কনকচুড় ধানের খই, গাওয়া ঘি আর খাঁটি নলেন গুড়ের সঙ্গত, জয়নগরের মোয়ার স্বাদে মজে গোটা বাংলা

Joynagorer Moya : কনকচুড় ধানের খই, গাওয়া ঘি আর খাঁটি নলেন গুড়ের সঙ্গত, তাতেই খোয়া ক্ষীর, এলাচ, পেস্তা, কাজু, কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে তোলেন কারিগররা

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
কনকচুড় ধানের খই, গাওয়া ঘি আর খাঁটি নলেন গুড়ের সঙ্গত, জয়নগরের মোয়ার স্বাদে মজে গোটা বাংলা

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর চোদ্দতম পার্বণটি হল পেটপুজো। পেটের শান্তি নিয়ে বাঙালির চিরকালই আয়েশ বেশি। তার ওপর শীতকাল মানে তো বাড়তি সংযোজন। তাই শীত শীত আমেজটা চেটেপুটে না নিলে মন ভরে না রসিক বাঙালির। এই সময় বাংলায় মিষ্টি খাওয়ার ধূম পড়ে। বাতাসে ভেসে বেড়ায় নলেন গুড়ের মৃদু গন্ধ।

নলেন গুড়ের রসগোল্লা থেকে শুরু করে বাহারি ছাপের গুড়ের সন্দেশ, রসনার তৃপ্তির সবটুকু রসায়ন যেন মিলেমিশে যায় জিভে। তবে এসবের মধ্যেও শীর্ষ স্থানটি দখল নেয় মোয়াই। হাল আমলের বাহারি নলেন গুড়ের পদের ভিড়েও মোয়ার তোয়াজ সবচাইতে বেশি। শীতকাল পড়লেই ফেরিওয়ালারা জেলায় জেলায় এমনকী বাংলার বাইরেও ‘আসল জয়নগরের মোয়া’ নিয়ে হাজির হন। পাড়ার মিষ্টির দোকান, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাস – নানা জায়গায় বিক্রি হয় ‘জয়নগরের মোয়া’। মোয়ার জন্য জয়নগর যেন একটা ব্র্যান্ড নেম। কথিত আছে, জয়নগরের মোয়া আবিষ্কার হল জয়নগর শহরের নিকটবর্তী বহরু গ্রামে। জনৈক যামিনী বুড়ো একটি অনুষ্ঠানে তিনি নিজের ক্ষেতে উৎপাদিত কনকচূড় ধানের খই ও নলেন গুড় দিয়ে মোয়া প্রস্তুত করেন মোয়া। ক্রমেই জয়নগর থেকে বহরু হয়ে মোয়া ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণবঙ্গের কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ড হারবার, গঙ্গাসাগর প্রভৃতি এলাকায়।

কনকচুড় ধানের খই, গাওয়া ঘি আর খাঁটি নলেন গুড়ের সঙ্গত, তাতেই খোয়া ক্ষীর, এলাচ, পেস্তা, কাজু, কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে তোলেন কারিগররা।মুখে দিলে গলে যায় মোয়া – সে এক জাদু। কিন্তু এমন জাদু কি বাড়িতে বানানো একেবারেই সম্ভব নয়? চাইলে কি না সম্ভব! মানুষ পারে না এমন কাজ তো বিরল! কেবল উপায়টুকু জানা থাকলেই কুছ পরোয়া নেই! কোমর বেঁধে হেঁশেলে লেগে পড়লেই হল!

কী কী উপকরণ লাগবে মোয়া বানাতে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আসছে গুড়ের মরশুম! স্বাদে নয় শুধু, পুষ্টিগুণেও সেরা এই শীতের মিষ্টিমুখ

Jaggery: গুড় সাধারণত শরীরকে যে কোনও অসুখ থেকে রক্ষা করে শক্তি জোগায়। একে আয়ুর্বেদিক নানা ওষুধ তৈরির কাজেও ব্যবহার করা হয়।

খই (কনকচূড় হলে ভালো) - ২০০ গ্রাম

খেজুর গুড় - ২০০ গ্রাম

চিনি - ২৫ গ্রাম

এলাচ গুঁড়ো - ১ চা চামচ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাসি দুধেই মিষ্টিমুখ! এবার পুজোয় বাড়িতেই সহজে বানিয়ে ফেলুন এই পদগুলি

নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধ দিয়েও বানিয়ে ফেলতে পারেন জিভে জল আনা মিষ্টি।

খোয়া ক্ষীর - ১৫০ গ্ৰাম

কাজু - ২৫ গ্ৰাম

কিসমিস ও পেস্তা - পরিমাণ মতো

গাওয়া ঘি - ২ চা চামচ

প্রণালী :

খেঁজুরের রসের পাকেই মোয়ার আসল স্বাদ, এমনটাই বলতে শোনা যায় পাকা হাতের ময়রাদের। তাই ঘরে বানানোর সময়ও একথা ভুলে চলবে না।প্রথমে কড়াইতে হাফ কাপ খেজুর গুড়, চিনি ও দেড় কাপ জল দিয়ে ভালো করে জাল দিতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত চিট ধরছে তাতে ফোটাতে হবে। এরপর গুড়টা একটু ঠান্ডা হলে তার থেকে একটু পাক আলাদা তুলে রেখে বাকিটাতে খ‌ই দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে খুব বেশি ঠান্ডা করা যাবে না গুড়। উষ্ণ থাকতে থাকতেই ভিজিয়ে দিতে হবে খই। এরপর ঢাকা দিয়ে ২০মিনিট মতো রাখতে হবে। খই নরম হয়ে এলে তাতে

গুঁড়ো করে রাখা খোয়া ক্ষীর গুড়ো এলাচ গুঁড়ো, আর গাওয়া ঘি মিশিয়ে তাতে আগে থেকে তুলে রাখা গুড়ের পাক অল্প অল্প করে দিয়ে হালকা হাতে ভালো করে মেখে নিতে হবে। মাখা হয়ে গেলে দু'হাত দিয়ে চেপে চেপে গোলাকার মোয়া তৈরি করুন। গোলাকার হয়ে গেলে ওপর থেকে কাজু, কিসমিস,পেস্তা আর বাকি খোয়া ক্ষীর ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে অপূর্ব স্বাদের মোয়া। পরিবার বন্ধু তো বটেই, এভাবে বাড়িতে বসে বাংলার জি.আই স্বীকৃত মিষ্টি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন অতিথিদেরও।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।