ঘরে ঘরে শিশুদের শরীরেও হানা দিচ্ছে এই ঘাতক ডায়াবেটিস! কীভাবে লক্ষণ চিনবেন

Lean Diabetes Type 2: কীভাবে শনাক্ত করবেন এই রোগ? প্রতিকার কীভাবে?

Ahana Das
৩ মিনিট
ঘরে ঘরে শিশুদের শরীরেও হানা দিচ্ছে এই ঘাতক ডায়াবেটিস! কীভাবে লক্ষণ চিনবেন

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভারত তথা বিশ্বে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বর্তমানে এই অসুখে আক্রান্ত গোটা বিশ্বে প্রায় ৪৩ কোটি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র (WHO) পরীক্ষানুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে এই পরিসংখ্যান ৫১ কোটিও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আজ প্রায় গড়ে ৫ জন মানুষের মধ্যে দু'জন মানুষ ডায়াবেটিস রোগের শিকার। যার মধ্যে একজন কম করে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

সাধারণত অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার কারণে মূলত টাইপ টু ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে এই ডায়াবেটিস বিশ্বের সবচেয়ে প্রচলিত রূপ। যদিও এক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণে আপেক্ষিক হ্রাস ঘটলেও, শরীরের বাকি পুষ্টিগুণ একই থাকে। মানুষের শরীরে মূলত গ্লুকোজ সঠিক পরিচালনার জন্য শরীরে ইনসুলিনের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দিলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় এবং এই কারণে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এই রোগ মূলত আগে বয়োজেষ্ঠদের মধ্যে দেখা যেত। কিন্তু এখন অনেক অল্পবয়সি ছেলে-মেয়ের মধ্যে স্বাভাবিক ওজন হ্রাস বা অস্বাভাবিক পাতলা হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যে যে কারণে ব্যক্তির শরীরে ডায়াবেটিস রোগের দেখা মেলে, তা যথেষ্টই অস্বাভাবিক একজন কমবয়সি মানুষের জন্য। এই ধরনের ডায়াবেটিসকেই 'লিন ডায়াবেটিস' বলা হয়।

কোনও ব্যক্তির অতিরিক্ত স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন হ্রাসের প্রবণতা দেখলে ধারণা করা যেতে পারে, সেই ব্যক্তি বিশেষ ডায়াবেটিস রোগের শিকার। কিন্তু টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অনেক সময়েই এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় না। আক্রান্ত ১০-১৫ শতাংশ মানুষ এমনও আছেন, যাঁদের ওজন তাঁদের উচ্চতা অনুসারে নিখুঁত এবং তাঁরা অন্যান্য রোগহীন মানুষের তুলনায়ও বেশি ফিট কিছু ক্ষেত্রে। সেই কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিসকে অনেক সময়ে 'চর্বিহীন ডায়াবেটিস'-ও বলা হয়ে থাকে।

তবে অনেক সময় শীর্ণরাও চর্বিহীন ডায়াবেটিসের শিকার হতে পারে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, চর্বিহীন ডায়াবেটিস জিনজনিত কারণেও হতে পারে। অর্থাৎ, যাদের পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা বংশগতভাবে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া জীবনযাপনের ধরনও এক্ষেত্রে বিশেষেভাবে দায়ী।প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবও চর্বিহীন ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। এমনকী, শিশুরাও লিন ডায়াবেটিসের শিকার হতে পারে।

দু'রকমের ডায়াবেটিসের মধ্যে টাইপ টু ডায়াবেটিস সবচেয়ে ক্ষতিকারক। এবং এই টাইপ টু ডায়াবেটিসের লক্ষণ-শনাক্তকরণও খুব কঠিন।

কিছু উল্লেখযোগ্য লক্ষণ উল্লেখ করা হলো, যার থেকে এই রোগটি শনাক্ত করা সহজ হবে।

ঘন ঘন প্রস্রাব

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাকে বলে টু ফিঙ্গার টেস্ট? ধর্ষণের প্রমাণে কতটা যুক্তিসম্মত এই পরীক্ষা

Two Finger Test: টু ফিঙ্গার টেস্টে কোনও মহিলার যোনিতে দু'টি আঙুল ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়, মহিলা ধর্ষিতা হয়েছেন কি না।

রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে কিডনি রক্ত ​​থেকে অতিরিক্ত শর্করাকে ফিল্টার করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে সেই ব্যক্তির, ঘন ঘন মূত্রত্যাগের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এটি বিশেষত রাতেই হয়ে থাকে।

তৃষ্ণা বৃদ্ধি

ঘন ঘন মূত্রত্যাগের ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে পর্যাপ্ত জলের ঘাটতি হয়। ঘটনাসূত্রে ব্যক্তিটির ডিহাইড্রেশন হয়, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও অতিরিক্ত প্রস্রাব- এই দুইই ক্রমাগত চক্রাকারে হতেই থাকে।

অত্যধিক ক্ষুধা

ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায়ই তাদের খাবার থেকে পর্যাপ্ত শক্তি পান না। এবং খাবারের অতিরিক্ত দহণের ফলে তাঁদের বারবার খিদে পায়।

অস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি

রক্তে শর্করার আধিক্য চোখের ক্ষুদ্র রক্তনালিকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলতে পারে, যা থেকে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়। এটি এক বা উভয় চোখেই হতে পারে। আবার রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত থাকলে চোখের লেন্স ফুলে যায় অনেক সময়ে। এর ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।

কাটা এবং ক্ষত ধীরে ধীরে নিরাময়

রক্তে অতিরিক্ত শর্করার মাত্রাবৃদ্ধির জন্য শরীরের স্নায়ুরাশি এবং রক্তনালিগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা রক্ত ​​সঞ্চালনকে ব্যহত করে। এর ফলে সামান্য ছোট কাটা থেকেও অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে এবং ক্ষতস্থান সারতে সারতে কয়েক সময় লেগে যায়।

শুরুর দিকে এর কোনও লক্ষণই দেখা যায় না। তবে ডাক্তারদের মতে ৩৫ বছর পর, পুরুষ-মহিলা সকলকেই নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করেলে এই রোগ অনেক তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা যায়। এতে সেই ব্যক্তি প্রথম অবস্থা থেকেই নিজের খাওয়া, ঘুম ও অন্যান্য বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সঠিক ওষুধ খেয়ে নিজের সুগার কন্ট্রোল করতে পারে।

কীভাবে লিন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব

  • একেবারেই মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।

  • এই সময়ে বেশি তৈলাক্ত খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকারক।

  • মাদক সেবন একেবারেই উচিত নয়ে, স্বাস্থ্য ভালো থাকলেও নয় , খারাপ থাকলেও নয়।

  • এই সময়ে ডাক্তাররা বিশেষত চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করার কথা বলে।

  • ব্যক্তিকে নিজের প্রতিদিনের খাবারে উচ্চ-ফাইবারযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে ফেলতে হবে।

  • প্রতিদিন নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে যোগব্যায়াম করা প্রয়োজন।

তবে এই রোগের জন্য ধূমপান, ঘুমের অভাব, পুষ্টির অভাব ও অলসতা দায়ী। তবে এখনকার দিনে এই রোগে আক্রান্ত হওয়া যত সহজ, রোগ থেকে মুক্তি পাওয়াও যথেষ্ট সহজ। আপনি কেবল আপনার স্মার্টফোনে বিশেষ অ্যাপের দ্বারা আপনার সুগার লেভেলের নিয়মিত পরীক্ষা করতে পারেন। তবে ডাক্তাররা সুপারিশ করেন যে, ডায়াবেটিস রোগীদের বছরে অন্তত দু'বার A1C পরীক্ষা করানো উচিত। এখন যেটা বাড়ি বসেই কেবল স্মার্টফোনের দ্বারাও সম্ভব।

লিখেছেন
Ahana Das
Ahana Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।