হঠাৎই হাতে এসে পড়ল লাঠির বাড়ি! পুলিশের যে ভয়াবহ রূপ দেখেছি যুবভারতীর বাইরে

Mohun Bagan and East Bengal Supporters' Protest: আমি লাঠিপেটার আওয়াজ শুনে অন্ধকার, মানে শেডের থেকে বাইরে ফুটপাথের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করি। আর ঠিক তখনই পুলিশ আমাদের কাছে এসে পড়ে এবং আমার পাশের ছেলেটিকে মারে।

inscript
৩ মিনিট
হঠাৎই হাতে এসে পড়ল লাঠির বাড়ি! পুলিশের যে ভয়াবহ রূপ দেখেছি যুবভারতীর বাইরে

আরজি কর কাণ্ডের ছায়ায় রবিবার বাতিল করে দেওয়া হল ডার্বি ম্যাচ। যে খেলায় মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের। ডার্বি বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়ামাত্রই ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান সমর্থকেরা ঘোষণা করেন, ডার্বির নির্ধারিত সময়ের আগে জমায়েত করে প্রতিবাদ জানানো হবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান দরজার বাইরে। সেই ফুলকি দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়ল রবিবার দুপুরে। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহমেডান সমর্থকদের প্রতিবাদে অন্য আকার ধারণ করল যুবভারতীর চারপাশ। রবিবার যেন যুবভারতীর ভিতরে নয়, ডার্বি হল কার্যত বাইরে।

আমি অটো থেকে যখন বাইপাসে, রাস্তায় উঠেই দেখি অজস্র পুলিশ লাঠি হাতে ঘুরছে। জমায়েতের মধ্যে যাই, স্লোগান দেওয়া হয়। পুলিশ সাধারণত জমায়েতের থেকে খানিকটা দূরত্বে আলাদা করে থাকে। অনেক মিছিলেই সেটা দেখেছি। এখানে পুলিশ মিছিলের মধ্যে ছিল। জমায়েতের লোকজনের মধ্যে। রবিবার সকাল থেকেই গোটা শহরজুড়ে ছিল বৃষ্টি। কোথাও কোথাও জল জমে যায়। প্রতিবাদীরা তাতেও পিছিয়ে আসেননি। ছুটির দিন হওয়ায় দ্বিগুণ উৎসাহে দুপুর থেকেই দলে দলে সমর্থক মিছিল করে এসেছিলেন যুবভারতীতে। জানতে পারি, রবিবার বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। যা আসলে ভারতীয় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার সমতুল্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আর জি কর কাণ্ড উপলক্ষ্য মাত্র, ক্ষোভের বারুদ জমতে দেখেও দেখেনি শাসক দল

RG Kar Doctor Rape and Murder case : প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার মানুষ উগড়ে দিয়েছেন ,সেই ক্ষোভের আগুন এখনও জ্বলছে। এটি এত সহজে নিভে যাওয়ার নয়।

দিব্যি স্লোগানিং চলছিল আরজিকরের নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে, ওই ভয়াবহ ঘটনার প্রতিবাদে। এরই মধ্যে প্রথমবার আমার পিছন থেকে অনেককে দৌড়ে আসতে দেখি। ওঁরা বলেন লাঠি চার্জ চলছে। সবাই দৌড়ে খানিকটা এগিয়ে যায়। আবার থেমে যায়। জমায়েতের দুটো অংশ ছিল। একটা অংশ রাস্তায় (স্টেডিয়াম নামাঙ্কিত মেট্রোর ব্রিজের নীচে) আর একটা অংশ ফুটপাথে। রাস্তার মধ্যেই পুলিশ তাড়া করতে থাকে, যার জেরে রাস্তায় থাকা লোকেরা ছোটাছুটি করে। মিছিলে থাকা অনেকেই বলছিলেন ঝামেলা হবে, ব্রিজের তলায় কোনো অন্ধকার জায়গায় কোনওভাবেই কেউ যেন না যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১০ দফা দাবিতে অনড় আরজি করের জুনিয়র চিকিৎসকরা

RG Kar Doctor Rape and Murder Case: আরজি করের জুনিয়র চিকিৎসকরা বার্তা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবেই

দ্বিতীয়বার পুলিশ যখন আবার এই একই কায়দায় তাড়া করে তখন আমি মেট্রোর ওই ব্রিজের তলায় অপেক্ষাকৃত অন্ধকার একটা জায়গার মধ্যে দিয়ে দৌড়োচ্ছিলাম। আমি লাঠিপেটার আওয়াজ শুনে অন্ধকার, মানে শেডের থেকে বাইরে ফুটপাথের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করি। আর ঠিক তখনই পুলিশ আমাদের কাছে এসে পড়ে এবং আমার ঠিক পিছনে থাকা ছেলেটিকে লাঠির বাড়ি মারে। যে পুলিশ মারে, তাকে আমি ঘুরে প্রশ্ন করি— আপনারা মারছেন কেন? আমরা তো কিছু করিনি। সে আমাকে চার অক্ষরের একটা নোংরা গালি দেয় এবং পরমুহূর্তেই আমার হাতে লাঠির বাড়ি মারে। আমি চেষ্টা করি, কোনওমতে রাস্তা থেকে ফুটপাথের দিকে যাওয়ার। আর ঠিক এই সময় অনেক পুলিশ আমাকে ঘিরে ফেলে। একজন সাদা উর্দিধারী পুলিশ এই সব অন্য রঙের পোশাকে থাকা পুলিশদের মধ্যে থেকে আমার সামনে এসে নির্দেশ দেন, আপনি এখান থেকে চলে যান। ওখানে কোনও মহিলা পুলিশ ছিল না। আমি একাই মেয়ে ছিলাম। হ্যাঁ পাশে ছেলেরাও ছিলেন, যাঁরাও বিক্ষিপ্তভাবে পুলিশের মার খেয়েছিলেন।

আমি তখনও চিৎকার করছি, বারবার প্রশ্ন করছি— আপনারা মারছেন কেন? আর কী কী বলেছিলাম, মনে করতে পারি না। তারপর আমার পাশে থাকা সহ-আন্দোলনকারীরাই আমাকে ফুটপাথে নিয়ে যায়। যে পুলিশটি আমাকে মেরেছিল, আমি তার মুখ দেখলেও নাম দেখার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলাম না। এই বিষয়টা সম্ভবত টিভিতেও দেখানো হয়েছে। আমার বাবা মা, পরিবার, সকলে উদ্বেগে যে এরপরেও যদি আমাকে চিহ্নিত করে ফের কোনও ক্ষতি করা হয় আমার। রবিবার পুলিশের যে আচরণ, যে ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছি, তা যে একেবারেই অযাচিত ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কার্যত কিছুই করিনি কাল, কোনও হিংসা নয়, কিছুই নয়। খালি স্লোগানে গলা মেলাচ্ছিলাম।

হাতে হয়তো একটাই বাড়ি খেয়েছি কাল। কিন্তু যখন আমাকে একাধিক পুলিশ মিলে ঘিরে ধরেছিলেন, একবার মনে হয়েছিল আজকে প্রচুর মার খাবো। কিন্তু আমি মেয়ে বলেই হয়তো সাদা পোশাকের পুলিশটি বাকিদের মারে হাত থেকে আমাকে বাঁচান। পুলিশের কথা এবং আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, ওঁদেরকে বলেই পাঠানো হয়েছে মারার কথা। উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার মতো কিছু একটা যেন ওদের বডি ল্যাঙ্গোয়েজেই ছিল। একটা শান্তিপূ্র্ণ মিছিলকে দমন করতে যে ভয়াবহ রূপ তারা কাল দেখিয়েছেন, তা যে আমার দেশের তা মানতে কষ্ট হচ্ছে কার্যত। এমন একটা ঘটনার সাক্ষী হয়ে আমি একই সঙ্গে মর্মাহত ও বিস্মিত।

(সুরক্ষাস্বার্থে লেখকের নাম গোপন রাখা হল)

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।