একটু একটু করে ভুলছেন সবই? অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল আপনার বিপদ বাড়াচ্ছে অজান্তেই

Aluminum Foil Risks: কিছু গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, অ্যালুমিনিয়াম আলঝাইমার্সের অন্যতম কারণ।

inscript
৩ মিনিট
একটু একটু করে ভুলছেন সবই? অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল আপনার বিপদ বাড়াচ্ছে অজান্তেই

কেউ মাছ বেক করেন, কেউ সবজি ভাজেন, কেউ বা আবার মাংস নরম রাখার চেষ্টা করেন, কেউ বা রুটি নরম রাখতে মুড়ে দেন- এসব কাজে মানুষ নিশ্চিন্তে ব্যবহার করে চলেছে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল। বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে বহু বাড়িতেই অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ঢালাও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যে কতটা ক্ষতিকারক তা নিয়েও সমানতালে চলেছে তর্ক, চলেছে সচেতনতা বৃদ্ধির হাজারো কৌশল। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল কি সত্যিই বিপজ্জনক, নাকি একে ঘিরে বিবিধ যা সওয়াল ওঠে তার তেমন ভিত্তিই নেই?

অ্যালুমিনিয়াম মেলে সর্বত্র

বিষয়টির গভীরে যাওয়ার আগে, যে জিনিসটি নিয়ে কথা হচ্ছে তার হাল হকিকত জানা জরুরি। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল। অনেকে কখনও কখনও একে টিন ফয়েল নামেও ডেকে থাকেন। চকচকে অ্যালুমিনিয়াম ধাতুর একটি কাগজের মতো পাতলা আস্তরণ। অ্যালুমিনিয়াম ধাতুর বড় চাংড়গুলি থেকে পাতলা একটি আস্তরণ তুলে নেওয়া হয় বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই আস্তরণ প্রায় ০.২ মিলিমিটার (০.০০৮ ইঞ্চি) পুরু। হ্যাঁ, এতটাই পাতলা হয় এই শক্তপোক্ত ধাতু থেকে উৎপাদিত অংশটি।

তবে শুধু খাবারের ক্ষেত্রেই নয়, রান্নাঘরের পরিধির বাইরেও এর বিস্তৃত ব্যবহার রয়েছে। প্যাকেজিং, নিরোধক বা আস্তরণ এবং পরিবহন সবেতেই অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় বসে 'ম্যাজিক' শুরু, যেভাবে তৈরি হল 'নাটু নাটু' গান

Naatu Naatu Golden Globe: ‘মিরাপা টোক্কু’ (লাল লঙ্কা) ‘দুমুকুল্লাদাতাম’ (উপরে নিচে লাফানো) শব্দগুলি তেলেঙ্গানায় খুব সাধারণ কথ্য শব্দ। সেই সময় তেলেঙ্গানার প্রধান খাবার ছিল জোয়ার। এই খাবার খাওয়া হতো ঝাল ঝাল লাল লঙ্কা দিয়ে।

অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এই দাবি প্রথমেই হোঁচট খায় অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাপক ও বিবিধ ব্যবহারের প্রসঙ্গে এসে। অ্যালুমিনিয়াম সর্বত্র ব্যবহৃত, অর্থাৎ সমস্যা কেবল ফয়েলই নয়। অ্যালুমিনিয়াম প্রাকৃতিকভাবেই মেলে এবং ভূত্বকের উপর পাওয়া যায় এমন তৃতীয় সর্বাধিক উপাদান হচ্ছে এই অ্যালুমিনিয়াম। প্রাকৃতিক অবস্থায়, এটি সাধারণত অন্যান্য উপাদান যেমন ফসফেট এবং সালফেটের সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। তাই ফুড প্যাকেজিং, বেকিং ট্রে এবং প্রসাধনী দ্রব্য ছাড়াও মাটিতে, পানীয় জলে, এবং আমাদের খাদ্যে (প্রাকৃতিকভাবে ফল, সবজি, মাংস, মাছ, শস্য এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যে অ্যালুমিনিয়াম মেলে) অ্যালুমিনিয়াম রয়েইছে।

ফুড অ্যাডিটিভিস, যেমন প্রিজারভেটিভস, খাবারের রং এবং কৃত্রিম থিকনারগুলিতেও অ্যালুমিনিয়াম থাকে এবং কখনও কখনও বাড়িতে রান্না করা খাবারের চেয়ে ঢের বেশি পরিমাণেই থাকে। আমরা যে পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম খাই তা কয়েকটি কারণের উপর নির্ভর করে। খাদ্যের মধ্যে অ্যালুমিনিয়াম কতটা সহজে শোষিত হয়, যে মাটিতে খাদ্য জন্মেছিল সেখানে অ্যালুমিনিয়াম কতটা ছিল, কীভাবে খাবারটি প্যাকেজজাত করা হয়েছিল এবং সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তাতে কিছু মেশানো হয়েছিল কিনা, এই সব বিষয়গুলি ঠিক করে অ্যালুমিনিয়াম আমাদের কতটা বিপদের মুখে ফেলছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রান্নার মশলা টিকে থাকবে বছরের পর বছর! শার্ক ট্যাঙ্কে দুই ভাইয়ের যে প্রযুক্তি ঝড় তুলল

Zoff Spices in Shark Tank India : এই প্রযুক্তি আর কাজ ভারতের মশলা ব্যবসা জগতের ছবিটাকেই সম্পূর্ণ বদলে দেবে, এমনটাই মনে করছেন আমান।

এই ধাতুটি অনেক ওষুধে, বিশেষ করে অ্যান্টাসিডগুলিতে স্বল্প পরিমাণে উপস্থিত থাকে। কিন্তু এই সমস্ত ক্ষেত্রে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, যে অ্যালুমিনিয়াম আমরা গ্রহণ করি তার সামান্য ভগ্নাংশই আসলে শরীর দ্বারা শোষিত হয়। এর বাকি অংশ আমাদের মল বা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর দেহ থেকে বের করে দেয়।

তবে এটা সত্যিই যে অ্যালুমিনিয়াম স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে, তবে তা অবশ্যই উচ্চ মাত্রায় শরীরে গেলে। কিছু গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, অ্যালুমিনিয়াম আলঝাইমার্সের অন্যতম কারণ। অ্যালঝাইমার্স আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেহে এই অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ছিল বেশ উচ্চ মাত্রায়। অনেকে আবার মনে করেন, অ্যালুমিনিয়াম ক্যান্সারের সঙ্গেও সংযুক্ত হতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত করে তা প্রমাণ করতে আরও বড় মাপের গবেষণা প্রয়োজন।

কিন্তু ফয়েল কতটা বিপজ্জনক আসলে?

অনেক ধাতুর মতোই অ্যালুমিনিয়ামও আমরা যে পরিমাণ ব্যবহার করি তা কমিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সম্পূর্ণরূপে অ্যালুমিনিয়াম বর্জন করা কঠিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলছে, আমাদের দেহে কম মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম থাকা গ্রহণযোগ্য, প্রতি সপ্তাহে শরীরের ওজনের প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ২ মিলিগ্রাম অ্যালুমিনিয়াম কোনও ক্ষতি করে না।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, অন্যান্য আবরণের মতোই রান্নার পাত্রে এবং ফয়েলে থাকা অ্যালুমিনিয়াম আমাদের খাবারে প্রবেশ করতে পারে। কীভাবে? যে তাপমাত্রায় আমরা রান্না করি তাতে কতটা অ্যালুমিনিয়াম নরম হয়ে খাবারে মিশছে, খাবারের অম্লতা এবং অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতি, যেমন মশলা এবং নুন অ্যালুমিনিয়ামের মিশ্রণকে ত্বরান্বিত করে। ২০০৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ফয়েলে প্রস্তুত বেকড রেড মিটে অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ৮৯ শতাংশ থেকে ৩৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে!

তবে আশ্চর্যজনক ঘটনা হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও দৃঢ় প্রমাণ নেই যে ফয়েল থেকে অ্যালুমিনিয়াম শরীরে ঢুকে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে উচ্চ তাপমাত্রায় ফয়েল দিয়ে রান্না করা এড়িয়ে, খাবারে কম ফয়েল ব্যবহার করে, অ্যালুমিনিয়াম পাত্রের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এবং অ্যাসিডিক খাবারের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল মেশানোর মতো বিষয় এড়িয়ে চললে শরীরের বিপদ এড়ানো যাবে তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যের পরিবর্তে বাড়িতে রান্না করা খাবারের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ালে যে পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম গ্রহণ করছি আমরা, তা সহজেই কমানো যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।