একটু শুক্রাণু দিলেই মিলবে মোটা অঙ্কের টাকা! ছাত্রদের কাছে কেন এমন আবেদন চিনের?
China Student Sperm Donation : কোনও বিজ্ঞাপনী টোপ নয়; আক্ষরিক অর্থেই এমন আবেদন সাড়া ফেলে দিয়েছে চিনে। কিন্তু এমন কাজ কেন?

এখনও পড়াশোনা করছেন? ছাত্র জীবন কাটাচ্ছেন? হাতে টাকার দরকার? তাহলে আর দেরি নয়, সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। ছোট্ট একটা কাজ করুন, বদলে হাজার হাজার টাকা ‘পুরস্কার’ পেয়ে যান! কিন্তু কী সেই ‘সামান্য কাজ’? সেরকমই কিছুই না, নিজের শুক্রাণু দান করতে হবে। তাহলেই হাতে চলে আসবে মোটা অঙ্কের টাকা! কোনও বিজ্ঞাপনী টোপ নয়; আক্ষরিক অর্থেই এমন আবেদন সাড়া ফেলে দিয়েছে চিনে। সেখানকার ছাত্রদের কাছে এমনই আবেদন করেছে স্পার্ম ব্যাঙ্কগুলি। সেই কাজে সাহায্য করছে খোদ সরকারও! কিন্তু হঠাৎ করে এমন কাজ কেন?
ফেব্রুয়ারির প্রথম দিক থেকেই এমন অদ্ভুত আবেদনের কাজ শুরু হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের ইয়ুনান হিউম্যান স্পার্ম ব্যাঙ্কের তরফে প্রথমবার এমন করা হয়। চিনের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ছাত্রদের কাছে আবেদন করা হয়, তাঁরা যেন এগিয়ে এসে নিজেদের শুক্রাণু দান করেন। তারপরই আরও বেশকিছু স্পার্ম ব্যাঙ্ক এই কাজে এগিয়ে এসেছে। তারাও শুক্রাণু দানের কথা ঘোষণা করেছে। খোদ সরকারের তরফ থেকেও এমন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
তবে শুক্রাণু দেওয়ার আগে অবশ্যই শারীরিক পরীক্ষা করে নেওয়া হবে। কোনও সংক্রামক, জিনগত রোগ থাকলে বাতিল করা হবে। বয়স ও উচ্চতারও নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে স্পার্ম ব্যাঙ্কগুলির। সবগুলি ধাপ পেরনোর পর যে ছাত্ররা শুক্রাণু দান করবেন, তাঁদের দেওয়া হবে মোটা অঙ্কের পুরস্কার। যার পরিমাণ প্রায় ৪৫০০ উয়ান বা ৬৬৪ ডলার টাকা! উচ্চতা, শারীরিক বৈশিষ্ট্য ভালো হলে এই টাকার অঙ্কটি আরও বাড়বে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫০,০০০ টাকা! কিন্তু হঠাৎ এমন উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে চিনে?
কারণ, চিনে মানুষের জন্মের গ্রাফ ক্রমশ নিচের দিকে যাচ্ছে। ২০২২ সালেই সেই খবর গোটা পৃথিবীতে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছিল। চিনের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬১ বছরে প্রথমবার দেশের জনসংখ্যার গ্রাফ নিচের দিকে। প্রতি হাজার জনের হিসেবে জন্মহার এসে দাঁড়িয়েছে ৬.৭-এ। চিনের প্রশাসনের বক্তব্য, ১৯৮০-র পর থেকেই একটু একটু করে জনসংখ্যা কমতির দিকে। এদিকে গোটা দেশে ‘এক পরিবার এক সন্তান’ নীতিও জারি রয়েছে। মূলত এর জন্যই এমন অবস্থা দেখা দিয়েছে। সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই এই কাজটি করছেন। ২০১৬ সালে একের জায়গায় দুই সন্তান নীতির অনুমতি দিলেও জন্মহার বাড়ানো যায়নি। সেইসঙ্গে কালের নিয়মে চিনের বয়স্কদের একটা প্রজন্মও একটু একটু করে শেষ হয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারীতে ব্যাপক মৃত্যুও জনসংখ্যার রেকর্ডে প্রভাব ফেলেছে। সব মিলিয়ে ব্যাতিব্যস্ত চিন।
সেজন্যই নতুন এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চিন প্রশাসনের নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে প্রায় প্রতিটি স্পার্ম ব্যাঙ্কেই। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের থেকে চাওয়া হচ্ছে শুক্রাণু। একবার সংগ্রহ করার পর সেটিকে সংরক্ষণ করে রাখা হবে। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী সেই শুক্রাণু ব্যবহার করা হবে। আপাতত জন্মহার ফের বাড়ানোর জন্য এমনটাই অন্যতম উপায় হিসেবে দেখছে সিন প্রশাসন। স্পার্ম ব্যাঙ্কগুলিও সক্রিয় হচ্ছে। এই ঘোষণা আপাতত নেট মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। পুরস্কার, মোটা অঙ্কের টাকা হয়তো ছাত্রদের টেনে আনবে এদিকে, আশাবাদী তারা।















