কনকচুড় ধানের খই, গাওয়া ঘি আর খাঁটি নলেন গুড়ের সঙ্গত, জয়নগরের মোয়ার স্বাদে মজে গোটা বাংলা
Joynagorer Moya : কনকচুড় ধানের খই, গাওয়া ঘি আর খাঁটি নলেন গুড়ের সঙ্গত, তাতেই খোয়া ক্ষীর, এলাচ, পেস্তা, কাজু, কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে তোলেন কারিগররা

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর চোদ্দতম পার্বণটি হল পেটপুজো। পেটের শান্তি নিয়ে বাঙালির চিরকালই আয়েশ বেশি। তার ওপর শীতকাল মানে তো বাড়তি সংযোজন। তাই শীত শীত আমেজটা চেটেপুটে না নিলে মন ভরে না রসিক বাঙালির। এই সময় বাংলায় মিষ্টি খাওয়ার ধূম পড়ে। বাতাসে ভেসে বেড়ায় নলেন গুড়ের মৃদু গন্ধ।
নলেন গুড়ের রসগোল্লা থেকে শুরু করে বাহারি ছাপের গুড়ের সন্দেশ, রসনার তৃপ্তির সবটুকু রসায়ন যেন মিলেমিশে যায় জিভে। তবে এসবের মধ্যেও শীর্ষ স্থানটি দখল নেয় মোয়াই। হাল আমলের বাহারি নলেন গুড়ের পদের ভিড়েও মোয়ার তোয়াজ সবচাইতে বেশি। শীতকাল পড়লেই ফেরিওয়ালারা জেলায় জেলায় এমনকী বাংলার বাইরেও ‘আসল জয়নগরের মোয়া’ নিয়ে হাজির হন। পাড়ার মিষ্টির দোকান, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাস – নানা জায়গায় বিক্রি হয় ‘জয়নগরের মোয়া’। মোয়ার জন্য জয়নগর যেন একটা ব্র্যান্ড নেম। কথিত আছে, জয়নগরের মোয়া আবিষ্কার হল জয়নগর শহরের নিকটবর্তী বহরু গ্রামে। জনৈক যামিনী বুড়ো একটি অনুষ্ঠানে তিনি নিজের ক্ষেতে উৎপাদিত কনকচূড় ধানের খই ও নলেন গুড় দিয়ে মোয়া প্রস্তুত করেন মোয়া। ক্রমেই জয়নগর থেকে বহরু হয়ে মোয়া ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণবঙ্গের কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ড হারবার, গঙ্গাসাগর প্রভৃতি এলাকায়।
কনকচুড় ধানের খই, গাওয়া ঘি আর খাঁটি নলেন গুড়ের সঙ্গত, তাতেই খোয়া ক্ষীর, এলাচ, পেস্তা, কাজু, কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে তোলেন কারিগররা।মুখে দিলে গলে যায় মোয়া – সে এক জাদু। কিন্তু এমন জাদু কি বাড়িতে বানানো একেবারেই সম্ভব নয়? চাইলে কি না সম্ভব! মানুষ পারে না এমন কাজ তো বিরল! কেবল উপায়টুকু জানা থাকলেই কুছ পরোয়া নেই! কোমর বেঁধে হেঁশেলে লেগে পড়লেই হল!
কী কী উপকরণ লাগবে মোয়া বানাতে?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jaggery: গুড় সাধারণত শরীরকে যে কোনও অসুখ থেকে রক্ষা করে শক্তি জোগায়। একে আয়ুর্বেদিক নানা ওষুধ তৈরির কাজেও ব্যবহার করা হয়।
খই (কনকচূড় হলে ভালো) - ২০০ গ্রাম
খেজুর গুড় - ২০০ গ্রাম
চিনি - ২৫ গ্রাম
এলাচ গুঁড়ো - ১ চা চামচ
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধ দিয়েও বানিয়ে ফেলতে পারেন জিভে জল আনা মিষ্টি।
খোয়া ক্ষীর - ১৫০ গ্ৰাম
কাজু - ২৫ গ্ৰাম
কিসমিস ও পেস্তা - পরিমাণ মতো
গাওয়া ঘি - ২ চা চামচ
প্রণালী :
খেঁজুরের রসের পাকেই মোয়ার আসল স্বাদ, এমনটাই বলতে শোনা যায় পাকা হাতের ময়রাদের। তাই ঘরে বানানোর সময়ও একথা ভুলে চলবে না।প্রথমে কড়াইতে হাফ কাপ খেজুর গুড়, চিনি ও দেড় কাপ জল দিয়ে ভালো করে জাল দিতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত চিট ধরছে তাতে ফোটাতে হবে। এরপর গুড়টা একটু ঠান্ডা হলে তার থেকে একটু পাক আলাদা তুলে রেখে বাকিটাতে খই দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে খুব বেশি ঠান্ডা করা যাবে না গুড়। উষ্ণ থাকতে থাকতেই ভিজিয়ে দিতে হবে খই। এরপর ঢাকা দিয়ে ২০মিনিট মতো রাখতে হবে। খই নরম হয়ে এলে তাতে
গুঁড়ো করে রাখা খোয়া ক্ষীর গুড়ো এলাচ গুঁড়ো, আর গাওয়া ঘি মিশিয়ে তাতে আগে থেকে তুলে রাখা গুড়ের পাক অল্প অল্প করে দিয়ে হালকা হাতে ভালো করে মেখে নিতে হবে। মাখা হয়ে গেলে দু'হাত দিয়ে চেপে চেপে গোলাকার মোয়া তৈরি করুন। গোলাকার হয়ে গেলে ওপর থেকে কাজু, কিসমিস,পেস্তা আর বাকি খোয়া ক্ষীর ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে অপূর্ব স্বাদের মোয়া। পরিবার বন্ধু তো বটেই, এভাবে বাড়িতে বসে বাংলার জি.আই স্বীকৃত মিষ্টি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন অতিথিদেরও।







