৩০০-র বেশি গ্রেফতার: কেন নয়ডায় ক্ষোভে ফুঁসছে শ্রমিকরা
Noida factory workers strike: বেতন বাড়ানোর ঘোষণা সত্ত্বেও কেন থামছে না নয়ডার শ্রমিকদের আন্দোলন? সংশোধিত মজুরি কাঠামো কি সত্যিই পর্যাপ্ত, নাকি বাস্তবে তার প্রভাব পড়ছে না? জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, রাজ্যভিত্তিক বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে শ্রমিকদের এই ক্ষোভ কি বড় কোনও সংকেত দিচ্ছে?
নয়ডার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ এখন এক বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে মজুরি কাঠামো সংশোধনের ঘোষণা সত্ত্বেও আন্দোলন থামেনি, বরং আরও বেড়ে গিয়েছে। নয়ডার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল, বিশেষ করে সেক্টর ৬০, ৮০, ১২১ এবং ফেজ-২ এলাকায় হাজার হাজার কারখানার শ্রমিক রাস্তায় নামেন। তাঁদের প্রধান দাবি, বেতন বৃদ্ধি। বহু শ্রমিকের অভিযোগ, তাঁরা মাসে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে বেতন পান, যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই আন্দোলনের পেছনে একটি বড় কারণ হলো পার্শ্ববর্তী হরিয়ানায় মজুরি বৃদ্ধি। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানো হয়েছে, ফলে নয়ডার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একই ধরনের কাজ করেও দুই রাজ্যে বেতনের এত পার্থক্য শ্রমিকদের কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও পরে তা অনেক জায়গায় সহিংস রূপ নেয়। গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা সামনে আসে। পুলিশ জানায়, এই সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০০-র বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
LPG price hike India: সরবরাহ কমে যাওয়া এরং কালোবাজারির মাঝে কীভাবে টিকে থাকছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা? উজ্জ্বলা প্রকল্প কি সত্যিই কার্যকর? বাড়ি ফেরা কি একমাত্র পথ হয়ে উঠছে তাঁদের কাছে?
এই পরিস্থিতির মধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকার তড়িঘড়ি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে এবং নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে। সংশোধিত হারে গৌতম বুদ্ধ নগর (নয়ডা) ও গাজিয়াবাদ অঞ্চলে অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি প্রায় ১১,৩১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩,৬৯০ টাকা করা হয়েছে। তুলনামুলক কম দক্ষ শ্রমিকদের জন্য তা বেড়ে হয়েছে ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ১৬,৮৬৮ টাকা।
সরকারি হিসেবে এটি প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি। কিন্তু এখানেই সমস্যার শেষ নয়। শ্রমিকদের বড় অংশ এই বেতনকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তাঁদের দাবি, বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে হলে অন্তত ১৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা মাসিক আয় প্রয়োজন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে, এই নতুন মজুরি বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না। অনেক শ্রমিকের বক্তব্য, তাঁরা এখনও কারখানা মালিকদের কাছ থেকে এই নতুন বেতনের কোনো নিশ্চিত বার্তা পাননি। কারণ সরকার সরাসরি শ্রমিকদের বেতন দেয় না, দেয় বেসরকারি সংস্থা বা কারখানার মালিকরা। ফলে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক থেকেই যাচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bengali Migrant Workers: মালদহ-র সুজাপুর, হরিশচন্দ্রপুর, রতুয়া এবং মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা, লালগোলা, সামশেরগঞ্জ, সুতির মতো পরিযায়ী অধ্যুষিত বিধানসভাগুলিতে বিচারাধীন তালিকায় সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম সর্বাধিক। ভগবানগোলা বিধানসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৪ হাজার, যার মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিক প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার। বিচারাধীন তালিকায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ৪৩৫ জন, এর বড় অংশই পরিযায়ী শ্রমিক।
এই আন্দোলনের আরেকটি দিক হল জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ। বাড়িভাড়া, খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানির দাম—সবই বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি। ফলে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে ছিল, যা এই আন্দোলনের মাধ্যমে বিস্ফোরিত হয়েছে।
এছাড়াও শ্রমিকরা শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, আরও কিছু মৌলিক দাবি তুলেছেন। যেমন—নির্দিষ্ট কাজের সময় (৮ ঘণ্টা), অতিরিক্ত সময় কাজ করলে দ্বিগুণ মজুরি, এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন ছুটি। এই দাবিগুলি শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত।
এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিরোধী নেতারা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এই আন্দোলন দেশের শ্রমিকদের আর্থিক দুরবস্থার প্রতিফলন।
এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে শ্রমনীতি, মজুরি কাঠামো এবং শিল্প সম্পর্ক নিয়ে আরও গভীর আলোচনা ও সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। নয়তো এই ধরনের অসন্তোষ বারবার সামনে আসতেই থাকবে।






