মর্ত্যে অমর্ত্য, কারা ছড়ালেন ভুল খবর?
Amartya Sen Fake Death News: সুস্থ রয়েছেন নোবেলজয়ী। আর সে খবর টুইট করে জানান খোদ অমর্ত্যকন্যা নন্দনা।

সদ্য ঘোষণা হয়েছে নোবেল অর্থনীতি পুরস্কার। আর সেই ঘোষণার রাত না পেরোতেই দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন নাকি প্রয়াত হয়েছেন। সেই খবর পেতে না পেতেই ঝাঁপিয়ে পড়ল নানা জাতীয় সংবাদমাধ্যম।
২০২৩ সালের নোবেল অর্থনীতিবিদ ক্লদিয়া গোল্ডিন প্রথম টুইট করেন অর্মত্য সেনের মৃত্যু সংবাদ। তার পরেই বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে সেই সংবাদ। একের পর এক শোক জানাতে থাকেন মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে আসে আসল সত্য।
সুস্থ রয়েছেন নোবেলজয়ী। আর সে খবর টুইট করে জানান খোদ অমর্ত্যকন্যা নন্দনা সেন। তিনি এ-ও জানান, সোমবার রাত পর্যন্ত বাবার সঙ্গেই কাটিয়েছেন তিনি কেমব্রিজে। সঙ্গে ছিল নন্দনার মেয়েও। কেমব্রিজ থেকে ফেরার সময় সোমবার রাতে বাবার সঙ্গে দেখা করতে যান নন্দনা। সেসময় মেয়েকে আলিঙ্গনও করেন অমর্ত্য। আদর করেন নাতনিকেও।

পাশাপাশি নন্দনা এ-ও জানান যে অমর্ত্য সেন এখনও সপ্তাহে দু'টি করে কোর্স নিয়মিত পড়াতে যান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সামাজিক লিঙ্গ নিয়ে বইয়ের কাজ নিয়েই আপাতত ব্যস্ত এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। একই সঙ্গে গুজবে কান না-দেওয়ার জন্যও অনুরোধও করেছেন অমর্ত্য-কন্যা।
Friends, thanks for your concern but it’s fake news: Baba is totally fine. We just spent a wonderful week together w/ family in Cambridge—his hug as strong as always last night when we said bye! He is teaching 2 courses a week at Harvard, working on his gender book—busy as ever!
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Amartya Sen Visva-bharati University : তাঁর গবেষণা, কাজ আজও অনেক মানুষকে প্রভাবিত করেন। সেই অমর্ত্য সেনই নাকি জমি কেড়ে নিয়েছেন!
— Nandana Sen (@nandanadevsen)
১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন। সেই প্রথম কোনও বাঙালির অর্থনীতিতে নোবেলজয়। দুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়ন তত্ত্ব, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণদারিদ্রের উপর কাজ করেন অমর্ত্য। আর সেই কাজই এনে দিয়েছিল বিশ্বসম্মান। কাকতালীয় ভাবে একদিন আগেই নোবেল কমিটি ঘোষণা করেছে এ বছরের নোবেল অর্থনীতির বিজেতার নাম। এবারের পুরস্কারটি যিনি পেয়েছেন, সেই ক্লদিয়া গোল্ডিন নিজেও অমর্ত্য সেনের ছাত্রী। তাঁর মুখেই প্রথম অমর্ত্যের মৃ্ত্যু সংবাদটি শুনতে পায় দুনিয়া।
মঙ্গলবার সন্ধে ঘনাতে না ঘনাতেই ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। স্বাভাবিক ভাবেই মর্মান্তিক এই খবরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্ব জুড়ে। তবে শেষপর্যন্ত নন্দনার টুইটে স্বস্তি ফিরেছে মানুষের। মৃত্যু সংবাদ দেওয়ার পরে শোকে ভেঙে পড়েছিলেন সদ্য নোবেলজয়ী ক্লদিয়াও। তিনি জানান, তাঁর প্রিয়তম গুরু অমর্ত্য। প্রাণশক্তিতে ভরপুর সেই মানুষটার না থাকার সংবাদ তাঁকে বেদনা দিয়েছিল।
A terrible news. My dearest Professor Amartya Sen has died minutes ago. No words.
— Claudia Goldin (@profCGoldin)
যদিও সেই গুজবের মুখে দুয়ো দিয়ে দিব্যি সুস্থ এবং খোশমেজাজেই রয়েছেন নোবেলজয়ী। কাজের মধ্যে রয়েছেন, জানিয়েছেন কন্যা। তবে অধিকাংশ মিডিয়া যে ভাবে যাচাই না করেই খবরটি ছড়িয়েছেন, কার্যত গুজব ছড়িয়েছে, তা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। সংবাদমাধ্যমের কাজ শুধুমাত্র খবর প্রকাশ করা তো নয়। তা যাচাইয়ের ভারও বর্তায় তাদের কাঁধে। অভিজ্ঞদের একাংশের মত, সেই কাজেই নজিরবিহীন গাফিলতি দেখিয়েছে তারা।

একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমই প্রকাশ করে দিয়েছিল সেই খবর। অমর্ত্য সেনের মতো ভারতের এমন এক ব্যক্তিত্বের খবর নিয়ে এই গাফিলতির তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।















