সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, বিলকিসের ধর্ষকদের ফিরতেই হবে জেলে! কেন?

Bilkis Bano Rape Case : প্যানেল জানায়, এই আসামিরা 'সংস্কারি ব্রাহ্মণ'। ইতিমধ্যেই তারা ১৪ বছর জেল খেটেছে এবং ভালো আচরণই করেছে। অগত্যা মুক্তি!

inscript
৩ মিনিট
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, বিলকিসের ধর্ষকদের ফিরতেই হবে জেলে! কেন?

বিলকিসকে কেউ ধর্ষণ করেনি! ২০২২ সালের স্বাধীনতা দিবসের দিন ধর্ষণে অভিযুক্তদের মুক্তি দিয়ে ঠিক এইটাই প্রমাণ করতে চেয়েছিল গুজরাত আদালত। বিলকিস বানোর সেই মামলার এক নতুন দিকে বাঁক বদল ঘটাল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বিলকিসকে ধর্ষণ করা ১১ জন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার গুজরাত সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। শুধু ধর্ষণই নয়, ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার সময় বিলকিসের পরিবারকেও হত্যা করেছিল এই আসামিরা।

গুজরাত সরকার এই ধর্ষকদের মুক্তি দিতে পারে না, সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী আদেশে জানিয়ে দিয়েছে সোমবার। বিলকিসের ওই ধর্ষকদের মুক্তি, এবং দেশের স্বাধীনতার দিনে সেই মুক্তি পাওয়ার উদযাপনের ঘটনা আম জনতা, সমাজকর্মী এবং বিরোধী রাজনীতিবিদদের চরম নিন্দার মুখে পড়েছিল। গুজরাত সরকার ওই ১১ আসামিকে খালাসের যে আদেশ দিয়েছে তা 'যোগ্য' আদেশ নয়। সুপ্রিম আদালত জানাচ্ছে, অপরাধীরা শুধুমাত্র সেই রাজ্যেই মুক্তি পেতে পারে যেখানে তাদের বিচার করা হয়েছে। অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তটি মহারাষ্ট্র সরকারের উপর নির্ভর করছে।

বিচারপতি অজয় রাস্তোগি (অবসরপ্রাপ্ত) ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টেই যে রায় দেন, এই মুহূর্তে সেই রায়কেই অস্বীকার করল শীর্ষ আদালত। রাস্তোগির সেই রায়েই দোষীদের গুজরাত সরকারের কাছে তাড়াতাড়ি ক্ষমার জন্য আপিল করার অনুমতি মিলেছিল। ২০২২ সালের সুপ্রিম কোর্টের সেই আদেশ আসামিরা 'ভুল পথে' পেয়েছিলেন বলে বিচারকরা সেই আদেশ বাতিল করে দিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধর্ষকদের ছাড় দেওয়া, ব্রিজ দুর্ঘটনার পরেও কেন গেরুয়াতেই ঝুঁকে গুজরাট

Gujarat Elections 2022: গুজরাতে ক্ষমতা হারানোর ভয় কি আদৌ আছে বিজেপি-র?

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, গুজরাত সরকারের ২০২২ সালের আদেশের পুনর্বিবেচনার জন্য একটি পিটিশন দাখিল করা উচিত ছিল কারণ তারা দোষী ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার কেউ নন। একটি অপ্রচলিত আইনের ভিত্তিতে ২০২২ সালের স্বাধীনতা দিবসে গুজরাত সরকার ওই অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়।

গুজরাত সরকার ১৯৯২ সালের একটি রেমিশন নীতির ভিত্তিতে আসামিদের মুক্তি দেয়। মজার বিষয় হলো ২০১৪ সালেই একটি আইন দ্বারা ওই নীতি বাতিল করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত আসামি রাধেশ্যাম শাহের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলার পরে রাজ্য সরকার একটি প্যানেলের সঙ্গে এই বিষয়ে পরামর্শ করেছিল। ওই প্যানেলে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ব্যক্তিরাই ছিলেন। প্যানেল জানায়, এই আসামিরা 'সংস্কারি ব্রাহ্মণ'। ইতিমধ্যেই তারা ১৪ বছর জেল খেটেছে এবং ভালো আচরণই করেছে। অগত্যা মুক্তি এবং মুক্তি পাওয়ার পরে দোষীদের বীরের মতো স্বাগত জানানো হয়! বিজেপির সাংসদ এবং বিধায়কের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায় বিলক বানোর ধর্ষকদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাম মন্দির উদ্বোধন নিয়ে মোদির পাশে নেই বহু হিন্দুত্ববাদীই! কেন?

Ayodhya Ram Mandir inauguration : হিন্দু মহাসভা রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও অস্বীকার করেছে, কারণ এটি নাকি আসলে 'বিজেপি-স্পন্সরড রাজনৈতিক প্রোগ্রাম'।

বিচারপতি বিভি নাগারথনা এবং উজ্জল ভুঁইয়া গত অক্টোবরে বিলকিস বানোর দায়ের করা আবেদনগুলির শুনানি করে। আদালত কেন্দ্র এবং গুজরাত সরকারকে ওই রেমিশন নীতি সংক্রান্ত মূল রেকর্ড জমা দিতে বলে। দোষীদের মুক্তির বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য সুভাষিনী আলি, স্বাধীন সাংবাদিক রেবতী লাউল এবং লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রূপরেখা ভার্মা।

শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট কড়া প্রশ্ন করে, "আসামিদের মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বদলে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৪ বছর কারাভোগ করার পর কীভাবে তাদের মুক্তি দেওয়া হলো? কেন তাহলে অন্য বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না?" গুজরাত সরকারের পক্ষে, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু বলেন, যেহেতু ওই ১১ আসামিকে ২০০৮ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তাই তাদের ১৯৯২ সালের ওই নীতির অধীনে বিচার করা হয়।

বিলকিস বানোর তখন বয়স ছিল ২১। পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলেন তিনি। সবরমতী এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডে ৫৯ জন করসেবক নিহত হয়। এরপরে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন তিনি। পালাতে গিয়েই গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। দাঙ্গায় নিহত পরিবারের সাত সদস্যের মধ্যে তাঁর তিন বছরের মেয়েও ছিল।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।