তাঁর জন্য ইডির সঙ্গে সম্মুখসমরে মমতা, কে এই প্রতীক জৈন?
Pratik Jain I-PAC: ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরেই সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন প্রতীক। সংস্থাটি ছিল গুজরাটের আহমেদাবাদে। উনিশ মাস এখানে কাজ করেন তিনি। সেখানে কাজ করতে করতেই তাঁর সাক্ষাৎ প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর কর্ণধারের বাড়িতে এবং আইপ্যাক-এর সল্টলেকের অফিসে ইডি হানা দেয়। এরপরই ‘রণং দেহি’ মেজাজে রাস্তায় অবতীর্ণ হন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে তিনি পৌঁছে যান প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান চলাকালীনই তিনি সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ তোলেন, নির্বাচনের আগে ভোট কৌশল চুরি করতেই ইডির এই অভিযান। বছরের শুরুতেই একপ্রকার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।
রাজ্য-রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আইপ্যাক ও প্রতীক জৈন। তাঁর জন্য ইডির সঙ্গে সম্মুখসমরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জানেন কে এই প্রতীক জৈন। প্রশান্ত কিশোর যতদিন সামনে ছিলেন, প্রতীকের নাম সেভাবে সামনে আসেনি। তবে, ইডির অভিযানের পর তাঁকে নিয়ে আগ্রহের অন্ত নেই মানুষের মধ্যে। বর্তমানে ভোটকুশলীর কাজ করলেও, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা প্রতীক জৈন পড়াশোনা করেছেন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বোম্বের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে (২০০৮-২০১২)।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
CBI And BJP TMC Govt: দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের সাফল্যের হার মাত্র তিন শতাংশ কেন? প্রশ্ন তুলছে বাংলা যা ভাবছে।
তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্য বলছে, পড়াশোনা চলাকালীনই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশের চেষ্টা শুরু করে দিয়েছিলেন। ২০১০ সালে অ্যাক্সিস মিউচুয়াল ফান্ডে ইন্টার্নশিপ করেন দু'মাস। এরপর মুম্বইয়েই ডেলয়েটে (Deloitte Touche Tohmatsu India Pvt Ltd) অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন এক বছর তিন মাস, ২০১২ থেকে ২০১৩ সময়কালে। এরপরই পেশাদার রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখা। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরেই সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন প্রতীক। সংস্থাটি ছিল গুজরাটের হমেদাবাদে। উনিশ মাস এখানে কাজ করেন তিনি। সেখানে কাজ করতে করতেই তাঁর সাক্ষাৎ প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে। এই পিকে-কে সামনে রেখেই প্রতীক ২০১৫ সালে তৈরি করেন ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I- PAC)। সরকারি ভাবে প্রতীকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্দেল ও ঋষিরাজ সিং। সংস্থাটি গড়ে ওঠার পরই ভোটকুশলী হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেছে এবং সাফল্যও পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আইপ্যাক কাজ করেছে দিল্লি, বিহার, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনেও।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গত ১৭ বছরে ইডির তরফে নেওয়া ব্যবস্থার ফলে শাস্তি পেয়েছেন মাত্র ২৩ জন ব্যক্তি। সাফল্যের হার ০.০৫ শতাংশেরও কম। এই কারণেই প্রশ্ন ইডি-র এই অভিযান নিয়ে।
আইপ্যাক-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকশন মোড দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে, প্রতীক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে? বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে ইডি-র দাবি, আইপ্যাক হাওয়ালা টাকার সঙ্গে জড়িত। কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা তছরুপে যুক্ত একজন হাওয়ালা অপারেটর, আইপ্যাক-কে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই সূত্র ধরেই তল্লাশি অভিযান। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অন্য, তিনি বলছেন ভোট কৌশল চুরি করতেই এই অভিযান।
অন্যদিকে আবার ইডি-বনাম মুখ্যমন্ত্রী লড়াই পৌঁছেছে কোর্ট পর্যন্ত। হাই কোর্টে ইডি তদন্তে বাধা এবং সাংবিধানিক পদের অপব্যবহারের অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাল্টা তৃণমূলও মামলা করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে। দু'টি মামলারই শুনানি হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে। কিন্তু মামলাটি শোনার আগের মুহূর্তে এজলাসে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। কোর্ট রুমে এতই ভিড় জমে যে, হইহট্টগোল শুরু হয়। বিচারপতি এজলাস খালি করে দেওয়ার জন্য বলেন, ইন্টার্নদের বেরিয়ে যাওয়ার জন্যও বলা হয়। কিন্তু বিশৃঙ্খলার কারণে শেষমেষ আসন ছেড়ে উঠে যান বিচারপতি। এবং আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দু'টি মামলারই শুনানি মুলতবি করেন। পরে ইডি প্রধান বিচারপতিকে আবেদন করে দ্রুত শুনানি ও বিচারপতি বদলের জন্য। কিন্তু প্রধান বিচারপতি ইডি-র আবেদনে কোনো হস্তক্ষেপ করেন না।






