা বাদ্যযন্ত্র ইউক্রেনের অহংকার, বিবাহরীতিও বিচিত্র সে দেশে

ইউক্রেন। রাশিয়ার পর সমগ্র ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম দেশ। এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত ছিল এই ইউক্রেন। সালটা ১৯৯১, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এল ইউক্রেন। নিজেদের ঘোষণা করল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র রূপে। রাশিয়ার মতো ইউক্রেনেও এক সময় ছিল স্লাভদের আধিপত্য। খনিজ সম্পদ এবং কৃষি ব্যবস্থা ইউক্রেন যথেষ্ট উন্নত। মানব উন্নয়ন সূচকের ক্ষেত্রে ৭৪ নং স্থানে অবস্থান করছে দেশটি। তবে শুধুমাত্র আলোকোজ্জ্বল ইতিহাস নয়, ইউক্রেনকে ঘিরে রয়েছে অন্ধকারের কালো চাদরও। এ যেন প্রদীপের নিচে অন্ধকার। দারিদ্র পরিমাণগত ভাবে এখানে বেশ বেশি, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশজোড়া দুর্নীতিও।

২৪ এ ফেব্রুয়ারি, ২০২২। রাশিয়া যুদ্ধ ঘোষণা করল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। অবস্থার প্রতিদিনই নতুন করে অবনতি হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে স্বৈরাচারী পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের জনসাধারণ গড়ে তুলেছে এক প্রবল প্রতিরোধ। তাদের লড়াই মন জিতেছে সবার। তবে এই অসম লড়াই কতক্ষণ বাঁচাতে পারবে ইউক্রেনকে? এ প্রশ্নের উত্তর নেই। প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে ইউক্রেন সীমান্তে। বাঁচার আশায় জন্মভূমির মাটি শিকড়ের টানকে ভুলতে হচ্ছে। সমস্ত পিছুটান ভুলে অজানার উদ্দেশ্যে, অনিশ্চিত জীবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। অবশ্য ১৮-৬০ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য সে আশাও যেন গুড়ে বালি, সে দেশের সরকার তাদের আবেদন করেছে দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদানের। লড়াইয়ের আট দিন পার। এ যেন এক অতল মৃত্যুকূপ সাজানো আছে জেলেনস্কির জন্য। প্রতিদিন ইউক্রেনের উপর হামলার মাত্রা বাড়াচ্ছে রুশ বাহিনী। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি শুধু সময়ের অপেক্ষা? উত্তর দেবে সময়। কিন্তু ইউক্রেনে মানসভ্রমণ বন্ধ থাকে কেন, জেনে নেওয়া যাক সেই দেশের বিচিত্র সব ঘটনাপ্রবাহের কথা।

পারমাণবিক দুর্ঘটনা

১৯৮৬ সালের ২৬শে এপ্রিল। ইউক্রেনবাসী সেদিনও অন্যান্য অনেক রাতের মত তলিয়ে ছিলেন ঘুমের অতল সাগরে। কেউ হয়তো ঘুমের মধ্যেই বুনছিলেন সোনালী স্বপ্নের জাল। এমন সময় রাত ১.২৩ মিনিট নাগাদ প্রচন্ড বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো চেরনোবিল। পারমাণবিক চুল্লিতে সেদিনের বিস্ফোরণ ঘুম কেড়েছিল সাধারণ মানুষের। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয়েছিল ৪ জনের, পরবর্তী সময়ে মৃত্যু হয় আরও একত্রিশ জনের। তবে এরপরেও তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন ছয় লক্ষেরও বেশী মানুষ।

সূর্যমুখীর দেশ

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই কবিতাটা মনে আছে? ' অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে' - কবিতায় শক্তি লিখেছিলেন "গোলাবাড়ি থেকে কিছু দূরে রবে সূর্যমুখী পাড়া" - ঠিক সেই রকমই ইউক্রেনকে সূর্যমুখীর দেশ বললে অত্যুক্তি করা হবে না। স্লোভেনিয়ার আয়তনের সমান অংশজুড়ে ইউক্রেনের চাষ হয় সূর্যমুখীর। বস্তুতপক্ষে ভারত যে পরিমাণ সূর্যমুখী তেল আমদানি করে তার ৮৫-৯০ শতাংশ আসে ইউক্রেন এবং রাশিয়া থেকে। রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বে যে ভারতে ভোজ্য তেলের দাম বাড়বে এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। ভারতের উদ্দেশ্যে পাঠানো প্রায় চার হাজার টন সূর্যমুখী তেল যুদ্ধের কারণে সীমান্তে আটকে পড়া মধ্যবিত্তের হাত পড়তে বাধ্য।

গ্যাস ল্যাম্পের আবিষ্কার:- লুভিউ সিটি। ইউক্রেনের এই শহর অধিকারী এক বিরল কৃতিত্বের।১৮৫৩ সাল নাগাদ জন জে এবং ইগনেসি লুকাসিউজ - এই দুজনের হাত ধরে ইউক্রেনের লুভিউ সিটিতে তৈরি হয় গ্যাস ল্যাম্প।

লম্বা বাদ্যযন্ত্র

ট্রেমভিটা। হ্যাঁ এই নামেই সে পরিচিত সমগ্র ইউক্রেন জুড়ে। কি এই ট্রেমভিটা?ট্রেমভিটা হল বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা সংগীত যন্ত্রের নাম। ইউক্রেনে জন্ম বিবাহ অথবা মৃত্যু সবেতেই বাজানো হয় এই যন্ত্র।

গভীরতম পাতাল রেল স্টেশন

বিশ্বের গভীরতম পাতাল রেল স্টেশন অবস্থিত ইউক্রেনের বুকে। স্টেশনের নাম - আর্সেনালনা।

বিবাহ রীতি

ইউক্রেনের অধিবাসীদের বিবাহ রীতিতেও আছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। এখানকার পুরুষরা বিয়ের সময় কনের বা হাতের পরিবর্তে ডান হাতে আংটি পরান।

রুটির ঝুড়ি

বিশ্বের গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সামনের সারিতে অবস্থান করছে জেলেনস্কির ইউক্রেন। ইউক্রেনের উর্বর কালো মাটি গম চাষের আদর্শ। বিপুল গম উৎপাদনের জন্য ইউক্রেনকে ' রুটির ঝুড়ি' বলে অভিহিত করা হয়।

কৃষ্ণ সাগরের আকাশে আর যুদ্ধের ঘনঘটা। উত্তেজনার পারদ চড়ছে ক্রমাগত। মহাশক্তিধর রাশিয়া আক্রমণের তীব্রতা কত বাড়িয়েছে ততই দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই দিচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে পোল্যান্ড সহ বেশ কিছু রাষ্ট্র। ভারতও ইউক্রেনের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে মানবিক সাহায্যের হাত। যুদ্ধের ফলাফল অজানা, তবে তা যে সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের জন্য ভয়ের বার্তাবহ এ কথা অস্বীকার এর উপায় নেই। আপাতত একটাই প্রার্থনা, আগ্রাসন নীতিতে লাগাম দিক রাশিয়া, ইউক্রেন ফিরুক তার পুরনো ছন্দে। গুপী-বাঘার সেই লাইনটা আজ যেন অমোঘ সত্যি -

"ওরে রাজ্যে রাজ্যে পরস্পরে

দ্বন্দ্বে অমঙ্গল-

তোরা যুদ্ধ ক′রে করবি কি তা বল!"

লিখেছেন
Debabrata Mondal
Debabrata Mondal
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।