-৫০ ডিগ্রিতে জমে যাচ্ছে চোখের পাতাও! বিশ্বের শীতলতম শহরে 'বাঁধাকপি পোশাক'ই বাঁচাচ্ছে প্রাণ
World's Coldest City Yakutsk: বেশ কয়েকটা মাফলার, দুই জোড়া গ্লাভস এবং একাধিক টুপি, হুডি, সোয়েটার, জ্যাকেট পরেও শীত কাটে না এখানে।

শীতে হাড়ে ঠোকাঠুকি লেগে যাচ্ছে বঙ্গে। তাপমাত্রা ১০/১২ হতে না হতেই স্নান বন্ধ, হাতে জল লাগলেই শীতল ছ্যাঁকা! লেপ কম্বল ছাড়া জীবনে কিচ্ছু চায়নি বাঙালি, এই সময় অন্তত। এদিকে কোথাও ৬ কোথাও ১২, উত্তরে কোথাও কোথাও অবশ্য আরও কম। যদি কাটাতে হতো হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রায়, ধরা যাক মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস? এই গ্রহেই এমন একটি শহর আছে যেখানে এখন তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (মাইনাস ৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) দাঁড়িয়ে।
পৃথিবীর শীতলতম শহর ইয়াকুটস্কে, অস্বাভাবিক দীর্ঘ শৈত্যপ্রবাহের ফলে এই সপ্তাহে তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। রাশিয়ান পার্মাফ্রস্টের এলাকা মস্কো থেকে ৫,০০০ কিমি পূর্বে অবস্থিত সাইবেরিয়ার একটি খনি শহর হলো ইয়াকুটস্ক। হিমাঙ্কের এতখানি নীচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়াটা অবশ্য এখানকার বাসিন্দাদের জন্য অস্বাভাবিক কিছু না। প্রায়শই থার্মোমিটারের পারদ মাইনাস ৪০ ডিগ্রির নিচে নেমে যায়।

বঙ্গেই ২ খানা সোয়েটার, ৩ খানা টুপি মাফলারে জড়িয়ে আছে মানুষ, ইয়াকুটস্কে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। এই শহরের বাসিন্দারা শীতের বিভিন্ন স্তরের পোশাক পরেন। সর্বাঙ্গ ঢেকে রেখেও তারা বিশ্বাস করেন, এমন চরম ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করা যায় না। এরম প্রবল কম তাপমাত্রায় নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে পথ একটাই। উষ্ণতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সেই অনুযায়ী পোশাক পরা, বাঁধাকপির মতো স্তরে স্তরে। নাহলে দেহও হিমাঙ্কের নীচে নেমে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। বেশ কয়েকটা মাফলার, দুই জোড়া গ্লাভস এবং একাধিক টুপি, হুডি, সোয়েটার, জ্যাকেট পরেও শীত কাটে না এখানে।

এই চরম আবহাওয়ায় থাকতে থাকতে অবশ্য অভ্যস্তই তাঁরা। তবে আশেপাশের বিচ্ছিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের উষ্ণ থাকার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ করতেই হয়। জানুয়ারি মাসটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক এখানে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনও ফ্রিজ বা ফ্রিজারের প্রয়োজন পড়ে না। সেসব ছাড়াই ফ্রোজেন মাছ মাংস বাজারে বিক্রি করা যায়। তবে এই মারাত্মক শীতে শহরের যাবতীয় পরিকাঠামোও বিপর্যস্ত হয়।

তীব্র শীতে শহরে জ্বালানির সমস্যাও দেখা দেয়। হিমাঙ্কের এত নীচে হওয়ায় জল জমাট বেঁধে পাইপ ফেটে যাচ্ছে, গরম করার ট্যাঙ্কও ভেঙে যাচ্ছে শহরে, সবকিছু জমে শক্ত। অনেক বাসিন্দাদেরই অ্যাপার্টমেন্টে ব্যাটারি ফেটে যায়, এবং নর্দমার পাইপ জমে যায়। ২০১৮ সালে এত ঠান্ডা পড়েছিল যে মানুষের চোখের পাতা অবধি জমে গিয়েছিল।

গত জুলাই মাসেও আন্তর্জাতিক খবরের শিরোনামে এসেছিল এই শহর। কাছাকাছি এলাকা থেকে দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এই অঞ্চলটিকে ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে দেয়। সাইবেরিয়ান আর্কটিকের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দাবানলের বৃদ্ধি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা।















