মহিলা নিজেই নিজের গায়ে প্রস্রাব করেছেন! অভিযুক্তের অবাক করা দাবিতে থতমত পুলিশও
Air India Urination: বেঙ্গালুরুর একটি গেস্ট হাউসে একাই লুকিয়ে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই পুলিশ গ্রেফতার করে শঙ্করকে।

চলন্ত বিমানে সহযাত্রীর গায়ে প্রস্রাব করে দিয়েছেন তিনি। সেই নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়, বিমান কর্মীরা শো-কজে জেরবার হয়ে যাচ্ছেন, পুলিশ অভিযুক্তকে খুঁজতে গলদঘর্ম হয়েছে। ধরা পড়ার পরে সেই অভিযুক্তর বয়ান শুনে বিমান কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে পুলিশ, সক্কলে থতমত! তিনি নন, সহযাত্রী নিজেই নাকি নিজের গায়ে প্রস্রাব করেছেন, জানিয়েছেন অভিযুক্ত শঙ্কর মিশ্র! আট সপ্তাহ আগে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে একজন বয়স্ক মহিলার গায়ে প্রস্রাব করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন শঙ্কর মিশ্র। দেশব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পালিয়ে বেড়ানো এই অভিযুক্তকে পাকড়াও করার পরে দিল্লির একটি আদালতকে শঙ্কর জানিয়েছেন, তিনি এসব করেননি। তাঁর ওই বয়স্ক সহযাত্রীই নিজে নিজের উপর প্রস্রাব করেছেন।
অভিযোগ ছিল ওই ঘটনার দিন বিমানে মত্ত অবস্থায় বৃদ্ধার গায়ের উপরে প্রস্রাব করে দেন শঙ্কর কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেননি বিমান কর্মীরা। শুধুমাত্র গায়ের পোশাকটি পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। মূত্রে ভিজে যাওয়া আসনের উপরে কাপড় বিছিয়ে সেখানেই তাঁকে বাকি পথটা পাড়ি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিমানকর্মীরা। অভিযুক্ত শঙ্কর মিশ্রকে দীর্ঘদিন খুঁজে না পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল। মার্কিন ব্যাংকিং জায়ান্ট ওয়েলস ফার্গো সংস্থার আধিকারিক শঙ্করকে বরখাস্তও করা হয় কাজ থেকে। পলাতক থাকলেও অবশেষে ধরা পড়েন তিনি। বেঙ্গালুরুর একটি গেস্ট হাউসে একাই লুকিয়ে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই পুলিশ গ্রেফতার করে শঙ্করকে।
জানা গিয়েছে, ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে ১৫০০০ টাকা দিয়েছিলেন শঙ্কর। যদিও সে টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছিলেন বৃদ্ধার মেয়ে। অভিযুক্তের বাবা শ্যাম মিশ্র বলেছিলেন, তাঁর ছেলের পক্ষে এই ঘটনা ঘটানো সম্ভবই নয়। সে বিবাহিত, মায়ের বয়সী একজনের প্রতি এরকম আচরণ সে কিছুতেই করতে পারে না। বিমানে ওঠার আগে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ঘণ্টা ঘুম হয়নি ছেলের তাই নাকি এসব...
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Air India : বিমানের মধ্যে মহিলার গায়ে প্রস্রাব, পরপর একই অপ্রীতিকর ঘটনা এটার ইন্ডিয়ার বিমানে
সব কিছুর পরে শঙ্কর বলেছেন, তিনি নন, মহিলা নিজেই নিজের গায়ে... সম্ভব এমন? এমন অত্যাশ্চর্য দাবি শুনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখার অনুরোধ করে দিল্লি পুলিশ। তবে পুলিশি হেফাজত নয়, শনিবার শঙ্কর মিশ্রকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। জামিনের জন্য শঙ্করের আবেদনও একজন বিচারক প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছিলেন। "অভিযুক্তর কাজটি যে কোনও মহিলার শালীনতাকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য যথেষ্ট। অভিযুক্তের জঘন্য আচরণ নাগরিক চেতনাকে হতবাক করেছে," বুধবার বলেছিলেন বিচারক।
গত ২৬ নভেম্বর নিউইয়র্ক থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার সময় মদ্যপ শঙ্কর মিশ্র বিমানের মধ্যেই তাঁর প্যান্ট খুলে ফেলেন এবং বিজনেস ক্লাসে বসা তাঁর ৭২ বছর বয়সী মহিলার গায়ে প্রস্রাব করে দেন। জামিনের শুনানির সময়, শঙ্কর মিশ্রের আইনজীবীরা মহিলার উপর প্রস্রাব না করার এই দাবির অবশ্য কোনও উল্লেখ করেননি। আইনজীবীদের যুক্তি, এই কাজটি শঙ্করের "যৌন ইচ্ছা দ্বারা চালিত হয়নি বা অভিযোগকারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যেও হয়নি।" যে মহিলা শঙ্কর মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তিনি জানিয়েছেলেন অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠদের তরফে তাঁকে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
"আমি নিয়মিত মেসেজ পাচ্ছি, আমাকে হুমকি দিচ্ছে। অভিযুক্তের বাবা আমাকে মেসেজ পাঠিয়ে বলেছিলেন 'নিজের কর্মদোষের ফল ভুগবে' এবং তারপর মেসেজটি ডিলিট করে দিয়েছেন। তারা আমাকে মেসেজ পাঠাচ্ছেন এবং ডিলিট করছেন। এটা বন্ধ হওয়া দরকার," এনডিটিভিকে জানিয়েছেন ওই মহিলা।
অন্যদিকে, কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকার পর সম্প্রতি টাটা গ্রুপের সংস্থা এই এয়ারলাইনটি কিনে নেয়। বিমানের মধ্যে এমন নোংরামি এবং বিমান কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে টাটা গ্রুপ।















