অতিরিক্ত খাওয়া বা চূড়ান্ত ডায়েট, না জেনেই বড় বিপদ ডেকে আনছেন নিজের?

Piya Saha
৩ মিনিট
অতিরিক্ত খাওয়া বা চূড়ান্ত ডায়েট, না জেনেই বড় বিপদ ডেকে আনছেন নিজের?

ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকের দুনিয়ায় সবাই নিজেকে 'পারফেক্ট' প্রমাণ করতে উদ্যোগী। জীবনযাত্রার মান থেকে প্রতিদিনের লুক- সবকিছু সম্পর্কেই অতিরিক্ত সচেতন নেট-নাগরিকেরা। ইদানীংকালে বহু মানুষ খুব কম বয়স থেকেই স্থূলতার সমস্যায় ভোগে। ফলে অনেকেই মনে করে, খাবার না খেলেই বোধহয় এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আবার অনেকেই এমন আছে, যারা খেতে খুব ভালবাসে। ফলে, পাতে প্রিয় খাবার দেখলেই হুঁশ থাকে না নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে। নিয়মিত অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের কারণে পেটের প্রাচীর প্রসারিত হতে শুরু করে। আর এমন হলে, অতিরিক্ত আহার ব্যতীত তৃপ্তিবোধ আসে না এবং একসময় এর ফলে শরীরের ক্ষতি হতে থাকে। কিন্তু সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে সঠিক পরিমাণে খাদ্যগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, তা নাহলে ফল হয় উল্টো।

বছরের পর বছর ধরে খাদ্যগ্রহণ-সংক্রান্ত নানা অসুখে ভুগছে বহু মানুষ। তবে এই ধরনের অসুখের কিছু গভীর মানসিক কারণও রয়েছে। রিচা চাড্ডা, ইলিয়ানা ডি'ক্রুজ, নিয়া শর্মা, ডেমি লোভাটো, লেডি গাগা এবং এলটন জন, প্রয়াত রাজকুমারী ডায়ানার মতো সেলিব্রিটিরা ভুগেছেন এই সমস্যায়।

খাদ্যাভ্যাসজনিত অসুস্থতা কী?

এই ধরনের অসুখ অস্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণের অভ্যাস থেকে উদ্ভুত হয়। একজন ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। বয়স,জীবনধারা, ব্যক্তির মনোভাব এবং উদ্বেগের মতো বিষয়গুলি সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যা দ্রুত একজন মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করবে।

উপসর্গ

খাদ্যাভ্যাসজনিত অসুখের বিভিন্ন উপসর্গগুলি হল:

১. ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধির চিন্তায় সারাক্ষণ মগ্ন হয়ে থাকা

২. নিজের বাহ্যিক উপস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতনতা

৩. শরীরের ওজন সংক্রান্ত অন্যান্যদের মতবাদকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সেই ভাবনায় বুঁদ হয়ে থাকা

৪. অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস

৫. অনিয়মিত এবং অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস

৬. খাদ্যগ্রহণের কারণে নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করা এবং লজ্জিত হওয়াবিভিন্ন রোগ

১. অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা

অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা সম্ভবত সবচেয়ে সুপরিচিত খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি। এটির উদ্ভব সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে বা যৌবনে হয় এবং পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশি প্রভাবিত করে।

অ্যানোরেক্সিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত নিজেকে অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী হিসাবে দেখেন, এমনকী, যদি তাঁরা বিপজ্জনকভাবে কম ওজনেরও হন। তাঁরা ক্রমাগত তাঁদের ওজন নিরীক্ষণ করতে থাকে। নির্দিষ্ট কিছু ধরনের খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলে এবং দেহে ক্যালোরির পরিমাণ মারাত্মকভাবে কম থাকে।

২. বুলিমিয়া নার্ভোসা

অ্যানোরেক্সিয়ার মতো বুলিমিয়াও বয়ঃসন্ধিকালে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রথম দিকে দেখা দেয় এবং সাধারণত মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে কম হয়।

বুলিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে প্রচুর পরিমাণে খাবার খেয়ে ফেলে। যতক্ষণ পর্যন্ত পেটে অস্বস্তি বোধ হচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত খাবার খেতেই থাকে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিটি মনে করে, সে খাওয়া বন্ধ করতে পারে না বা কতটা তাঁর ক্ষমতা তা বুঝতেই পারে না।

৩. পিকা

এটি হল আরেকটি খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি, যাতে এমন কিছু খাওয়া জড়িত, যা আদতে খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয় না।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অখাদ্য পদার্থ যেমন বরফ, ময়লা, মাটি, চক, সাবান, কাগজ, চুল, কাপড়, উল, নুড়ি, লন্ড্রি ডিটারজেন্ট, বা কর্নস্টার্চ খায় খাবার হিসেবে। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের, শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা দিতে পারে। অনেকসময় দেখা যায়, এই অসুখে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং মানসিক অক্ষমতাযুক্ত ব্যক্তিরা আক্রান্ত হয়েছে।

পিকা আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিষক্রিয়া, সংক্রমণ, অন্ত্রের সমস্যা এবং পুষ্টির অভাবে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। গৃহীত পদার্থের ওপর নির্ভর করে পিকা মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

মনস্তাত্ত্বিক কারণ

মহিলা এবং পুরুষ উভয়েই নিজের চেহারা সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে প্রায়ই এই অসুখে ভোগে, ফলে দেখা যায়, নিখুঁত শরীর পাওয়ার জন্য অনেকেই বিভিন্ন কঠিন দায়িত্ব পালন করে বা সাহায্য নেয় হরমোন থেরাপির, যা শরীরের জন্য বিপদ বয়ে আনতে বাধ্য।

খাদ্যাভ্যাসজনিত অসুখের সঠিক কারণ জানা যায়নি, তবে এই অসুখের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানসিক সমস্যা হল:

১. উদ্বেগ

২. বিষণ্ণতা

৩. মানসিক চাপ

৪. আত্মবিশ্বাসের অভাব

৫. ভয়

৬. অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি)

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।