ঠিক কী ঘটেছিল বিলকিস বানোর সঙ্গে? মোদির মসনদ টলাতে পারবে ২২ বছরের লড়াই?

Bilkis Bano Rape Case : বিলকিস বানোকে মাটিতে ফেলে তিনজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে। অজ্ঞান হয়ে যান বিলকিস। ঘাতকেরা মনে করে বিলকিস মারা গেছে।

suman sengupta
৭ মিনিট
ঠিক কী ঘটেছিল বিলকিস বানোর সঙ্গে? মোদির মসনদ টলাতে পারবে ২২ বছরের লড়াই?

দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, ২০০২ সালের গুজরাত গণহত্যার সময়ে বিলকিস বানোকে ধর্ষণে যে ১১ জন দোষী সাব্যস্ত ছিল, যাদের ২০২২ সালের স্বাধীনতা দিবসের দিন মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাদের আগামী দু' সপ্তাহের মধ্যে আবার জেলে ফেরত যেতে হবে। শুধু তাই নয়। আদালত বলেছে, যারা এই ১১ জন দোষী ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন, তারা আদালতে মিথ্যাচার করেছেন এবং তথ্য গোপন করেছেন। এই রায়ের পরে, স্বভাবতই অনেকেই আবারও বলছেন, সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি। এখনও আশা আছে, এখনও গণতন্ত্র একটু হলেও অবশিষ্ট আছে, এখনও বিচার ব্যবস্থার উপর বিশ্বাস রাখা যায়। সমস্ত বিচারপতির মেরুদণ্ড এখনও পাকাপাকিভাবে বক্র হয়ে যায়নি, কারও কারও এখনও ঋজু আছে। বিজেপি বাদে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানানো হয়েছে।

বিচারপতি নাগরত্না যখন তাঁর রায় পড়ে শোনাচ্ছিলেন, তিনি গ্রিক দার্শনিক প্লেটোকে উদ্ধৃত করে বলেন, কোনও ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়াটা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে দেওয়া উচিত নয়। দোষী ব্যক্তি যাতে নিজেকে শুধরে নিয়ে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকেন, সেই জন্য শাস্তি দেওয়া হয়। প্লেটোর কথা অনুযায়ী একজন বিচারপতি আর একজন চিকিৎসকের কাজ অনেকটা একরকম। একজন চিকিৎসক, যখন কোনও রোগাক্রান্ত মানুষকে ওষুধ দেন, তিনি শুধু রোগীকে তাঁর ব্যাথা উপশমের জন্য তা দেন না, তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্যও এই কাজটা করেন তিনি। সেইরকমভাবে একজন বিচারপতি যখন শাস্তি দেন, তিনি সেই দোষী ব্যক্তি যাতে নিজেকে শোধরানোর সুযোগ পান, সেই চেষ্টাও করেন। যাতে সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি একজন সুস্থ মানুষ হয়ে সমাজে ফিরতে পারেন সেই চেষ্টাও করেন। তিনি আরও বলেন, একজন মহিলা, তা তিনি গরিব বা বিত্তশালী যাই হন না কেন, তাঁর যোগ্য সম্মান পাওয়ার অধিকারী। তিনি যে ধর্মেই বিশ্বাস করুন না কেন, যে জাতির হন না কেন, একজন মহিলার প্রতি এই ধরনের অন্যায় কখনই মেনে নেওয়া যায় না। বিচারপতি নাগরত্নার এই রায় পড়ে হয়তো অনেকেই বুঝতে পারবেন না, কী প্রসঙ্গে এই কথাগুলো দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বলা হয়েছে, তাঁদের জন্য ইতিহাসকে আবারও ফিরে পড়া জরুরি।

২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, গুজরাতের গোধরাতে একটি ট্রেনে আগুন লাগে। সেই ট্রেনে তখন অযোধ্যা থেকে করসেবকেরা ফিরছিলেন। সেই আগুনে ৬০ জন করসেবক পুড়ে মারা যান। কীভাবে সেই ট্রেনে আগুন লেগেছিল তা নিয়ে আজও নানা প্রশ্ন আছে। তারপরের দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি পুরো গোধরা শহর জুড়ে শুরু হয় হিংসা। অভিযোগ করা হয়, মুসলমান মানুষজন ওই ট্রেনে আগুন লাগিয়েছেন, তাই নিকেশ করতে হবে ‘ওদের’। তারপর শুরু হয় কুখ্যাত গুজরাত গণহত্যা, যার দুঃস্বপ্ন আজও বিলকিস বানোর মতো বহু মানুষ বয়ে বেড়াচ্ছেন। জানা গেছে, তৎকালীন গুজরাত সরকারের পুলিশের পরোক্ষ মদতের ফলে, সারা গুজরাতে প্রায় ২০০০ মুসলমান মানুষকে হত্যা করে উন্মত্ত হিন্দু জনতা, যারা বেশিরভাগই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং আরএসএসের সদস্য। প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক এবং বহু মানুষের সাক্ষ্য অনুযায়ী পরে জানা যায়, কীভাবে মিশ্র অঞ্চল থেকে বেছে বেছে মুসলমান মহিলাদের ধর্ষণ এবং পুরুষদের হত্যা করা হয়।

সেই সময়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানো তাঁর বাবার কাছে ছিলেন সিংওয়ার গ্রামে। চারদিকে ওই হিংসা দেখে তাঁর পরিবার সেই গ্রাম ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। ওই সময়, তাঁর এক ভাইঝিরও সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, যে কোনওদিন সেই সন্তানের জন্মানোর সম্ভাবনা আছে। ওই গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান প্রাথমিকভাবে বিলকিস এবং তাঁর পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পরে তিনি দেখেন তাঁর ওপরই পাল্টা চাপ তৈরি হচ্ছে তাঁদেরই প্রতিবেশীদের তরফ থেকে যাতে তিনি বিলকিসের পরিবারকে ওই উন্মত্ত হিন্দু জনতার হাতে তুলে দেন। অবস্থা খারাপ দেখে তিনি বিলকিসদের গ্রাম থেকে পালিয়ে যেতে বলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতেই বিলকিস ও তাঁর পরিবারের মানুষজন চুনদাদি গ্রামে আশ্রয় নেন। সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানও ছিলেন হিন্দু কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি বিলকিসদের আশ্রয় দেন, খাবার দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁদের এই লুকোনোর জায়গাও নাকি

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, বিলকিসের ধর্ষকদের ফিরতেই হবে জেলে! কেন?

Bilkis Bano Rape Case : প্যানেল জানায়, এই আসামিরা 'সংস্কারি ব্রাহ্মণ'। ইতিমধ্যেই তারা ১৪ বছর জেল খেটেছে এবং ভালো আচরণই করেছে। অগত্যা মুক্তি!

উন্মত্ত জনতা জানতে পেরে গেছে। ফলে সেখান থেকেও তাঁদের সেই রাতেই পালাতে হয়। কয়েক কিলোমিটার দূরে তাঁরা কুয়াজার বলে একটি জনপদে ঠাঁই নেন। সেখানেই বিলকিসের ভাইঝি শামিম এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সেই রাতটা তাঁরা কোনওমতে কুয়াজারে থাকেন। অঞ্চলটা যেহেতু পাথুরে ছিল, তাঁদের মনে হয়েছিল ওখানে তাঁরা আক্রান্ত হবেন না। পরের দিন সকালে তাঁরা খুদরা গ্রামে এক আদিবাসী পরিবারে আশ্রয় নেন। দু'দিন পরে, ৩ মার্চ যখন তাঁরা আবার পালানোর চেষ্টা করছিলেন, জঙ্গল এবং পাথুরে রাস্তা দিয়ে সন্তর্পণে হাঁটছিলেন, তখনই পানিভেলাতে তাঁদের আক্রমণ করে উন্মত্ত হিন্দু জনতা। বিলকিস সহ দু’জন পালাতে সক্ষম হন। সাত বছরের সাদ্দাম বেঁচে যায়, যেহেতু তাঁর মা আমিনা তাঁকে তাঁর শরীরের নীচে আড়াল করে রেখেছিলেন।

আমিনাকে তলোয়ার এবং ছুরির আঘাতে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হুসেইন ছিল শামিমের চার বছরের পুত্র সন্তান। ঘাতকেরা ভেবেছিল, হুসেইন হয়তো মারা গেছে তাই তাকে তারা ঝোপে ছুঁড়ে ফেলে। কিন্তু ঘটনাচক্রে, হুসেইন মারা যায়নি। এরপর বিলকিস বানোকে মাটিতে ফেলে তিনজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে। অজ্ঞান হয়ে যান বিলকিস। ঘাতকেরা মনে করে বিলকিস মারা গেছে, তাই সেখান থেকে চলে যায় তারা। বেশ কিছুক্ষণ পরে বিলকিসের জ্ঞান ফেরে। তিনি দেখেন, তাঁর চারপাশে ছেঁড়া জামাকাপড় এবং বেশ কিছু মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। বিলকিস বেঁচে যান।

শুরু হয় তাঁর নতুন লড়াই। ন্যায় বিচারের লড়াই। বিলকিস প্রথমে কাছাকাছি একটি থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁর অভিযোগ দায়ের করতে। পানিভেলার

কাছে তিনি একটি পুলিশ ভ্যান দেখতে পান। সেই ভ্যানে করে তিনি লিমখেদা থানায় পৌঁছন। প্রথমে স্থানীয় থানা তাঁর অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। বিলকিস পুলিশের কাছে বারবার বলেন, তিনি তাঁর ধর্ষণকারীদের চিনতে পেরেছেন। তিনি জানান, সকলেই তাঁর প্রতিবেশী, ছোট থেকে দেখেছেন তাদের। নাম অবধি বলতে পারবেন কিন্তু পুলিশ এফআইআরে সেই নাম লিখতে অস্বীকার করে। পুলিশ জানায়, যেহেতু সাতজনের দেহ মিলেছে, তাই সাতজনের মৃত্যুই নথিভুক্ত করা হবে। বিলকিস জানান, তাঁরা আরও অনেকজন ছিলেন, মোট ১৪ জন মারা গিয়েছেন কিন্তু পুলিশ তাতে কর্ণপাতও করে না। স্থানীয় থানা অভিযোগ না নেওয়ায় বিলকিস জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হন। কমিশন সক্রিয় হয়, হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরে দেশের

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে গণধর্ষণ, বিলকিস বানো মামলার নেপথ্যে যে ভয়াবহ ইতিহাস

Bilkis Bano Case: বিলকিস তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সেই অবস্থায় ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কাস্তে, তলোয়ার, লাঠি নিয়ে ২০-৩০ জনের দল তাঁদের উপর চড়াও হয়। গণধর্ষণের শিকার হন বিলকিস।

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে সিবিআই এই গুজরাত গণহত্যার তদন্ত হাতে নেয়।

তদন্তের পরে সিবিআই বিশেষ আদালতকে জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পুরো ঘটনাটাকেই ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তার বেশ কিছু মাস পরে, গোধরার একটি ত্রাণ শিবিরে, বিলকিসের সঙ্গে আবার তাঁর স্বামী ইয়াকুবের দেখা হয়। সেখানেই তিনি তাঁর কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। মামলা ওঠে গুজরাতের আদালতে। বিলকিস ২০০৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে জানান, তিনি নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন এবং তাঁকে ২০টি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ২০০৪ সালেই সিবিআই, সমস্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে, মামলা সরিয়ে নিয়ে যায়, মুম্বই আদালতে। ১৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন হয়, তার মধ্যে ছিলেন ছ’জন পুলিশ অফিসার এবং একজন সরকারি চিকিৎসকও। ২০০৮ সালের ২১ জানুয়ারি, মোট ১৩ জনকে গণধর্ষণ, খুন এবং ষড়যন্ত্রের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে মুম্বই কোর্ট এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়। ২০২২ সালের মে মাসে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মুক্তির জন্য আবেদন করে দোষীদের মধ্যে অন্যতম রাধেশ্যাম শাহ। বিচারপতি রাস্তোগি ১১ জনের মুক্তির বিষয়ে গুজরাত সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। ২০২২ সালের ১৫ অগাস্ট, যখন দেশ ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ পালনে মশগুল, তখন মুক্তি দেওয়া হয় ওই ১১ জন দোষীকে।

এই মুক্তি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিলকিস সহ সমস্ত বিরোধী দলগুলো। একাধিক মামলা হয় শীর্ষ আদালতে। বিলকিস নিজে আপিল করেন যাতে শীর্ষ আদালত এই মুক্তি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করে। সেই সময় এটাও শোনা যায়, গোধরার বিজেপি সাংসদ ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পর্কে বলছেন, তারা খুন করতে পারে, ধর্ষণও করতে পারে কিন্তু তারা নাকি সংস্কারি ব্রাহ্মণ, তাই তাদের মুক্তি দেওয়াই উচিত। কার্যত বিজেপি ওই ধর্ষকদের মহিমান্বিত করারই

দায়িত্ব নেয়। তারপরে ১১ দিন টানা শুনানির শেষে, গত ১২ অক্টোবর দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই সংক্রান্ত রায়দান স্থগিত রাখে। শেষে বিচারপতি নাগরত্না এবং উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ রায় দেয়, গুজরাত সরকার মিথ্যে তথ্য দিয়ে দোষীদের মুক্তি দিয়েছে এবং আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে তাদের আবার জেলে ফেরত যেতে হবে। বিলকিস বানো নিজে এই রায় শুনে বলেছেন, এবার প্রকৃত অর্থে যেন নতুন বছর এল, অনেকদিন পরে তিনি হেসেছেন, বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরেছেন আনন্দে।

অনেকেই বলতে পারেন, এত বছর পরে কেন এই ইতিহাস জানা জরুরি? নতুন প্রজন্মের কাছে এই সত্যকে ফের তুলে ধরতেই হবে। গুজরাত মানেই যাদের কাছে 'বিকাশ', 'ভাইব্র্যান্ট গুজরাত' মনে হয় সেই গুজরাতের কালো ইতিহাস জানা জরুরি। গুজরাতের এই গণহত্যার সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। অভিযোগ, মোদির পুলিশ প্রশাসন যদি সেদিন সক্রিয় থাকত, তাহলে এত মানুষ মারা যেতেন না। তাঁর নির্দেশেই নাকি পুলিশ সেদিন দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। এমনকী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীও এই বিষয় নিয়ে নরেন্দ্র মোদির কাছে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। তবে

২০১৪ সালে যখন এই নরেন্দ্র মোদিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি সেদিন থেকেই তিনি চেষ্টা করে গেছেন, গুজরাত গণহত্যার দায় থেকে নিজেকে দূরে রাখতে। বিভিন্ন মামলায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের। কিছুদিন আগে, বিবিসির একটি দু'পর্বের তথ্যচিত্র প্রকাশ পায়, সেখানেও গুজরাত গণহত্যায় নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাতারাতি সরকারের পক্ষ থেকে ওই তথ্যচিত্রের প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্পষ্ট বোঝা যায়, নরেন্দ্র মোদি নিজেও চান না, তাঁর কোনও বিরূপ সমালোচনা হোক।

কিন্তু প্রশ্ন তো থেকেই যায়। একদিকে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ স্লোগান তুলে মহিলাদের ভোট পাওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি, তাঁর দলেরই একটি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মহিলাদের অর্থনৈতিক সহায়তা করার জন্য ‘লাডলি বেহেনা’ প্রকল্প ঘোষিত হবে, সর্বক্ষণ তিনি মহিলাদের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে নিজেকে দেখানোর চেষ্টা করবেন আর অন্যদিকে তাঁর নিজের রাজ্যের সরকারই এক মহিলার ধর্ষণকারীদের মুক্তির দাবিতে সওয়াল করবে তা কীভাবে হতে পারে? আগামী কিছুদিনের মধ্যে রাম মন্দিরের উদ্বোধন নিয়ে সারা দেশের গণমাধ্যমে মোদিই ছেয়ে থাকবেন। তার মাঝে এই কালো অধ্যায়টিও মানুষের জানা উচিত। কীভাবে এত বছর পরে বিলকিস ও তাঁর পরিবারের অনমনীয় লড়াইয়ের কাছে তাঁর পরাজয় ঘটল সেই ইতিহাস জানাটাও জরুরি। কিন্তু বিরোধীরা কি পারবে, এই বিষয়টিকে সামনে এনে প্রচার করতে? অনেকে বলতে পারেন, এই প্রচারে উল্টে হিন্দুত্ববাদী শক্তির পালেই আরও হাওয়া লাগতে পারে। কিন্তু তাও, সত্য বলা জরুরি। সব লড়াই যে এখনও শেষ হয়ে যায়নি তা মনে রাখা জরুরি। অসম শক্তির বিরুদ্ধেও যে কিছু লড়াই জেতা যায় আজও, তা সকলকেই জানানো উচিত।

লিখেছেন
suman sengupta
suman sengupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।