গাড়িতে হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তরুণীকে, খবর পেয়েও কেন দেরি করেছিল দিল্লি পুলিশ?
Anjali Death case - উৎসবের ঘোর কাটিয়ে এসেই উঠতে পারল না রক্ষক বাহিনী।

সবেমাত্র পথ চলা শুরু হয়েছে নতুন বছরের। শনিবার মধ্যরাত। দিল্লির রাজপথেও তখনও কাটেনি নববর্ষের ঘোর। ঠিক এরকম সময়ে ফের ভয়াবহতার শিকার রাজধানী। দিল্লির কাঞ্ঝাওয়ালা রোডের লাডপুর গ্রামের কাছে মাঝরাস্তায় একটি স্কুটিতে করে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। হঠাৎই একটি চার চাকা এসে ধাক্কা মারে সেই স্কুটিতে। ছিটকে পরে যান তরুণী। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়, বরং বলা ভালো, সবে শুরু। এরপরই সেই ভয়াবহ দৃশ্য। যে গাড়িটির ধাক্কায় মেয়েটি পড়ে যায় সেই গাড়িটি চোখের নিমেষে ইউ টার্ন নিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন তরুণীকে। প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ ওভাবেই ঘষটাতে ঘষটাতে মেয়েটিকে নিয়ে যায় ঘাতক গাড়ি।
প্রাথমিকভাবে এটুকু তথ্যের ভিত্তিতেই কাজ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু কতটা তৎপর ছিল তারা? ঘটিনাতুঘটে ওই রাত আড়াইটে থেকে পৌনে তিনটে নাগাদ। প্রত্যক্ষদর্শী দীপক দাহিয়া ফোন করে ঘটনাটি যখন জানান, তখন ঘড়িতে বাজে সোয়া তিনটে, পুলিশের তরফেও এই সময়টিই জানানো হয়েছে। অথচ ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছল তারও প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে। এর মধ্যে আরও একজন পুলিশ কে ফোন করে জানায় ঘটনাটি। অথচ উৎসবের ঘোর কাটিয়ে এসেই উঠতে পারল না রক্ষক বাহিনী।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Women Safety : দিল্লি, মুম্বাই,চেন্নাই, কলকাতা, ব্যাঙ্গালোরের মতো শহরে যে ছবি ধরা পড়ল সমীক্ষায়
একদিকে উৎসবের মেজাজ, অন্যদিকে ভয়ানক শীতের দাপট! পুলিশের অধিকর্তারা হয়তো নিশ্চিন্তে ঘুম দিচ্ছিলেন। আর সেই ঘুম কাটতে কাটতে শেষ হয়ে গেল একটা তাজা প্রাণ। ঘাতক গাড়িটিও ততক্ষণে অধরা। এমনকী ঘটনা বিবরণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে লেগে গেল আরও একটি গোটা দিন। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজে হয়ে পেতে খোঁজ শুরু হল গাড়িটির। অতঃপর গ্রেফতার।
এখানেই শেষ নয়, এত বড় একটা শহর, এতো আধুনিক পথ ঘাট, রাস্তার মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি নজরদারি অথচ তার ভিডিও পেতে এত দেরি, যদিও বা জন্য গেল ঘাতক গাড়ির নম্বর তার পরও আরও কেটে গেল প্রায় দুই দিন। তারপর হতে এল নতুন সিসিটিভি, যাতে দেখা যাচ্ছে ঘটনাস্থল থেকে পালাচ্ছে মৃতার বান্ধবী নিধি। এমনকী বাইকে যে অঞ্জলী একা ছিল না, তার সঙ্গে বান্ধবী ছিল সেই সামান্য কথার হদিশ মিলল গোটা চারদিন পর। ভাবা যায়!
দিল্লি পুলিশের তদন্ত দল পিসিআর ভ্যানগুলির টহল দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি তুলে ধরেছে, বিভিন্ন সূত্র। এমনকী সমস্ত রাস্তায় সিসিটিভি থাকা সত্বেও যেন সেগুলিন্থেজে তথ্য পেতে এতো সময় লেগে গেল কন্ট্রোল রুমের সেই প্রশ্নের তীরও তোলা হয়েছে। একের পর এক কেন অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে দিল্লিকে সেই বিষয়েও খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি, এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে এইসবের মধ্যে পড়ে আর কত তাজা প্রাণ অকালে হারিয়ে যাবে, সেটাই এখন একমাত্র চিন্তার বিষয়।
















