পশ্চিমবঙ্গের রেশম দিয়ে তৈরি হয়েছিল হ্যারি পটারের এক বিশেষ পোশাক, কোনটি জানেন?

Harry Potter Dress: হগওয়ার্টসের স্কুলের পোশাক সাধারণ একটি স্কুলের স্কুল ড্রেসের মতো হলেও সেখানে একটি নেকটাই ছিল যা সমস্ত পোশাকের থেকে আলাদা ছিল।

Sourish Das
৩ মিনিট
পশ্চিমবঙ্গের রেশম দিয়ে তৈরি হয়েছিল হ্যারি পটারের এক বিশেষ পোশাক, কোনটি জানেন?

সালটা ২০০১, সেই সময় হলিউডের জনপ্রিয় চিত্র পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ একটি নতুন ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। বলতে গেলে শুধুমাত্র একটা গল্প নয়, বলতে গেলে একটা গল্পের সিরিজ নিয়ে সিনেমা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। আর সেই গল্পের সিরিজটি হল ইংরেজি সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখিকা জে কে রাওলিংয়ের হ্যারি পটার সিরিজ। যদিও পরবর্তীতে স্টিভেন স্পিলবার্গ এই ছবিগুলি পরিচালনা না করলেও, জে কে রাওলিংয়ের হ্যারি পটার শুধুমাত্র যে জনপ্রিয় হয়েছে তাই নয়, বরং এই সিনেমার তিনটি প্রধান চরিত্র, হ্যারি পটার, রণ উইসলি এবং হারমায়োনি গ্রেঞ্জার হয়ে গিয়েছে কালজয়ী।

শিশুদের জন্য সিনেমা তৈরি করতে না চাইলেও স্টিভেন স্পিলবার্গ বুঝেছিলেন হ্যারি পটারের গল্প নিয়ে যদি সিনেমা করা যায় তাহলে সেটি অবশ্যই জনপ্রিয় হতে চলেছে। পরবর্তীতে অন্য পরিচালকের হাত ধরে হ্যারি পটার মুক্তি পেলেও হ্যারি পটারের বিভিন্ন রহস্য এখনও সকলের অজানা। সম্প্রতি কুড়ি বছর পূর্ণ করেছে হ্যারি পটার সিরিজ। প্রথম সিনেমা হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোজফার্স স্টোন মুক্তি পেয়েছিল ২০০১ সালে। তারপর থেকে চেম্বার অফ সিক্রেটস, প্রিজনার অফ আজকাবান, গবলেট অফ ফায়ার থেকে শুরু করে ডেথলি হ্যালোস, প্রত্যেকটি সিনেমায় হয়েছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ১০ বছর আগে এই সিরিজের শেষ সিনেমাটি মুক্তি পেলেও এখনো পর্যন্ত এই সিরিজ নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা রয়েছে।

হ্যারি পটারের চরিত্রগুলি যেরকম ভাবে হয়ে উঠেছে জীবন্ত, সেরকম ভাবেই হ্যারি পটারের চরিত্রে যারা অভিনয় করেছিলেন তারাও একই ভাবে জনপ্রিয় হয়েছেন। যারা হ্যারি পটারের নিয়মিত দর্শক রয়েছেন, তারা হয়তো কোনদিন ড্যানিয়েল রেডক্লিফকে বাদ দিয়ে হ্যারি পটার ভাবতেই পারবেন না। ঠিক সেরকম ভাবেই রুপার্ট গ্রিন্ট রন হিসেবে এবং এমা ওয়াটসন হারমায়োনি গ্রেঞ্জার হিসেবে এখনও দর্শকদের মনে সমানভাবে নিজের ছাপ তৈরি করে রেখেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শারদীয়া পুজোসংখ্যায় সাহিত্য হয়? নাকি গোটাটাই ঝোঁক?

Durga Puja Sharodiya: বাঙালির প্রথম শারদীয়া বের করেছিলেন কেশব চন্দ্র সেন। ‘ভারত সংস্কার সভা’ তখন তাদের বিখ্যাত সাপ্তাহিক ‘সুলভ সমাচার’ বের করত। হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত হল ১২৮০ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৮৭৩ সালের পুজোয় তাঁরা একটি ‘ছুটির সুলভ’ বের করবেন।

তবে হ্যারি পটারের এই সিনেমা গুলির সঙ্গে বেশ কিছু অজানা গল্প জড়িয়ে রয়েছে যা পশ্চিমবঙ্গকে হ্যারি পটারের সঙ্গে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। হ্যারি পটার সিরিজের সবথেকে দামি যে জিনিসটি ছিল সেটা হল হ্যারি পটারের স্কুলড্রেস। হগওয়ার্টসের স্কুলের পোশাক সাধারণ একটি স্কুলের স্কুল ড্রেসের মতো হলেও সেখানে একটি নেকটাই ছিল যা সমস্ত পোশাকের থেকে আলাদা ছিল। এই পোশাকের সবথেকে দামি জিনিসটি ছিল এর নেকটাই।

হ্যারি পটারের ছবির সিরিজে ব্যবহার করা ওই নেকটাই আদতে ছিল সিল্কের তৈরি। তার থেকেও বড় বিষয়টি হলো, ওই টাই তৈরি করার জন্য যে রেশম ব্যবহার করা হয়েছিল সেটা আমদানি করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে। আর এই পশমের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ এবং হ্যারি পটার একসূত্রে গেঁথে থাকে। তবে শুধুমাত্র টাই ছাড়াও আরও বেশ কিছু অজানা গল্প রয়েছে হ্যারি পটার সিনেমার সঙ্গে। সবাই মনে করেন হ্যারি পটার সিনেমাটি পুরোপুরি তৈরি হয়েছে কাল্পনিক বাস্তবতার উপর নির্ভর করে। মানুষ ছাড়া এই ছবিতে সবকিছুই যেন কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেরকম নয়, হ্যারি পটারের ছবিতে বেশ কিছু আসল জীবজন্তুও ব্যবহার করা হয়েছিল।

যার মধ্যে অন্যতম হলো হ্যারি পটারের চারটি বিশেষ পেঁচা। এছাড়াও রণের ইঁদুরের বাহিনী ছিল সম্পূর্ণ জীবন্ত প্রাণী। এছাড়াও অ্যানিমেল প্রোডাকশন টিম অনেক আগে থেকেই নানা রকমের জিনিস সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন নতুন জীবজন্তু তৈরি করার প্রচেষ্টা করেছিলেন। ভারতবর্ষ কিন্তু হ্যারি পটারের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই সংমিশ্রিত রয়েছে। আপনাদের হয়তো মনে থাকবে, হ্যারি পটার সিরিজের পঞ্চম সিনেমা অর্থাৎ গবলেট অফ ফায়ার ছবিতে পদ্মা পাতিল এবং প্রভাতী পাতিল এই দুটি চরিত্র উঠে এসেছিল ভারতের থেকে। তাদের মাধ্যমেই ভারতের তন্ত্র চর্চার বিশেষ দিক তুলে ধরেছিলেন লেখিকা জেকে রাউলিং।

যারা হ্যারি পটারের মূল গল্প পড়েছেন, তাদের চোখে এই সিনেমার বিভিন্ন সিকোয়েন্স কিছুটা হলেও বেমানান। হ্যারি পটারের ছবিতে পিভস নামে ভূতেদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। রিক মাইল এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে তার বিভিন্ন সিকোয়েন্স ছবি থেকে বাদ চলে যায়। পরিচালক ক্রিস কলম্বাস তার সিনেমা থেকে এই সমস্ত দৃশ্যগুলিকে কেটে বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়াও হ্যারি পটারের সিনেমায় জিনজার উইচ চরিত্রটিকে দেখা যায়নি। হ্যারি পটারের সঙ্গে সম্পর্কিত সিনেমা ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট সিনেমায় তাকে দেখা গেলেও হ্যারি পটারের সিনেমাগুলোতে কোথাও একটা হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

তবে যাই হোক না কেন, হ্যারি পটার যে শুধুমাত্র সিনেমায় কিংবা গল্পে রয়ে গিয়েছে তা নয়, এই সিনেমার মাধ্যমে জেকে রাওলিংয়ের জনপ্রিয়তা একেবারে শিখরে উঠেছে। শোনা যায়, ইংল্যান্ডের রানির থেকেও নাকি জেকে রাওলিংয়ের সম্পত্তির পরিমাণ বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল হ্যারি পটারের গল্পগুলিকে। বিশ্বের একাধিক ভাষায় হ্যারি পটারের সমস্ত সিনেমা গুলিকে ডাবিং করা হয়েছিল। ১০ বছর আগে হ্যারি পটারের জনপ্রিয়তা যেরকম ছিল, এখনও সেরকমই আছে। ২০ বছরের এই সব স্মৃতিগুলোকে নিয়েই আরও বছরের পর বছর জীবন্ত থাকতে চলেছে হ্যারি পটার, রন উইসলি এবং হারমায়োনি গ্রেঞ্জার।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।