রোগের মতোই ভয়ানক 'ছোঁয়াচে'! একজনের দেখলে অন্যদেরও কেন হাই ওঠে, জানেন?

Yawning is Contagious : হাই তোলার আওয়াজ শুনলেও একই অবস্থা। এই মুহূর্তে যখন এই লেখাটি পড়ছেন, ছবিটি দেখেও আপনার হাই পাবে।

inscript
২ মিনিট
রোগের মতোই ভয়ানক 'ছোঁয়াচে'! একজনের দেখলে অন্যদেরও কেন হাই ওঠে, জানেন?

এই স্টোরিটি যখন পড়ছেন, নিশ্চিত কেউ না কেউ ছবিটি দেখামাত্রই হাই তুলতে শুরু করেছেন। কিংবা পড়তে পড়তে হাই উঠছে বারবার। পৃথিবীর যে দেশেরই মানুষ হন না কেন, যে ভাষা-জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের হন না কেন, এই একটা ব্যাপার থেকে আমাদের রেহাই নেই। হাই তুলতে শুরু করলে যেন থামতে আর চায় না। কিন্তু একটা জিনিস নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন। ঠিক যে মুহূর্তে হাই তুলছেন, তখন একবার ভালো করে চারিদিকটা দেখে নিন। যদি আপনার সঙ্গে এক বা একাধিক মানুষ থাকেন, তাহলে তাঁদেরও হাই উঠবে! এমনকী, হাই তোলার ছবি দেখলে, বা ফোনের ওপার থেকে হাই তোলার আওয়াজ শুনলেও একই অবস্থা। এই মুহূর্তে যখন এই লেখাটি পড়ছেন, ছবিটি দেখেও আপনার হাই পাবে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কেন এমন হয়? একজনের হাই উঠলে সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের মানুষেরও ওঠে কেন? এটা তো কোনও জীবাণু সংক্রমণের মতোই ছোঁয়াচে! এমন ‘ছোঁয়াচে’ হাইয়ের পেছনে কারণ কী? বহুদিন ধরে বহু মানুষ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন। সেখানেও নানা মুনির নানা মত। তর্ক, ঘটনা, বিতর্ক ইত্যাদি নানা কিছুর মাঝে আসল কারণটি খোঁজার কাজে লেগে থাকি আমরা। সত্যিই তো, কেন হাই তোলা এত ছোঁয়াচে?

তার আগে ছোট্ট করে জানা যাক, হাই কেন ওঠে। এখানেও ডাক্তারদের মধ্যে মতভেদ আছে। একাংশের মতে, শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে হাই ওঠে। তখন একসঙ্গে অনেকটা বেশি পরিমাণে বাতাস বুকের ভেতর ভরে নেওয়া যায়। আবার অনেকের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তির জন্য হাই ওঠে। কাজ করতে করতে, খাটনিতে আমাদের মস্তিস্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। গরম হয়ে যায়। তাকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্যই এই হাই তোলা। সেইসঙ্গে ঘুমও পায়। অনেক ডাক্তারই বলেন, হাই তোলার সময় মুখে হাত রাখতে। কারণ, তা হলে মুখের ভেতরে থাকা জীবাণু সহজে ছড়াতে পারবে না।

কিন্তু হাইয়ের এমন সংক্রমণের কারণ? বহুদিন ধরে এটা নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষকদের মতে, হাইয়ের এমন ‘ছোঁয়াচে’ স্বভাবের কারণ খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে অনেকটা বছর আগে। তখনও সভ্যতা এমন পর্যায় পৌঁছয়নি। মানুষ তখন সভ্যতার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়, গুহায় বসবাস করছে। একসঙ্গে, দলবদ্ধভাবে সমস্ত কাজ করত তারা। জিনগতভাবে সেই স্বভাবটা মানুষের মধ্যে থেকে গিয়েছে। আজও মানুষ দলবদ্ধ জীব। আর এখানেই লুকিয়ে আছে হাইয়ের রহস্য, এবং জড়িয়ে রয়েছে মিরর নিউরোনের ভূমিকা।

কী সেটা? একজনকে কষ্ট পেতে দেখলে আরেকজন মানুষও কষ্ট অনুভব করে। ধরা যাক, আপনার বাড়িতে কারও হাতে ছ্যাঁকা লাগল। আপনার না লাগলেও, মনে হবে যেন সেই ব্যথা আপনিও অনুভব করছেন। মানুষের জিনের ভেতরেই এই ‘সমব্যথী’ স্বভাবটি ঢুকে গিয়েছে। আর এই গোটা ব্যাপারটার জন্য দায়ী বিশেষ একপ্রকার নিউরোন, যাকে ‘মিরর নিউরোন’ বলা হয়। শুধু মানুষ নয়, শিম্পাজিদের মধ্যেও এটি দেখা যায়। এই নিউরোনের ফলেই মানুষের এই সঙ্ঘবদ্ধভাবে হাই তোলা। এর মাধ্যমে এটাও বোঝানো হয় যে, ‘আমার ঘুম পেয়েছে। এবার উঠলাম।’ সেই আদিম যুগ থেকে এই চর্চা মানুষের মধ্যে গেঁথে গিয়েছে। আর তা জিনের অংশ হয়ে গিয়েছে। তাই এই ছোঁয়াচে হাইও মানুষের জিনের মধ্যে ঢুকে আছে দৃঢ়ভাবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।