পুরুষ সঙ্গ ছাড়াই গর্ভধারণ বানরের, জন্ম নিল সুস্থ সন্তান! কীভাবে হল এই অসাধ্য সাধন?
Pregnancy mystery of gibbon : মানুষের ক্ষেত্রে এসব ঘটনা মোটেই আর নতুন নয়, কিন্তু তাই বলে যদি শোনেন একটি পশুও মা হয়েছে পুরুষ সঙ্গ ছাড়াই, অবাক হবেন নিশ্চয়ই? হ্যাঁ অবাক হওয়ার মতো এই বিষয়টিই ঘটেছে জাপানের একটি চিড়িয়াখানায়।

কৃত্রিম প্রজননের যুগে দাঁড়িয়ে সন্তান জন্ম নিয়ে নানারকম নতুন দিশা খুলে গিয়েছে। স্বাভাবিক সঙ্গম ব্যতীত প্রজননের ক্ষেত্রে এসেছে টেস্টটিউব বেবি প্রচলন। সিঙ্গেল মাদার হতে চাইলে অনেকেই এখন দারস্থ হচ্ছেন স্পাম ব্যাংকের। মানুষের ক্ষেত্রে এসব ঘটনা মোটেই আর নতুন নয়, কিন্তু তাই বলে যদি শোনেন একটি পশুও মা হয়েছে পুরুষ সঙ্গ ছাড়াই, অবাক হবেন নিশ্চয়ই? হ্যাঁ অবাক হওয়ার মতো এই বিষয়টিই ঘটেছে জাপানের একটি চিড়িয়াখানায়।
এক ধরনের বানর প্রজাতি হল গিবন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই চিড়িয়াখানায় একাই সন্তানের জন্ম দিয়েছিল মা গিবন। নাম মোমো। কিন্তু তার এই সন্তান জন্মকে ঘিরে শুরু থেকেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। কীভাবে সম্ভব হোক এই ঘটনা, সেই নিয়ে রীতিমতো ঘোল খেয়ে গিয়েছেন চিকিৎসকেরাও। দীর্ঘদিন একাই খাঁচায় ছিল এই মা গিবন। এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে দুই বছর পূর্ণ করল মোমোর সন্তান।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Himachal Pradesh Nude Women Village : রোজই সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলামেলা পোশাক পরিহিত হয়ে অনেকেই ছবি শেয়ার করেন। হল আমলে এমন ছবিকে ‘সাহসী’ বলেও দাগিয়ে দেওয়া হয়। অথচ ভারতেরই এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে খোলামেলা পোশাক নয়, একেবারেই খোলামেলা ভাবে থাকেন নারীরা। জানেন কোথায়?
টানা দুই বছর গবেষণা চলার সম্প্রতি মিলেছে উত্তর। মা গিবন, সন্তান এবং ওই চিড়িয়াখানায় বসবাসকারী অন্য চারটি পুরুষ গিবনের ডিএনএ এর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল এর আগেই। জনস গিয়েছে তারই মধ্যে একজনের সঙ্গে মিলে গিয়েছে সন্তানের ডিএনএ। অর্থাৎ সেই অর্থে ধরতে গেলে খোঁজ মিলেছে সন্তানের বাবার। কিন্তু সন্তান জন্মের পদ্ধতি নিয়ে এখনও পুরোপুরি ধোঁয়াশা কাটেনি।
মূলত বানর প্রজাতির একপ্রকার প্রাণী এরা।জাপানের নাগাসাকির কুজুকুশিমা চিড়িয়াখানায় একই খাঁচায় থাকত দুটি গিবন তবে তাদের মাঝে ছিল শক্ত ইস্পাতের দেওয়াল। সন্তান জন্মের সময় মোমোর বয়স ছিল ১২ বছর। আর তার পাশে দেওয়ালের ওপারে থাকা পুরুষ গিবনের বয়স ৩৪ বছর। বিষয়টি আরো খতিয়ে জানা গিয়েছে ওই শক্ত দেওয়ালের মধ্যেই ছিল কয়েকটা ছোট সূক্ষ্ম ছিদ্র ছিল, গবেষকরা মনে করছেন ওই ছিদ্র দিয়েই কোনওভাবে মিলন ঘটেছে বলে। যদিও এ নিয়ে এখনও কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখায় পৌঁছনো সম্ভব হয়নি।
সূক্ষ একটা ছিদ্র দিয়েই সংসর্গ সম্ভব? রীতিমতো অবাক চিড়িয়াখানা কর্মী থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন। জানা গিয়েছে সুস্থ এবং স্বাভাবিক অবস্থায় মোমোর কাছেই বেড়ে উঠছে তার সন্তান। এখনও এই সন্তানের নাম নিয়ে কিছুই চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানিয়েছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। বানর প্রজাতির মধ্যে বিপন্ন তালিকায় রয়েছে এই গিবন, এরই মধ্যেই এরকম একটা বংশ বিস্তারের খবর স্বাভাবিক ভাবেই ভাবিয়ে তুলেছে গবেষকদের। তাই চিড়িয়াখানার ওই ইস্পাতের দেওয়াল তুলে দু'টি খাঁচার মাঝে কার্ডবোর্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও একাধিক ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সকলেই আশাবাদী এই অভিনব প্রজনন নিয়ে।















