যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের ল্যাব থেকে সত্যিই ভয়াবহ জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে?

Aritra Dasgupta
৩ মিনিট
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের ল্যাব থেকে সত্যিই ভয়াবহ জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে?

এখন ও যুদ্ধ থামেনি ইউক্রেন- রাশিয়ার। একাধিক শান্তি বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও নির্দিষ্ট কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। অন্যদিকে ইউক্রেনের একের পর এক স্থানে ক্রমাগত গুলি বোমা বর্ষণ করে চলেছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের ল্যাবরেটরিতে থাকা যাবতীয় শক্তিশালী জীবাণু এবং জৈব অস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার পরামর্শ দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাঁদের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা ভেবে যেন জরুরি ভিত্তিতে যাবতীয় প্যাথোজেন ধ্বংস করে দেওয়া হয়। নইলে কোনও অসাবধানতা বশে যদি এই শক্তিশালী জীবাণু বাইরে ছড়িয়ে পরে তাহলে আবার বিশ্বকে নতুন কোনও বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। এখনও করোনা অতিমারির ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি পৃথিবী। এই পরিস্থিতিতে আবার যদি কোনো ভাইরাস থেকে বিশ্ব আক্রান্ত হয় তবে তা মানবজাতির জন্য নতুন বিপদ তৈরি করবে।

ইউক্রেনের একাধিক ল্যাবরেটরি তে জীবাণুর চরিত্র নিয়ে গবেষণা হয়। সেই গবেষণায় ইউক্রেন সরকার কে সহযোগিতা করে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

রাশিয়ার এই ক্রমাগত আক্রমণে ইউক্রেনের প্রায় সব স্থানই আক্রান্ত। যে কোনও মুহূর্তে আঘাত আসতে পারে ল্যাবরেটরির ওপর। বোমার আঘাতে যদি এই ল্যাবগুলি ধ্বংস হয় এবং সেখানে গবেষণারত কোনও স্থান থেকে যদি এই জীবাণু নির্গত হয় তবে তা মানব সভ্যতার জন্য মোটেই সুখকর হবে না।

বায়োসিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের আকাশে এখন অনবরত রাশিয়ান সামরিক বিমান চলাফেরা করছে। ইউক্রেনের প্রায় প্রতিটি শহরেই বোমার শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রোগ-সৃষ্টিকারী রোগজীবাণুর থেকে ল্যাব থেকে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের আগে এবং এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইউক্রেনের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে চলেছে। ‘হু’ ঠিক কী ধরনের কাজ করছে ইউক্রেনে এই প্রসঙ্গে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইমেলে জানিয়েছে, ‘এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যাতে ইউক্রেনের ল্যাবগুলি থেকে অনিচ্ছাকৃত ভাবে জীবাণু ছড়িয়ে না পরে সেই বিষয়ে আমরা ইউক্রেনের স্বাস্থ্য দপ্তুরকে সতর্ক থাকতে বলেছি। এই বিষয়ে ইউক্রেন সরকারকে আমরা যাবতীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত’। এই কাজেরই অংশ হিসাবে, ‘হু’ ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং অন্যান্য সংস্থাকে কোনও সম্ভাব্য ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে যাবতীয় রোগজীবাণু ধ্বংস করার জন্য আবেদন জানিয়েছে।

যদিও ইউক্রেনের পরীক্ষাগারগুলিতে ঠিক কী ধরনের প্যাথোজেন বা বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে সে সম্পর্কে কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেয়নি। পাশাপাশি ইউক্রেন আদৌ ‘হু’ র পরামর্শ মানবে কিনা সেই বিষয়ে ইউক্রেন সরকার কোনও মন্তব্য করেনি।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া রাষ্ট্রপুঞ্জে ১৫-সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠক ডেকেছে। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে এসেছে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তায় ইউক্রেন সরকার নিজেদের দেশে ল্যাবরেটরি গুলিতে জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করছে। রাশিয়ার এই অভিযোগ ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার অস্বীকার করেছে। আবার রাশিয়া ও এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি ইজুমি নাকামিতসু রাশিয়ার দাবিকে নস্যাৎ করে জানিয়েছেন ইউক্রেনে এমন কোনো জৈবিক অস্ত্র কর্মসূচি চলছে না যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা তৈরি করবে। এমনকি জৈব রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রস্তাবে ও ইউক্রেন সমর্থন করেছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জ সরাসরি জানিয়েছে ‘হু’ ইউক্রেনের এমন কোনও কার্যকলাপ সম্পর্কে সঠিক কোনও প্রমাণ পায়নি। এই পরিস্থিতিতে যদি ইউক্রেনের পরীক্ষাগারে এমন কোনও জৈব রাসায়নিক পরীক্ষা চালায় তা নিশ্চিত ভাবেই আন্তর্জাতিক শান্তি চুক্তিকে লঙ্ঘন করবে।

রয়টার্সকে পাঠানো ইমেলের উত্তরে ‘হু’ কেবলমাত্র ইউক্রেনের জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগারের কথা উল্লেখ করেছে। এমনকি এই পরিস্থিতিতে ‘হু’ সব পক্ষকেই সহযোগিতার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও রকমের টেকনিক্যাল সহায়তা ‘হু’ করবে।

এমনিতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি সরগরম। এই পরিস্থিতিতে জৈব রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের তরজা নিঃসন্দেহে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।