কেন মোহন ভাগবতের মুখে জেন জি বিদ্রোহ?
Mohan Bhagwat: মোহন ভাগবতের বার্তা থেকে পরিষ্কার, সঙ্ঘ চায়, রাষ্ট্র দুটি পথের কাঁটা সম্পর্কে অবহিত হোক, বৃদ্ধ ট্রাম্প এবং কৈশোর পেরোনো বিদ্রোহী।

শতবর্ষে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। সেই আবহে ১৯২৫ থেকে চলে আসা আরএসএস আয়োজিত বিজয়া দশমীর ভাষণে এবার স্বদেশী ও আত্মনির্ভরিতার উপর জোর দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর প্রধান মোহন ভাগবত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফবাণের মোকাবিলা করতে পারে আত্মনির্ভরতাই। বৃহস্পতিবার নাগপুরের কর্মসূচিতে এমনই মত তুলে ধরেন সঙ্ঘচালক। শুধু ট্রাম্প নয়, বারবার জেন জি-র কথাও টানলেন মোহন ভাগবত। প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে জেন জি প্রতিবাদে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সঙ্ঘপ্রদান? এই বার্তা কি প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও?
এদিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম না নিলেও মোহন ভাগবতের কথায় উঠে আসে, ভারত আত্মনির্ভরতা অর্জনে ব্যর্থ হলে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়বে। তা থেকে বাঁচতে দেশকে অবশ্যই দেশীয় উৎপাদনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। স্বদেশি পণ্য গ্রহণই স্বনির্ভরতা অর্জনের একমাত্র উপায়। এর কোনও বিকল্প হতে পারে না, নেই। সেই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করেন , “আত্মনির্ভর হতে পারলে তবেই ভারত, তার ইচ্ছেমতো পদক্ষেপ করতে পারবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ভাগবতের এই মন্তব্য ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করেই। কারণ, সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ট্রাম্প সরকার ভারতীয় পণ্যের উপর জরিমানা-সহ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। যার জেরে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য আজ বড় ক্ষতির সম্মুখীন। সম্প্রতি আবার ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে ওষুধ রপ্তানিতেও। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা সত্ত্বেও চিনের উপর জরিমানা বসাননি ট্রাম্প। সেই প্রসঙ্গটিরই অবতারণা দেখা গেল ভাগবতের বক্তব্যে। মোহন ভাগবতের বার্তা, ‘ভারতকে যেন অসহায়ের মতো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়।’
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Shyam Benegal: শ্যাম বেনেগাল বলছেন নেহরু ছাড়া আমদের দেশ হতো না অথচ মোদির নিন্দাও করতে চাননি তিনি।
অনিবার্যভাবেই আসে পহেলগাঁও প্রসঙ্গ। ট্রাম্পের অবস্থানকে একপেশে বলে দাবি করেছেন আরএসএস প্রধান। তাঁর কথায়, ‘পহেলগাঁওয়ের ঘটনা আমাদের বুঝতে শিখিয়েছে কোন দেশ ভারতের মিত্র আর কারা শত্রু’।
ক্রমে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জেন জি-দের নিয়েও এদিন মুখ খোলেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ নেপালে জেন জি-দের যে বিক্ষোভ, তার দরুন কেপি ওলি সরকারের এই যে পতন তা নিঃসন্দেহে একটি ‘খারাপ সংকেত’। তাঁর মতে, হিংসা সমাধান নয়। হিংসাত্মক আন্দোলন কোনও ফল দেয় না, অরাজকতা তৈরি করে। বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের পথ সুগম করে তোলে। এই ধরনের নৈরাজ্যের সংজ্ঞা দিতে মোহন ভাগবত তুলে আনলেন বি আর আম্বেদকরের কথা। বললেন, আম্বেদকর, এই অশান্তিকে নৈরাজ্যের ব্যকরণ বলে চিহ্নিত করেছেন। তবে তিনি এও মানছেন, এই নৈরাজ্যের কারণ সরকার নিজেই এবং সেই সরকারে সঙ্গে জনগণের দূরত্ব। বিশ্লেষকদের দাবি, মোহন ভাগবৎ আসলে আদানি-আম্বানি ঘনিষ্ঠ মোদি সরকারকে ঘুরিয়ে দূরত্ব কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
মোহন ভাগবতের বার্তা থেকে পরিষ্কার, সঙ্ঘ চায়, রাষ্ট্র দুটি পথের কাঁটা সম্পর্কে অবহিত হোক, বৃদ্ধ ট্রাম্প এবং কৈশোর পেরোনো বিদ্রোহী।






