মাত্র ৩০-এই শেষ! বিখ্যাত বডি বিল্ডারের মৃত্যুর এই কারণ আপনার দেহেও লুকিয়ে নেই তো?

Brain Aneurysm Symptoms: মস্তিষ্কের ফেটে যাওয়া অ্যানিউরিজম জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

inscript
৩ মিনিট
মাত্র ৩০-এই শেষ! বিখ্যাত বডি বিল্ডারের মৃত্যুর এই কারণ আপনার দেহেও লুকিয়ে নেই তো?

বডি বিল্ডার। সারাদিনের অধিকাংশটাই কাটে জিমে। শরীরই প্রেম, শরীরই প্রার্থনা! দেহকে তরতাজা রাখার সমস্ত কৌশলই জানা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে দেখে জিমমুখী হয়েছেন কত মানুষ, শরীরের যত্ন নিতে সচেতন হয়েছেন কত কত জন। অথচ সেই জার্মান বডি বিল্ডার জো লিন্ডনার মারা গেলেন মাত্র ৩০ বছর বয়সে। দীর্ঘদিন ধরেই থাইল্যান্ডে থাকতেন তিনি। সারা শরীরে যত্নের ভাঁজ, পেশিতে সংযমের চিহ্ন। অথচ মাত্র ৩০ বছরে অ্যানিউরিজমের শিকার হয়ে মারা গেলেন তিনি! বান্ধবীর সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাচ্ছিলেন, হঠাৎ সব শেষ।

অ্যানিউরিজম কী?

মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম বা সেরিব্রাল অ্যানিউরিজম তখনই ঘটে যখন মস্তিষ্কের মধ্যে বা তার চারপাশের ধমনীর একটি দুর্বল অংশ বাইরের দিকে ফুলে যায়। ধারাবাহিক রক্ত প্রবাহ দুর্বল অংশে চাপ সৃষ্টি করে, সেখানে ফোস্কার মতো তৈরি হয়ে যায়। যদি এই ফোস্কার মধ্যে রক্ত ঢুকে পড়ে তাহলে অ্যানিউরিজম আরও প্রসারিত হয় এবং সেই ফোস্কা ফেটেও যেতে পারে।

ব্রেন অ্যানিউরিজম মস্তিষ্কের যে কোনও জায়গায় বাড়তে পারে। তবে এগুলি সাধারণত মাথার খুলির গোড়া বরাবর প্রধান ধমনীতেই পাওয়া যায়। বেশিরভাগ মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজমই ছোট এবং বিশেষ কোনও উপসর্গও সৃষ্টি করে না। তবে তারা কাছাকাছি স্নায়ু বা মস্তিষ্কের টিস্যুতে চাপ দিলেই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যদি কোনও অ্যানিউরিজম ফুটো হয় বা ফেটে যায়, এর ফলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়, যা সাবআরানয়েড হেমারেজ (SAH) নামে পরিচিত। মস্তিষ্কের ফেটে যাওয়া অ্যানিউরিজম জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। অবিলম্বে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু বা অক্ষমতার আশঙ্কা বাড়বে।

মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম ফেটে গেলে আশেপাশের মস্তিষ্কের টিস্যুতে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে, মস্তিষ্কের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং এটি ফুলে যায়। যার ফলে গুরুতর মাথাব্যথা হতে পারে, সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ তো রয়েইছে। ফেটে যাওয়ার ফলে সাবআরানয়েড হেমারেজ, হেমোরেজিক স্ট্রোক (মাথার খুলি এবং মস্তিষ্কের মধ্যে রক্তপাত), ভাসোস্পাজম (রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়া), হাইড্রোসেফালাস (তরল জমা হওয়ার কারণে চাপ বেড়ে যাওয়া), খিঁচুনি, কোমার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং প্রায় ৫০% ক্ষেত্রেই মৃত্যু ঘটে আক্রান্তের।

মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম যে কোনো বয়সের ঘটতে পারে। সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়৷ পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে৷

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১০৩ বছর বয়সেও লাগাতার জিম! বয়সকে তুড়ি মেরে দূরে সরানোর যে মন্ত্র শেখাচ্ছেন এই 'ঠাকুমা'

103 Years Old Grandma Gym Fitness : বাকিদের সঙ্গে টেরেসাকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। কারণ, এই শক্তিশালী ‘তরুণী’র বয়স খুব বেশি নয়, মাত্র ১০৩ বছর!

অ্যানিউরিজমের ঝুঁকি কাদের ক্ষেত্রে প্রবল?

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড স্ট্রোকের রিপোর্ট অনুসারে সেরিব্রাল অ্যানিউরিজম কখনও কখনও উত্তরাধিকারসূত্রেও ঘটতে পারে।

জেনেটিক কানেক্টিভ টিস্যু ডিসঅর্ডার: কিছু জেনেটিক অবস্থা ধমনীর দেয়ালকে দুর্বল করে দেয়, যা অ্যানিউরিজম গঠনকে ত্বরান্বিত করে।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ: এই অবস্থাতে কিডনিতে একাধিক সিস্ট গঠন হয়। এটি সেরিব্রাল অ্যানিউরিজমের সঙ্গে যুক্ত।

আর্টেরিওভেনাস ম্যালফর্মেশনস: AVM হচ্ছে মস্তিষ্কের রক্তনালীর অস্বাভাবিক জট যা স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহকে ব্যাহত করে। কিছু AVM আপনা থেকেই তৈরি হয়। কিছু আবার পারিবারিক সূত্রেও ঘটতে পারে।

পারিবারিক ইতিহাস: অ্যানিউরিজম যদি পূর্বজদের কারও থেকে থাকে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে পারে এমন অন্যান্য ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

চিকিত্সা না করে ফেলে রাখা উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ ধমনীর দেয়ালে চাপ দেয়। এর ফলে দুর্বলতা এবং অ্যানিউরিজম গঠনের প্রবণতা দেখা দেয়।

ধূমপান: ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং অ্যানিউরিজমের গঠন ও ফেটে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

মাদকের ব্যবহার: কোকেন বা অ্যামফিটামিনের মতো ওষুধ ক্তচাপের মাত্রা বাড়ায় এবং অ্যানিউরিজমের ঝুঁকিও বাড়ায়। শিরায় মাদকের অপব্যবহার সংক্রামক মাইকোটিক অ্যানিউরিজমের সঙ্গে যুক্ত।

৪০ বছরের বেশি বয়স: সেরিব্রাল অ্যানিউরিজম হওয়ার ঝুঁকি বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকে।

অন্য সাধারণ ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

মাথার ট্রমা: মাথায় গুরুতর আঘাত রক্তনালীগুলির ক্ষতি করতে পারে এবং সম্ভাব্য অ্যানিউরিজমের কারণ হতে পারে।

মস্তিষ্কের টিউমার: কিছু মস্তিষ্কের টিউমার রক্তনালীতে গঠনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা অ্যানিউরিজমের ঝুঁকি বাড়ায়।

ধমনীর প্রাচীরে সংক্রমণ: এটি মাইকোটিক অ্যানিউরিজম নামে পরিচিত। এগুলি খুবই বিরল। যখন কোনও সংক্রমণ ধমনীর প্রাচীরকে প্রভাবিত করে তখনই এমন দেখা যায়।

উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, ডায়াবেটিস এবং বেশি কোলেস্টেরল এথেরোস্ক্লেরোসিসের দিকে নিয়ে যায়। এটি এমন একটি রোগ যাতে ধমনীর দেয়ালে চর্বি জমা হয়। এথেরোস্ক্লেরোসিস ফিউসিফর্ম অ্যানিউরিজম নামক একটি নির্দিষ্ট ধরনের অ্যানিউরিজম হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে এই কারণগুলি।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।