আসিফ, মাহফুজদের পদত্যাগ: বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন তরুণ নেতারা?

Bangladesh politics: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার ঘটনা শুধু প্রশাসনিক রুটিন নয়, এ যেন আসন্ন নির্বাচনের আগে তরুণ নেতৃত্বের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত।

inscript
৩ মিনিট
আসিফ, মাহফুজদের পদত্যাগ: বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন তরুণ নেতারা?

ঢাকার রাজনীতিতে আজ যেন হাওয়া খানিক অদ্ভুত ভাবে বদলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মহম্মদ মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার ও যুব-ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার ঘটনা শুধু প্রশাসনিক রুটিন নয়, এ যেন আসন্ন নির্বাচনের আগে তরুণ নেতৃত্বের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত। দু’জনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির ছাত্রনেতা। তাঁদের হাতে ছিল বদলের মশাল, আর আজ সেই দুই মুখই নতুন পথের খোঁজে। প্রশ্ন উঠছে, এই পথ কি বিএনপির দিকে, নাকি এনসিপির দিকে?

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পদত্যাগপত্র গ্রহণের সময় অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করে যে আবেগপূর্ণ কথা বলেছেন তাতে স্পষ্ট, অন্তর্বর্তী সরকার ব্যথিত হলেও ক্ষুব্ধ নয়। বরং এই দুই তরুণের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বিশাল ভূমিকা থাকবে বলেই সরকারের বিশ্বাস। এই দুই ছাত্রনেতার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করে বলেন, ‘অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা যেভাবে জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে অবদান রেখেছ তা জাতি মনে রাখবে। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও বিকাশে তোমরা একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবসময় তোমাদের অবদান স্মরণ করবে। আমি তোমাদের সুন্দর ও শুভ ভবিষ্যৎ কামনা করি। এত অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যা দিয়েছ তা জাতি কখনও ভুলবে না। তিনি বলেন, এটি একটি রূপান্তর মাত্র। আমি আশা করি, আগামীতে বৃহত্তর পরিমণ্ডলে তোমরা আরও বড় অবদান রাখবে।

নিজেদের কর্মের মাধ্যমে দেশের মঙ্গলে নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানিয়ে দুই ছাত্রনেতার উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সরকারে থেকে যে অভিজ্ঞতা তোমরা অর্জন করেছ, তা ভবিষ্যৎ জীবনে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।' কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ কোন দলে গড়ে উঠবে? এখানেই জল্পনা সবচেয়ে তীব্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মায়ের সঙ্কটেও দেশে ফিরলেন না তারেক রহমান! বাংলাদেশ ফিরতে বাধা কোথায়?

Tarique Rahman Still Cannot Return to Bangladesh: দলের নীতিগত অবস্থান না বদলালে তারেক ফিরতে পারবেন না, এমন ইঙ্গিত করছেন বিশ্লেষকরা। ফেরার আগে ব্রিটেনের অনুমতি লাগবে, এটিও একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রাজনৈতিক অন্দরে জোরালো প্রশ্ন উঠছে কারণ, আসিফ মাহমুদ নূরুল হক নূরের সঙ্গে সম্প্রতি দেখা করেছেন। নির্বাচনের তফসিল প্রকাশের ঠিক আগে দেখা করার স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আসিফ কি তবে এনসিপির দিকে ঝুঁকছেন? গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপি নিজেকে তরুণ-নেতৃত্বনির্ভর বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দলটির সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বহু প্রশ্ন আছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যদি অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদেরই এনসিপির উপর আস্থা না থাকে, তবে সাধারণ ভোটার কেনই বা রাখবে?

গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা তরুণরা যে আদর্শিকভাবে বিএনপির সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, এমন নয়। কিন্তু রাজনীতিতে দীর্ঘদিন দুর্বল থাকার পর বিএনপি আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে, সেই বার্তাও ভেতরে ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করেন, অভিজ্ঞ সংগঠন, মাঠে সক্রিয় প্রচার চালানোর ক্ষমতা এবং বহু বছরের পরিচিত রাজনৈতিক ব্র্যান্ড হিসেবে বিএনপি এখনও দেশের বড় শক্তি। এই কারণেই কিছু তরুণ নেতাদের কাছে বিএনপিকে ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি স্বাভাবিক ও সুবিধাজনক পছন্দ বলে মনে হতে পারে।

আবার অন্য ব্যাখ্যাও আছে। অনেকে বলছেন, আসিফ-মাহফুজরা কেউই এখনই বড় দলে যোগ দিতে চান না। বরং নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে চাইছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিপরিষদে থাকা, জাতীয় সঙ্কটকালে নেতৃত্ব দেওয়া— এসব অভিজ্ঞতা তাঁদের রাজনৈতিক বাজারমূল্য বাড়িয়েছে। তাই হয়ত তাঁরা এখন ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থান নিয়ে বিএনপি ও এনসিপি দুই পক্ষের কাছ থেকেই বার্তা শুনতে চাইছেন।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যদি তাঁরা সত্যিই এনসিপির দিকে না যায়, তবে কি এর অর্থ এই যে তরুণ নেতারা এনসিপির নেতৃত্বে আস্থা পাচ্ছে না? নূরের দল যে নিজেকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে, তা ঠিক; কিন্তু দলীয় গণতন্ত্র, নীতি-সংগত অবস্থান, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা— এসব নিয়ে এনসিপির দুর্বলতা বরাবরেরই আলোচনার বিষয়। তরুণরা যদি সত্যিই নতুন বিকল্প খুঁজতে চায়, তবে এনসিপির দ্বারা সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে কি না, তা নিয়েও এখন বড় সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

শেষে প্রশ্নটা একই জায়গায় ফিরে আসে, বিএনপি না এনসিপি, কার হাত ধরবেন আসিফ-মাহফুজরা? নির্বাচনের প্রাক্কালে এই প্রশ্নের উত্তরই হয়ত নতুন রাজনৈতিক জোট ও সমীকরণের ভিত্তি নির্ধারণ করবে। তাঁদের রাজনৈতিক পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু ব্যক্তিগত নয়, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের মানচিত্র কীভাবে পুনর্গঠিত হবে, তা-ও নির্ভর করবে তাঁদের সিদ্ধান্তের উপর।

এই মুহূর্তে উত্তর অজানা। তবে আসিফ ও মাহফুজ যে দিকেই ঝুঁকবেন, তা নিছক দলবদল হবে না; বরং তা হবে নতুন রাজনৈতিক ঘোষণা।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।