কোটি টাকা আয়ের পরও আমেরিকায় তরুণরা কেন গরিব?

America's youth: আগে মধ্যবিত্ত হওয়া মানে ছিল নির্দিষ্ট একটি আয়ের সীমার মধ্যে থাকা এবং কেবল একজন উপার্জনকারীর আয়েই নিজের বাড়ি, গাড়ি ও ভবিষ্যতের সঞ্চয় নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি কেবল আয়ের অঙ্ক নয়, বরং “আর্থিক স্থিতিশীলতা” অর্জনের এক কঠিন লড়াই।

Debasis Mithiya
৬ মিনিট
কোটি টাকা আয়ের পরও আমেরিকায় তরুণরা কেন গরিব?

উন্নত জীবনের অদম্য স্বপ্ন আর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি নিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় মেধাবীরা আমেরিকায় পাড়ি দেন। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ এই আমেরিকাতেই আজ ভালো নেই সাধারণ মানুষ; বিশেষ করে এখানকার মধ্যবিত্ত সমাজ। তারা এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষে এই রূঢ় সত্য সামনে এসেছে।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসে (ডিসেম্বর ২০২৫) প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদন আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের যে আর্থিক ছবি তুলে ধরেছে, তা কেবল হতাশাজনকই নয়, বরং ভয়েরও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ডলারে মানুষের আয় বাড়লেও জীবনযাত্রার প্রকৃত মান ক্রমাগত কমছে। বদলে যাচ্ছে ‘মধ্যবিত্ত’ হওয়ার চিরচেনা সংজ্ঞা।

বদলে যাওয়া সংজ্ঞা: ১৯৬০ বনাম ২০২৫

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনে ১৯৬০-এর দশকের সঙ্গে ২০২৫ সালের আমেরিকার জীবনযাত্রার একটা তুলনা করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আগে মধ্যবিত্ত হওয়া মানে ছিল নির্দিষ্ট একটি আয়ের সীমার মধ্যে থাকা এবং কেবল একজন উপার্জনকারীর আয়েই নিজের বাড়ি, গাড়ি ও ভবিষ্যতের সঞ্চয় নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি কেবল আয়ের অঙ্ক নয়, বরং “আর্থিক স্থিতিশীলতা” অর্জনের এক কঠিন লড়াই।

২০২৫-এর নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত হওয়া মানে হলো আবাসন, চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার আকাশচুম্বী ব্যয় মেটানোর পর হাতে সামান্য কিছু অর্থ থাকা। এই পরিস্থিতির কারণেই বছরে দেড় লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা) আয় করেও অনেকে আজ নিজেকে মধ্যবিত্ত ভাবতে পারছেন না। বাড়ির মালিকানা আজ এক দুর্লভ বিলাসিতা, আর স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপার্জনই এখন টিকে থাকার একমাত্র উপায়।

পরিসংখ্যান বনাম বাস্তবতা: “The Math Isn’t Mathing”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের পর ট্রাম্পকে নোবেল: মাচাদোর আসল স্বার্থ কোথায়?

Nobel Peace Prize controversy Maria Corina Machado: মাচাদোর রাজনৈতিক অতীত খতিয়ে দেখলে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সঙ্গে একাধিক মৌলিক অসঙ্গতি চোখে পড়ে। ২০১৮ সালে তিনি সরাসরি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চিঠি লিখে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের জন্য বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বর্তমানে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের সরকার এবং শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা যখন জিডিপি-র বৃদ্ধি বা বেকারত্বের নিম্ন হার দেখিয়ে দাবি করছেন আমেরিকানরা এখন আগের চেয়ে বেশি ধনী, তখন দেশটির ২০ এবং ৩০-এর কোঠায় থাকা তরুণরা (মিলেনিয়াল ও জেন-জি) সেই দাবির সঙ্গে একমত হতে পারছেন না। উচ্চশিক্ষিত ও বড় পদে কর্মরত ব্যক্তিরাও নিজেদের এখন “Working Poor” বা কর্মজীবী দরিদ্র মনে করছেন। তাদের ভাষায়— “The Math Isn’t Mathing” (অঙ্ক মিলছে না)। কারণ, তাদের ছয় অঙ্কের বেতন বর্তমান খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় নগণ্য।

এখন প্রশ্ন হল কেন আমেরিকার মধ্যবিত্তের জীবনের অঙ্ক মিলছে না? কেন তারা নিজেদের ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়া মনে করছেন?

আয়ের বৃদ্ধি: একটি পরিসংখ্যানগত ধোঁয়াশা

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরো এবং ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জিনিসপত্রের বাড়তি দামের হিসেব মাথায় রেখেও দেখা যাচ্ছে যে, গত ৬০ বছরে মানুষের গড় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৬০ সালে একটি পরিবারের বার্ষিক গড় আয় ছিল (২০২৪ সালের ক্রয়ক্ষমতার হিসেবে) প্রায় ৪৯,২৩২ ডলার, যা ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ৮৩,৭৩০ ডলারে। কাগজে-কলমে এই বৃদ্ধি প্রায় ৭০%। একে দারুণ এক অগ্রগতি মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক কঠিন কাঠামোগত সত্য। ১৯৬০-এর দশকে একটি পরিবার চলত মূলত একজন উপার্জনকারীর আয়ে; কিন্তু বর্তমানে এই ৮৩,৭৩০ ডলার অর্জিত হচ্ছে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের পূর্ণকালীন ‘দ্বৈত আয়ের’ (Dual Income) মাধ্যমে। অর্থাৎ, পরিবারের মোট আয় সামান্য বাড়লেও সেই অর্থ উপার্জন করতে এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ শ্রম-ঘণ্টা ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাইল্ড-কেয়ার, যাতায়াত এবং জীবনযাত্রার আনুষঙ্গিক বাড়তি খরচ, যা বর্ধিত আয়ের সিংহভাগই গিলে খাচ্ছে। সহজ কথায়, গত ছয় দশকে আমেরিকান পরিবারগুলোর প্রকৃত সঞ্চয় বা স্বস্তি বাড়েনি, বরং আয়ের পেছনে হাড়ভাঙা খাটুনি বেড়েছে। ফলে পরিসংখ্যানের এই বৃদ্ধি জীবনযাত্রার মান উন্নত করার বদলে পরিবারগুলোকে আরও বেশি ক্লান্ত, সময়হীন ও দিশেহারা করে তুলেছে।

আবাসন সংকট: মধ্যবিত্ত স্বপ্নের প্রধান অন্তরায়

আমেরিকার মধ্যবিত্ত জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন এখন আবাসন ব্যয়। ১৯৬০-এর দশকে একটি নিজের বাড়ির মালিক হওয়া যতটা সহজ ছিল, বর্তমান প্রজন্মের কাছে তা কয়েক গুণ বেশি দুর্লভ। ১৯৬০ সালে বাড়ির দাম এবং বার্ষিক আয়ের অনুপাত ছিল ২.১:১; অর্থাৎ একজন আমেরিকান তার মাত্র ২ বছরের কিছু বেশি সময়ের আয় দিয়ে একটি আস্ত বাড়ি কিনে ফেলতে পারতেন। ২০২৪ সালে এই অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫:১ এর কাছাকাছি। এর মানে হলো, এখন একটি বাড়ি কিনতে হলে একজন মানুষকে তার অন্তত ৫ বছরের সম্পূর্ণ আয় ব্যয় করতে হচ্ছে।

বাড়ি কেনার প্রথম ধাপ বা ‘ডাউন পেমেন্ট’ দেওয়াও এখন এক দুঃসাধ্য লড়াই। ১৯৬৫ সালে একটি বাড়ির ২০% ডাউন পেমেন্ট করতে বার্ষিক গড় আয়ের মাত্র ৫৮% সঞ্চয় করলেই চলত। কিন্তু বর্তমানে সেই একই পরিমাণ ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করতে বার্ষিক আয়ের প্রায় ১০৭% সঞ্চয় করার প্রয়োজন পড়ে, যা এক বছরের মোট আয়ের চেয়েও বেশি। এই আকাশচুম্বী ব্যয়ের কারণেই ১৮-৩৪ বছর বয়সি আমেরিকানদের মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার হার ১৯৬০-এর ২৯% থেকে বেড়ে বর্তমানে অর্ধেকের বেশি (৫২%-৫৭%) হয়েছে। অর্থাৎ, নিজের একটি ছাদ এখন সাধারণ মধ্যবিত্তের কাছে অধিকার নয়, বরং এক অধরা বিলাসিতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শাসক বিরোধী গণআন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ইরানে পুতুল সরকার বসাতে চাইছেন ট্রাম্প

Iran protests: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের 'মুক্তির' আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইজরায়েল এই বিক্ষোভকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিক্ষোভকারীদের বীরত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন

উচ্চশিক্ষার ব্যয় এবং ঋণের শৃঙ্খল

১৯৬০-এর দশকে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা ছিল স্বপ্ন পূরণের একটি সাশ্রয়ী মাধ্যম, যা বর্তমানে এক বিশাল ঋণের বোঝায় পরিণত হয়েছে। ১৯৬৩ সালে পাবলিক কলেজে এক বছরের পড়াশোনার খরচ ছিল আজকের বাজারমূল্যে মাত্র ৪,৯৩৯ ডলার। ২০২৪ সালে এই খরচ বেড়ে ১৪,৬৮৮ থেকে ২৮,০০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৭০-এর দশকে একজন শিক্ষার্থী বছরে মাত্র ৩০০ ঘণ্টা ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করলে তার বার্ষিক টিউশন ফি দিতে পারত। ২০২৪ সালে সেই একই খরচ মেটানোর জন্য তাকে ১,০০০ ঘণ্টারও বেশি কাজ করতে হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রঋণের মোট পরিমাণ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবা : একটি বিশাল অর্থনৈতিক ঝুঁকি

স্বাস্থ্য পরিষেবায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বিশ্বের সব দেশের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি এটি মধ্যবিত্তের সঞ্চয় শেষ করে দেওয়ারও অন্যতম প্রধান কারণ। ১৯৬০ সালে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপি-র মাত্র ৫% ব্যয় হতো, যা বর্তমানে ১৮%-এ দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার চড়া বিলের ভয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান গুরুতর অসুস্থতা ছাড়া ডাক্তার দেখাতে বা চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেন। সামান্য একটি অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারকে রাতারাতি নিঃস্ব করে দিতে পারে। ফলে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও এর চড়া খরচ মধ্যবিত্তের মনে সবসময় এক ধরনের তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও দারিদ্র্যের আতঙ্ক জিইয়ে রাখে।

অবসরের অনিশ্চয়তা: পেনশন থেকে ৪০১ (কে)

১৯৬০-এর দশকে মধ্যবিত্তের জন্য অবসরকালীন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছিল সুনিশ্চিত। কিন্তু বর্তমানে তা-ও নেই। ১৯৮০ সালে বেসরকারি খাতের ৬৪% কর্মী ‘ডিফাইন্ড বেনিফিট’ বা আজীবন পেনশন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা তাদের বার্ধক্যে একটি নির্দিষ্ট আয়ের গ্যারান্টি দিত। বর্তমানে মাত্র ১৫-২০% কর্মী এই সুবিধা পান। আর ৮০% কর্মী ৪০১(কে) প্ল্যানের উপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো— অবসরের সঞ্চয় এখন শেয়ার বাজারের ওঠানামার উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, শেয়ার বাজার ধসে পড়লে একজন মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয় এক নিমেষেই শেষ হয়ে যেতে পারে। এই চরম অনিশ্চয়তার কারণেই প্রায় ৪৩% জেন-জি মনে করেন, তাদের আমৃত্যু কাজ করে যেতে হবে এবং তারা কখনোই অবসর নিতে পারবেন না।

দ্য টু-ইনকাম ট্র্যাপ

এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং আমেলিয়া তিয়াগির গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানের দ্বৈত আয়ের পরিবারগুলো ১৯৬০-এর দশকের একক আয়ের পরিবারের তুলনায় ঐতিহাসিকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৭০-এর দশকে একটি পরিবার তাদের আয়ের প্রায় ৫০% আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে খরচ করত। বর্তমানে এই খাতগুলিতে ব্যয়, আয়ের ৭৫% দখল করে নিচ্ছে। এখানেই মূল ট্র্যাপ বা ফাঁদটি লুকিয়ে আছে। আগে একজন অসুস্থ হলে অন্যজন কাজ করে পরিবার সামলাতে পারতেন; কিন্তু এখন স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করায় পরিবারের হাতে কোনো ‘ব্যাকআপ’ বা বাড়তি সময় থাকে না। এই পারিবারিক অনিশ্চয়তার বাইরেও তাদের জীবনযাত্রার ধরন নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে তরুণদের শৌখিনতাকে দারিদ্র্যের কারণ হিসেবে মনে করলেও তথ্য আলাদা কথা বলছে; আমেরিকানরা এখন ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় জামাকাপড়, খাবার এবং গৃহস্থালি সরঞ্জামের পেছনে অনেক কম খরচ করছেন। তাদের সংকটের মূল কারণ বিলাসিতা নয়, বরং আকাশচুম্বী আবাসন এবং শিক্ষা ব্যয়, যা বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

মনস্তাত্ত্বিক চাপ: ভাইবেসেশন ও মানি ডিসমরফিয়া

কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং কিছু নতুন মনস্তাত্ত্বিক সংকটও বর্তমান প্রজন্মকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভাইবেসেশন ও মানি ডিসমরফিয়া।

ভাইবেসেশন এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলো (যেমন জিডিপি বা বেকারত্বের হার) ভালো দেখালেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হয় নেতিবাচক। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে অর্থনীতি শক্তিশালী হলেও মানুষ যখন বাজারে যান বা নিত্যদিনের বিল পরিশোধ করেন, তখন তারা তীব্র আর্থিক অভাব টের পান। এই ‘ভালো সূচক’ বনাম ‘ব্যক্তিগত খারাপ অনুভূতি’র ব্যবধানটিই হলো ভাইবেসেশন।

অন্যদিকে মানি ডিসমরফিয়া মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার সৃষ্টি। ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে অন্যদের জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাত্রা, দামি গাড়ি বা বিলাসবহুল ভ্রমণের ছবি দেখে তরুণরা নিজের অর্জিত আয়ের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। নিজের আয় সম্মানজনক হওয়া সত্ত্বেও তারা হীনম্মন্যতায় ভোগেন এবং মনে করেন তারা অন্যদের চেয়ে অনেক পিওছিয়ে গেছেন। এই কৃত্রিম হীনম্মন্যতা তাদের সঞ্চয় বা ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এই মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা এবং জীবনযাত্রার চড়া মূল্যের চাপে পড়ে প্রায় ৪৫% আমেরিকান আজ একটি চাকরিতে ভরসা করতে পারছেন না। টিকে থাকার তাগিদে তারা মূল চাকরির পাশাপাশি ক্লান্তিহীনভাবে ‘সাইড হাসল’ বা বাড়তি ছোটখাটো কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে একসময়ের কাঙ্ক্ষিত ‘আমেরিকান ড্রিম’ আজ স্রেফ টিকে থাকার এক অন্তহীন সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মানুষের হাতে দামি মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখে তাদের ‘ধনী’ ভাবছেন, অথচ প্রযুক্তির কারণে এসব জিনিসের দাম এখন নাগালের মধ্যে। এটা মনে রাখতে হবে দামি ফোন থাকলেই জীবন নিরাপদ হয় না— এই সাধারণ সত্যটিই তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন। আমেরিকার বর্তমান প্রজন্ম এখন নিজেদের দরিদ্র মনে করছেন কারণ তাদের কাছে দারিদ্র্যের সংজ্ঞাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা বলেন, দারিদ্র্য মানে কেবল খাবার বা পোশাকের অভাব নয়; বরং একটি স্থিতিশীল জীবনের জন্য যা যা প্রয়োজন, (যেমন, একটি নিজের বাড়ি, ঋণমুক্ত শিক্ষা এবং অবসরের পরের নিরাপত্তা) সেগুলো নাগালের বাইরে থাকাই দারিদ্র্যতা। দামি স্মার্টফোন তাদের হাতে থাকলেও, একটি নিশ্চিত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলেছেন। প্রযুক্তির উন্নয়ন জীবনকে চাকচিক্যময় করলেও মধ্যবিত্ত জীবনের ‘প্রবেশ মূল্য’ অবিশ্বাস্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ১৯৬০-এর দশকের তুলনায় পরিসংখ্যানগতভাবে আয় বাড়লেও, মানসিক প্রশান্তি এবং জীবনযাত্রার প্রকৃত মানের দিক থেকে বর্তমান আমেরিকান তরুণরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন।

লিখেছেন
Debasis Mithiya
Debasis Mithiya
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।