মোদিই পারবেন যুদ্ধ থামাতে! কেন এমন ভাবছেন খোদ জেলনস্কি
Zelenskyy Modi Talks : ইউক্রেন এবং রাশিয়ার শান্তি সমঝোতার পথে কি তবে নরেন্দ্র মোদিই ভরসা?

‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’, প্রচলিত এই কথায় বিশ্বাস খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। গত ৪ অক্টোবর জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হওয়ার সময় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ইউক্রেন সমস্যায় কোনও সামরিক সমাধান তিনি চান না। বরং দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে সবরকম চেষ্টায় পাশে থাকবে ভারত। সম্প্রতি সেই কথোপকথনকেই আবার উস্কে দিলেন খোদ ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি ট্যুইট করে জানান, ইতিমধ্যেই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আবারও ফোনে কথা হয়েছে জ়েলেনস্কির। এখানেও তিনি শান্তি সমঝোতা বিষয়েই কথা তোলেন। গত ১ ডিসেম্বর G20-র মঞ্চেও এই সমঝোতার বার্তাই দিয়েছিলেন তিনি। এদিন সেই প্রসঙ্গও টেনেছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত, জি২০ বা গ্রুপ অব টোয়েন্টি হল উন্নত এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী। আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চিন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো ২০টি দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছে এই গোষ্ঠী।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ukraine Russia War : ইতিমধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে প্রায় ৬০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
চলতি বছরের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে প্রথম এই G20-র সম্মেলন হয়। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশগুলির মধ্যে ‘শান্তি সমঝোতার’ একটি রূপরেখা তৈরি করা। সেদিনের সম্মেলনে আরও ঠিক করা হয় যে, মোটামুটি ১০টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই শান্তি প্রচেষ্টা করা হবে। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট নিজেই এই বিষয়গুলি নির্ধারণ করেন ওই মঞ্চে। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রথমেই রাশিয়াকে ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়াও এই ১০ দফার ফর্মুলায় বিকিরণ এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়া থেকে সমস্ত বন্দি এবং নির্বাসিতদের মুক্তি, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ বাস্তবায়ন এবং ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার, রুশ সেনা প্রত্যাহার এবং শত্রুতার অবসান, ন্যায়বিচার, যুদ্ধের সমাপ্তির নিশ্চিত করার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল। ইউক্রেন যে কোনওভাবেই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে আপোষ করতে রাজি নয় সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন সময় একটা কথাই বলেছেন যে আমরা যে যুগে দাঁড়িয়ে আছি সেই যুগে যুদ্ধ করে আর কোন সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব নয়। ভারত অন্তত যুদ্ধের নীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং কূটনৈতিক চালে দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এ কথাও বারবার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ও শান্তি সমঝোতার লক্ষ্যে এখন সাহায্য চাইছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর থেকেই। টুইট করে তিনি লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। G20-র সভাপতিত্বের জন্য তাঁকে অভিনন্দনও জানিয়েছি। এই প্ল্যাটফর্মে আমি শান্তির ফর্মুলা দিয়েছিলাম। এখন এর বাস্তবায়নে ভারতের উপর নির্ভর করছে ইউক্রেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘে মানবিক সহায়তা এবং সমর্থনের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ।” যদিও এই টেলিফোনের কথাবার্তা প্রসঙ্গে কিছুই জানানো হয়নি ভারতের পক্ষ থেকে।
















