বিশ্বের প্রথম ২০ জন ধনীর তালিকা থেকেও ছিটকে গেলেন আদানি, জানেন কেন এমন হাল হল?
Rapid falls of Adani group : কার্যত আকাশ থেকে পড়লেন ভারতের তো বটেই এমনকী এশিয়ার মধ্যেও সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তির তালিকায় থাকা গৌতম আদানি। এই পড়ার শেষ কোথায় সেই নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা।

প্রথম দশের তালিকা থেকে আগেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, এবার ছিটকে গেলেন প্রথম কুড়ি জনের তালিকা থেকেও। কার্যত আকাশ থেকে পড়লেন ভারতের তো বটেই এমনকী এশিয়ার মধ্যেও সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তির তালিকায় থাকা গৌতম আদানি। এই পড়ার শেষ কোথায় সেই নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। সম্প্রতি হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের নথি প্রকাশ্যে আসতেই রাতারাতি বদলাতে শুরু করেছে এই ছবিটা। একপ্রকার জালিয়াত হিসেবে দাগানো এই রিপোর্ট বিপদ ডেকে এনেছে আদানিদের। এর আগেই জানুয়ারির ৩১ তারিখ বিশ্বের প্রথম দশ ধনী ব্যক্তির তালিকা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন গৌতম আদানি। এর পর মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আরও বড় পতন। প্রথম কুড়িতেও নাম নেই তাদের।
ভারতের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য নাম ‘আদানি গোষ্ঠী’। গোটা দেশ জুড়ে তো বটেই এমনকী বিদেশেও প্রচুর শেয়ার তাদের। সেই আদানি গোষ্ঠীর ঘাড়েই নাকি বিপুল ঋণের বোঝা, এরকমই খবর প্রকাশ্যে এসেছে সম্প্রতি। এখানেই শেষ নয়, অ্যাকাউন্টিংয়েও সমস্যা রয়েছে উক্ত গোষ্ঠীর, এমনটাই জানা গিয়েছে। আদানি গ্রুপের সংস্থায় ‘শর্ট পজিশনে’ বাজি ধরেছে মার্কিন সংস্থা হিন্ডেনবার্গ। তাদের নয়া রিসার্চেই অভিযোগের তীর উঠেছে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। যদিও এই সব অভিযোগকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। ৪১৩ পৃষ্ঠার জবাবে তারা আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যাখ্যামূলক উত্তর দিয়েছে, এমনকী উক্ত সংস্থাকে উদ্দেশ্য করে ভারতের জাতীয়তাবাদের ওপর আঘাত হানার পাল্টা অভিযোগ এনেছে আদানিরা। তা সত্বেও লাভ হয়নি আখেরে। এই ঘটনার পর থেকেই বাজারে হু হু করে শেয়ার হারাতে থাকেন গৌতম আদানি। যার ফল স্বরূপ বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ক্রমশ নিচে নামতে থাকেন তারা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
After effect of hindenburg research : আদানির দুর্দিন যেন আশীর্বাদ স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় আম্বানি গোষ্ঠীর কাছে। একাধিক লগ্নিকারী সংস্থা আদানির থেকে শেয়ার তুলে নিয়ে ভরসা রাখে আম্বানি গোষ্ঠীর ওপর
গত কয়েক বছরে উল্কার গতিতে শীর্ষে উঠে এসেছিলেন আদানিরা। এমনকী চিনা ধন কুবেরকেও পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন ভারতীয় ধন কুবের। জানা যায়, ২০২১ সালে তাঁর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছিল প্রায় ২৬১ শতাংশ! শুধু তাই নয় তার এই উত্থানের গতি দেশের ধনকুবেরদের তালিকায় আগের সমস্ত পরিসংখ্যানকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছিল। অতঃপর এই রিসার্চ, রাতারাতি বদলে গেল চিত্রটা।
ব্যবসায়িক পরিসরে বিশ্বাসের দৌড় সর্বোচ্চ, এখন আদানিদের ওপর থাকা সেই বিশ্বাসই তলানিতে। ৪১৩ পাতার ওই জবাব যেন কিছুতেই ধোপে টিকছে না। যদিও হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের তরফে ওই জবাবের উত্তরে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা তাদের অবস্থানে অনড়। জালিয়াতির অভিযোগ আগের মতোই বহাল থাকছে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এই অভিযোগ খন্ডন করুক আদানি গোষ্ঠী, এমনটাই সাফ জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা।
অপরদিকে কারোর সর্বনাশ হলে অন্য বকে যে পৌষ মাসের সাক্ষাৎ পাবেন, তা বলেই বাহুল্য। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। আদানিদের এই দুর্দিনে ফের ভাগ্য গুরে গিয়েছে আম্বানিদের। এই কদিনেই যে হারে শেয়ার কমেছে আদানিদের ঠিক তেমনই হু হু করে শেয়ার বেড়েছে আম্বানিদের। প্রথম দশ ধনী ব্যক্তির তালিকায় উঠে এসেছে তারা। শুধু তাই নয়, ভারত তো বটেই এমনকী এশিয়ার মধ্যেও সেরা এখন আম্বানি।
অন্যদিকে ডিসেম্বর থেকেই নাকি ৭৬ শতাংশ সম্পত্তি কমেছে আদানিদের। শুক্রবার দেখা গেল, বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ নম্বরেও নাম নেই আদানির। বলা হচ্ছে, এটাই নাকি সবচেয়ে বড় ক্ষতি সংস্থার। আর আদানি গ্রুপের এই লোকসানের জেরে ধুঁকছে তাদের শেয়ার হোল্ডার সংস্থাগুলি। এদিকে, হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আদানি গোষ্ঠীর তরফে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী এমএল শর্মা। তবে সেই মামলার মীমাংসা যতদিন পর্যন্ত না হচ্ছে ততদিন এই অন্ধকার দশা কিছুতেই কাটবে না আদানিদের, তা বলাই বাহুল্য।
















