ভিসা ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ সম্ভব! এই দেশগুলি ঘুরতে ভারতীয় পাসপোর্টই যথেষ্ট

ভারতের পাসপোর্ট থাকলে আপনি বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে ভিসা ছাড়াই ঘুরে আসতে পারবেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন কিছু দেশ, যা ঘুরতে ভারতীয়দের ভিসার প্রয়োজন পড়ে না।

Piya Saha
৪ মিনিট
ভিসা ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ সম্ভব! এই দেশগুলি ঘুরতে ভারতীয় পাসপোর্টই যথেষ্ট

ঘুরতে যেতে কে না ভালবাসে! প্রত্যেকেই বছরের বিভিন্ন সময় সামর্থ্য অনুযায়ী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা বেছে নেন ছুটি কাটানোর জন্য। বিদেশ ঘুরতে যেতে পাসপোর্ট-ভিসার প্রয়োজন হয়, একথাও আমরা সকলেই জানি। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, বহু দেশে ভারতীয়দের জন্য ভিসার কোনও প্রয়োজন হয় না। কথাটা শুনে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। তাই বাড়তি ঝুটঝামেলা ছাড়াই ইচ্ছে করলেই পরিবারের সঙ্গে ঘুরে আসতে পারবেন বিদেশের এই জায়গাগুলি।

মার্কিন পাসপোর্টধারী একজন ব্যক্তি বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে, একজন ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ১৪৭টি দেশে বিনা ভিসাতেই যেতে পারেন। তবে সেই তুলনায় ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে আপনি এর থেকে কমসংখ্যক দেশেই ঘুরে আসতে পারবেন। ভারতের পাসপোর্ট থাকলে আপনি বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে ভিসা ছাড়াই ঘুরে আসতে পারবেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন কিছু দেশ, যা ঘুরতে ভারতীয়দের ভিসার প্রয়োজন পড়ে না।

১. ইন্দোনেশিয়া

গরমে আদর্শ ঘোরার জায়গা হতে পারে ইন্দোনেশিয়া। আর ইন্দোনেশিয়া মানেই রাজধানী বালি মূল আকর্ষণ। বিশেষ করে হানিমুন কাপলদের জন্য এটি আদর্শ জায়গা। মজা করে অনেকেই বলেন, বালি-র অপরূপ পরিবেশ সাজানোই হয়েছে হানিমুন কাপলদের কথা ভেবে। বালির উবুদ, উলুওয়াতু জনপ্রিয় স্থান। বালি গেলে অবশ্যই সেখানকার বিখ্যাত মন্দির দর্শন করবেন। এখানকার বিখ্যাত পাডাং পাডাং বিচে শনিবার করে নাইট পার্টি হয়। এই পার্টি একদম মিস করবেন না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা মাউন্ট বাতুর, ক্যাঙ্গু বিচ, একাধিক মন্দির, বটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, চকোলেট কারখানা এবং শাড়ির বাজার ঘুরে দেখবেন। ঘুরতে পারেন সুমাত্রা, জাভাও। ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে এই দেশে প্রবেশ এবং ৩০ দিন থাকার জন্য কোনও ভিসা লাগবে না।

২. মলদ্বীপ

বলিউড তারকাদের প্রিয় ভ্রমণ স্থান এখন মলদ্বীপ। সদ্য বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা ছোট্ট মেয়ে ভামিকাকে নিয়ে ছুটি কাটাতে পাড়ি দিয়েছিলেন এই দ্বীপে। দীপিকা, আলিয়া, ক্যাটরিনা, করিনা, তাপসী পান্নু কর্মজীবন থেকে ছুটি নিয়েই উড়ে যান মালদ্বীপে।তবে শুধু বলিউড নয়, টলিউডের তারকা-সহ অনেকেরই ড্রিম ডেস্টিনেশন বর্তমানে মলদ্বীপ। সে-দেশের সরকারের সঙ্গে ভারতের চুক্তি অনুযায়ী মলদ্বীপে প্রবেশ করতে হলে ভারতীয় নাগরিকদের কোনও ভিসা লাগবে না। গরমে সেখানকার পরিবেশ মনোরম, সমুদ্রতট এবং অত্যাধুনিক রিসর্ট ছুটি কাটানোর জন্য আদর্শ। হালকা রোদ গায়ে মেখে পানীয় হাতে তটে বিশ্রাম বা রাতের বেলার চাঁদের আলোয় রোম্যান্টিক ডিনার ডেট- সবকিছুই পাবেন মলদ্বীপে। তবে মলদ্বীপ বেড়াতে গেলে খরচ কিন্তু অনেকটাই বেশি।

৩. ​ম্যাকাও

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ? যে অসম্ভবকে সম্ভব করছে চিন

চিন নিজেদের এই স্পেস স্টেশনটিকে মহাকাশে সাধারণ মানুষের ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত করে তোলারও পরিকল্পনা করছে।

বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে বিনা মূল্যের ভিসা নিয়েই প্রবেশ করতে পারবেন এই দেশে। সৌন্দর্যের কারণে একে চিনের ভেগাসও বলা হয়। ম্যাকাও যেতে গেলে আগে থেকে ভিসা অ্যাপ্লাই করার কোনও দরকার নেই। ম্যাকাও-এর প্রাইদ্বীপ, তাইপা গ্রাম, ক্যাসিনো এবং চিনা মন্দিরগুলি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এখানকার সেরা আকর্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম হল খাবার। ম্যাকাও গেলে সেখানকার কন্টিনেন্টাল ডিশ খেতে একদম ভুলবেন না।

৪. শ্রীলঙ্কা

প্রতিবেশী এই দেশে রয়েছে মনজুড়োনো সমুদ্রসৈকত, প্রাচীন মন্দির, চা বাগান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দেশে ঘুরতে যেতে ভারতীয়দের কোনও ভিসার প্রয়োজন হয় না। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রাচীন যুগ থেকেই। এখানকার নাইন আর্চ ব্রিজ, মিহিনতালে, উনাওয়াতুনা, গাল বিহারায় এবং ডাম্বুলা গুহা মন্দির হল শ্রীলঙ্কার প্রধান দর্শনীয় স্থান।

৫. সেশেলস

পূর্ব আফ্রিকান একটি দেশ সেশেলস। এই দেশ ঘুরতে ভারতীয়দের ভিসার প্রয়োজন না পড়লেও পাসপোর্ট কিন্তু অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন। সেশেলস হল ভারত মহাসাগরের ১১৫টি দ্বীপের মধ্যে একটি দ্বীপপুঞ্জ। এই দ্বীপের দেশে কিছু অবিশ্বাস্য সমুদ্রসৈকত, সুন্দর প্রবাল-প্রাচীর এবং প্রকৃতির খেলা বিরাজ করে। মনোরম সমুদ্রসৈকতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। প্রস্লিন, মাহে এবং ডিগু এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থল।

৬. মরিশাস

ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত মরিশাস আদর্শ ভ্রমণস্থল ভারতীয়দের জন্য। এখানে ভিসা ছাড়াই ৯০ দিন কাটাতে পারবেন ভারতীয়রা। সুন্দর ক্যাসেলা বার্ড পার্ক, ইলে অক্স সার্ফস এবং প্যাম্পেলমাউসেস পার্ক, তামারিন বে, পোর্ট লুইস এবং লা ভ্যানিল ক্রোকোডাইল পার্ক ঘুরে দেখলে দ্বীপটি ছেড়ে যেতে মন চাইবে না।

৭. ভুটান

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসাবে বিবেচিত হয় ভুটান। ভারতের অন্যতম নিকটতম প্রতিবেশী দেশের মনোরম পরিবেশে আপনার প্রতিদিনের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে বাধ্য। ভিসা ছাড়া এই দেশে ভারতীয়রা ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারবেন। রঙিন দুর্গ এবং নির্মল মঠে ঘেরা এই দেশের বিখ্যাত তাক্তসাং মঠ (পারো-তে), পুনাখা জং মঠ (পুনাখা-তে) এবং কুর্জে লাখাং মঠ (বুমথাং-এ) পর্যটকদের বারে বারে আকর্ষণ করবে।

৮. নেপাল

নেপালের বরফে ঢাকা একাধিক পর্বতশৃঙ্গ পর্যটকদের আকর্ষণ কেন্দ্র। অন্নপূর্ণা, এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়প্রেমীদের জন্য স্বর্গ। এছাড়াও নেপালে বৌদ্ধ মঠ ও হিন্দু মন্দির রয়েছে। স্কাই ডাইভিং, ট্রেকিং, জিপ ফ্লাইংয়ের সুযোগ রয়েছে পর্যটকদের জন্য। এই দেশে ভারতীয় পাসপোর্টধারী যতদিন ইচ্ছে থাকতে পারবেন। তবে অবশ্যই তার জন্য ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

৯. বলিভিয়া

দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যভাগের একটি দেশ বলিভিয়া। আন্দিজ পর্বতমালায় অনেক উঁচুতে অবস্থিত এই দেশটি বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলির মধ্যে একটি। কিন্তু দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে অনেক হার মানবে অনেক ধনী দেশও। মাত্রাতিরিক্ত উচ্চতায় অবস্থিত বলে এই দেশকে অনেকে পৃথিবীর ছাদ নামেও ডাকেন। বলিভিয়ার বরফাবৃত পর্বতশৃঙ্গ, উন্মুক্ত মালভূমি এই দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছে। সঙ্গে রয়েছে সবুজ তৃণভূমি এবং ক্রান্তীয় বনাঞ্চল। ভারতীয় নাগরিকদের কোনও ভিসা লাগে না এই দেশে, কিন্তু পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্ট অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য বলিভিয়া আদর্শ। এখানকার আলিমথা দ্বীপ, মানতা পয়েন্ট, বেলিগানডু দ্বীপ ইত্যাদি বিখ্যাত।

১০. ওমান

প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। এই দেশে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি ইতিহাসবিদরাও ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। মাসকাট (ওমানের রাজধানী শহর), ওয়াহিবা স্যান্ড (বেদু উপজাতির বাড়ি, যাযাবর আরবদের একটি জাতিগত গোষ্ঠী), রাস আল জিঞ্জ (একটি কচ্ছপের সংরক্ষণাগার), নিজওয়া (পুরাতন শহর) এবং মুসান্ডাম ফজর্ডস (মুসান্দাম উপদ্বীপ)- ওমানের প্রধান আকর্ষণ।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।