হরিণ, ছৌ, সঙ্গে প্রকৃতির অপার হাতছানি, দোলে অন্য বসন্তের ছোঁয়া পেতে চলে আসুন এখানে

Tourism Destination at Holi : নদীর কুলকুল স্বর আর নাম-না-জানা পাখিদের মিঠেমধুর সুর, বসন্তকে অন্যভাবে পেতে হলে আপনাকে যেতেই হবে দোলাডাঙা

inscript
৩ মিনিট
হরিণ, ছৌ, সঙ্গে প্রকৃতির অপার হাতছানি, দোলে অন্য বসন্তের ছোঁয়া পেতে চলে আসুন এখানে

ঘর থেকে কয়েক পা বাড়ালেই হাতছানি দিচ্ছে বিশাল বড় একটি লেক। দূরে দেখা যাচ্ছে গাছেদের সারি। সূর্যের প্রথম আলো সেই লেকের জল স্পর্শ করে ছুঁয়ে যাচ্ছে আপনার পা। ভোরের ঠাণ্ডা জল, সঙ্গে ফুরফুরে হাওয়ায় দোল খাচ্ছে পাশের জঙ্গলের গাছগুলি। লাল মাটির জঙ্গলে হেলেদুলে উড়ছে পলাশ। লাল সেই পলাশ কখনও কখনও আপনার দিকেও চলে আসছে। অজান্তেই কখন যে গুনগুন করে উঠবেন “রং যেন মোর মর্মে লাগে/ আমার সকল কর্মে লাগে”, বুঝতেও পারবেন না।

দোলপূর্ণিমা মানেই নিজের প্রিয়জনদের সঙ্গে রং খেলা, রবীন্দ্রসঙ্গীত, আবিরে আবিরে ছয়লাপ গোটা চত্বর। সেইসঙ্গে থাকে পলাশের রক্তিম হাতছানি। এদিকে বাঙালি মানেই পায়ের তলায় সর্ষে। ঘুরতে যাওয়ার একটা সুযোগ পেলেই হল। কিন্তু বসন্ত আর দোল এলেই সিংহভাগ বাঙালির মন টানে শান্তিনিকেতন, বোলপুরে। শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব, আবির খেলার একটা আলাদা আকর্ষণ তো রয়েইছে। সেইসঙ্গে রয়েছে লাল মাটি, বাউল গান আর গাছে গাছে সবুজ আর লালের হাতছানি। বাঙালিদের একাংশ আবার এই সময় পছন্দ করে দার্জিলিং-কালিম্পং। ঠাণ্ডা হাওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা, তিস্তার হাত ধরেই বসন্তকে জড়িয়ে রাখা।

কিন্তু কেবল এসবই জায়গা রয়েছে? না, তা একেবারেই নয়। শহরের কোলাহল, নিত্যদিনের কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা কাটিয়ে কখনও তো ইচ্ছে করে, একটু প্রকৃতির কোলে যাই! সেখানে কোনও আওয়াজ থাকবে না, শহরের ভিড় থাকবে না; কেবল গাছের পাতার শিরশির আওয়াজ, নদীর কুলকুল স্বর আর নাম-না-জানা পাখিদের মিঠেমধুর সুর। তাহলে দোলের দিন বসন্তকে অন্যভাবে পেতে হলে আপনাকে যেতেই হবে দোলাডাঙা। যার নামেই দোল, সেখানে বসন্তের দোলা আসবে না, তা কী হয়!

পুরুলিয়ার মানবাজার-১ ব্লকে কংসাবতী নদীর জলাধারের পাশেই রয়েছে এই ট্যুরিজম স্পট। এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এই জায়গার দায়িত্ব নিয়েছে। শান্তিনিকেতনের মতো ভিড় নেই; কিন্তু সেই লাল মাটি, পলাশের সৌন্দর্য পরতে পরতে লেগে রয়েছে এখানে। শাল, সেগুন, সোনাঝুরির মাঝেই উঁকি দিচ্ছে পলাশ। সবুজের বিভিন্ন রংয়ের মাঝেই আগুনরঙা লাল আপনার চোখ জুড়াবেই। তবে শুধু এখানেই শেষ নয়। জলাধারে নৌকা নামিয়ে ঘুরেও আসতে পারেন। সেইসঙ্গে দোলাডাঙার জঙ্গলও ঘুরে দেখতে পারেন। কে জানে, হয়তো অজান্তেই আপনাকে স্বাগত জানাতে হাজির থাকতে পারে হরিণের দল!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঘুরতে আর ঘুমোতে ভালোবাসেন? পৃথিবী জুড়ে সাড়া ফেলেছে 'স্লিপ ট্যুরিজম'!

Sleep Tourism: কবে থেকে এত জনপ্রিয় হলো স্লিপ ট্যুরিজম? ঘুমের স্বাস্থ্য ফেরাতে ছুটিতে যাওয়ার এই অভিনব প্রবণতা খুবই সাম্প্রতিক।

থাকবেন কোথায়?

বসন্তের দোলাডাঙা ঠিক যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি। কিংবা পোস্টকার্ডের ছবির মতো সুন্দর, ঝকঝকে, শান্ত। অফবিট ডেস্টিনেশন বলে এখনও সেভাবে ভিড় হয়নি এই জায়গায়। থাকার উপায় মূলত দুটো। চাইলে কাঠের গাছবাড়িতে থাকতে পারেন। সেখানে জানলা, দরজা খুললেই কপাল ছুঁয়ে যাবে পলাশের গোছা। অন্যদিকে চাইলে তাঁবু খাটিয়েও থাকতে পারেন। সমস্ত রকম ব্যবস্থা, আয়োজন সব ওখানকার মানুষরাই করে দেবেন। সেইসঙ্গে থাকবে পেটভরা খাবার। লেকের ধারে বসে ক্যাম্প-ফায়ার, গানবাজনাও করতে পারেন। পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র সবকিছুর অভিজ্ঞতা একসঙ্গে এসে ধরা দেবে আপনার কাছে।

ঘোরার জায়গা

দোলাডাঙা নিজেই একটি অফবিট ডেস্টিনেশন। জঙ্গলের পাশাপাশি একদম কাছেই রয়েছে ডিয়ার পার্কও। সেইসঙ্গে এই জায়গা থেকে চলে যেতে পারেন আরও বেশকিছু বিখ্যাত ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশনে। রয়েছে পুরুলিয়ার আরেক আকর্ষণ মুরগুমা। এছাড়াও ৭০ কিমির মধ্যে রয়েছে অযোধ্যা পাহাড়, মুকুটমণিপুর।

কীভাবে যাবেন?

বিভিন্নভাবে দোলাডাঙা যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাইলে বাসে কিংবা ট্রেনেও যেতে পারেন। বাসে গেলে কলকাতা থেকে বাঁকুড়া হয়ে মানবাজার, সেখান থেকে দোলাডাঙা ক্যাম্প। তবে কলকাতার এসপ্ল্যানেড থেকে মানবাজার অবধি সরাসরি বাসও পাওয়া যায়। ট্রেন হলে কলকাতা থেকে পুরুলিয়া কিংবা বাঁকুড়া নামবেন। সেখান থেকে দোলাডাঙা ক্যাম্পে যাওয়ার গাড়ি নিতে পারেন। বাঁকুড়া স্টেশনে যদি নামেন, তাহলে দোলাডাঙা ট্যুরিস্ট স্পটের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাহলে ওরাই গাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে। খরচও আপনার সাধ্যের মধ্যেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।