সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, বিলকিসের ধর্ষকদের ফিরতেই হবে জেলে! কেন?
Bilkis Bano Rape Case : প্যানেল জানায়, এই আসামিরা 'সংস্কারি ব্রাহ্মণ'। ইতিমধ্যেই তারা ১৪ বছর জেল খেটেছে এবং ভালো আচরণই করেছে। অগত্যা মুক্তি!

বিলকিসকে কেউ ধর্ষণ করেনি! ২০২২ সালের স্বাধীনতা দিবসের দিন ধর্ষণে অভিযুক্তদের মুক্তি দিয়ে ঠিক এইটাই প্রমাণ করতে চেয়েছিল গুজরাত আদালত। বিলকিস বানোর সেই মামলার এক নতুন দিকে বাঁক বদল ঘটাল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বিলকিসকে ধর্ষণ করা ১১ জন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার গুজরাত সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। শুধু ধর্ষণই নয়, ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার সময় বিলকিসের পরিবারকেও হত্যা করেছিল এই আসামিরা।
গুজরাত সরকার এই ধর্ষকদের মুক্তি দিতে পারে না, সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী আদেশে জানিয়ে দিয়েছে সোমবার। বিলকিসের ওই ধর্ষকদের মুক্তি, এবং দেশের স্বাধীনতার দিনে সেই মুক্তি পাওয়ার উদযাপনের ঘটনা আম জনতা, সমাজকর্মী এবং বিরোধী রাজনীতিবিদদের চরম নিন্দার মুখে পড়েছিল। গুজরাত সরকার ওই ১১ আসামিকে খালাসের যে আদেশ দিয়েছে তা 'যোগ্য' আদেশ নয়। সুপ্রিম আদালত জানাচ্ছে, অপরাধীরা শুধুমাত্র সেই রাজ্যেই মুক্তি পেতে পারে যেখানে তাদের বিচার করা হয়েছে। অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তটি মহারাষ্ট্র সরকারের উপর নির্ভর করছে।
বিচারপতি অজয় রাস্তোগি (অবসরপ্রাপ্ত) ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টেই যে রায় দেন, এই মুহূর্তে সেই রায়কেই অস্বীকার করল শীর্ষ আদালত। রাস্তোগির সেই রায়েই দোষীদের গুজরাত সরকারের কাছে তাড়াতাড়ি ক্ষমার জন্য আপিল করার অনুমতি মিলেছিল। ২০২২ সালের সুপ্রিম কোর্টের সেই আদেশ আসামিরা 'ভুল পথে' পেয়েছিলেন বলে বিচারকরা সেই আদেশ বাতিল করে দিলেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gujarat Elections 2022: গুজরাতে ক্ষমতা হারানোর ভয় কি আদৌ আছে বিজেপি-র?

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, গুজরাত সরকারের ২০২২ সালের আদেশের পুনর্বিবেচনার জন্য একটি পিটিশন দাখিল করা উচিত ছিল কারণ তারা দোষী ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার কেউ নন। একটি অপ্রচলিত আইনের ভিত্তিতে ২০২২ সালের স্বাধীনতা দিবসে গুজরাত সরকার ওই অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়।
গুজরাত সরকার ১৯৯২ সালের একটি রেমিশন নীতির ভিত্তিতে আসামিদের মুক্তি দেয়। মজার বিষয় হলো ২০১৪ সালেই একটি আইন দ্বারা ওই নীতি বাতিল করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত আসামি রাধেশ্যাম শাহের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলার পরে রাজ্য সরকার একটি প্যানেলের সঙ্গে এই বিষয়ে পরামর্শ করেছিল। ওই প্যানেলে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ব্যক্তিরাই ছিলেন। প্যানেল জানায়, এই আসামিরা 'সংস্কারি ব্রাহ্মণ'। ইতিমধ্যেই তারা ১৪ বছর জেল খেটেছে এবং ভালো আচরণই করেছে। অগত্যা মুক্তি এবং মুক্তি পাওয়ার পরে দোষীদের বীরের মতো স্বাগত জানানো হয়! বিজেপির সাংসদ এবং বিধায়কের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায় বিলক বানোর ধর্ষকদের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ayodhya Ram Mandir inauguration : হিন্দু মহাসভা রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও অস্বীকার করেছে, কারণ এটি নাকি আসলে 'বিজেপি-স্পন্সরড রাজনৈতিক প্রোগ্রাম'।
বিচারপতি বিভি নাগারথনা এবং উজ্জল ভুঁইয়া গত অক্টোবরে বিলকিস বানোর দায়ের করা আবেদনগুলির শুনানি করে। আদালত কেন্দ্র এবং গুজরাত সরকারকে ওই রেমিশন নীতি সংক্রান্ত মূল রেকর্ড জমা দিতে বলে। দোষীদের মুক্তির বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য সুভাষিনী আলি, স্বাধীন সাংবাদিক রেবতী লাউল এবং লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রূপরেখা ভার্মা।

শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট কড়া প্রশ্ন করে, "আসামিদের মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বদলে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৪ বছর কারাভোগ করার পর কীভাবে তাদের মুক্তি দেওয়া হলো? কেন তাহলে অন্য বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না?" গুজরাত সরকারের পক্ষে, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু বলেন, যেহেতু ওই ১১ আসামিকে ২০০৮ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তাই তাদের ১৯৯২ সালের ওই নীতির অধীনে বিচার করা হয়।
বিলকিস বানোর তখন বয়স ছিল ২১। পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলেন তিনি। সবরমতী এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডে ৫৯ জন করসেবক নিহত হয়। এরপরে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন তিনি। পালাতে গিয়েই গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। দাঙ্গায় নিহত পরিবারের সাত সদস্যের মধ্যে তাঁর তিন বছরের মেয়েও ছিল।






