রাম মন্দির উদ্বোধন নিয়ে মোদির পাশে নেই বহু হিন্দুত্ববাদীই! কেন?

Ayodhya Ram Mandir inauguration : হিন্দু মহাসভা রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও অস্বীকার করেছে, কারণ এটি নাকি আসলে 'বিজেপি-স্পন্সরড রাজনৈতিক প্রোগ্রাম'।

inscript
৩ মিনিট
রাম মন্দির উদ্বোধন নিয়ে মোদির পাশে নেই বহু হিন্দুত্ববাদীই! কেন?

এই মাসেই রামমন্দির উদ্বোধন। প্রস্তুতিপর্ব সাঙ্গ প্রায়। ২০২৪ মানেই লোকসভা নির্বাচনের বছর। আর বছরের গোড়াতেই রাম মন্দিরের উদ্বোধন যে বিজেপির তরফে হাঁকানো সবচেয়ে বড় ছক্কা, তা এতদিনে সকলেই বুঝে গিয়েছেন। কিন্তু দেশের সব হিন্দুত্ববাদী সংগঠনই কি মোদির পাশে রয়েছে? ১৫ ডিসেম্বর, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের তত্ত্বাবধানে থাকা ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বলেছিলেন, মন্দিরে যে মূর্তি স্থাপন করা হবে তা বিশেষজ্ঞ ভাস্কররাই তৈরি করছেন এবং তাদের মধ্যে কোনও বৈষম্য থাকতে পারে না। রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দুত্ববাদী সমর্থকদের কিছু সমালোচনার জবাবে চম্পত রাই এই কথা বললেন। সমালোচনা উঠেছে কারণ, বেশ কিছু অহিন্দু মানুষ এই রামমূর্তি এবং মন্দির নির্মাণের কাজে জড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ এও অভিযোগ করেছেন যে মন্দিরটিতে ইসলামিক চিহ্নও রয়েছে।

চম্পত রাই কিছুকাল আগেই বলে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসলে হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর অবতার! এসবের পর একাংশের হিন্দুদের আপত্তি আরও বেড়ে যায়। হিন্দুত্ববাদের সেই সমর্থকরা এখন বিশাল বিক্ষুব্ধ। তারা অভিযোগ করেছে, ভারতীয় জনতা পার্টি ২২ জানুয়ারি মন্দিরের উদ্বোধনকে আসলে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যই ব্যবহার করছে, ধর্ম রক্ষার্থে নয়৷

| Ayodhya: General Secretary of Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra, Champat Rai says, "The idol will be made only by the one who is capable and who has done the work of making idols before. The technical work is done only by the one who has knowledge of the technology...I…

— ANI UP/Uttarakhand (@ANINewsUP)

“আমরাই রাম জন্মভূমি আন্দোলন শুরু করেছি, কিন্তু বিজেপি এখন মন্দিরের ঠিকাদারের মতো আচরণ করছে,” বলেছেন ভারতের অন্যতম প্রাচীন হিন্দুত্ববাদী দল, হিন্দু মহাসভার সাধারণ সম্পাদক সুনীল কুমার। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের হোতারা দাবি করেছিলেন, অযোধ্যায় যে বাবরি মসজিদটি ছিল তা রামের জন্মস্থানেই নির্মিত হয়েছিল। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উগ্র হিন্দুত্বের ধ্বজা উড়িয়ে উন্মত্ত জনতা মসজিদটি ভেঙে দেয়। ২০১৯ সালের মাসে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়ে বিতর্কিত জায়গাটি হিন্দুদেরকেই দিয়ে দেয়।

🚨

: Muslim vendors of Makrana narrate, how

brought jobs and prosperity to them , their families & their people..👇

👉 All the marble worth crores including the one to be used in 'Garbh Grihya' has been procured from muslim vendors of Makrana

👉 The carving…

— Ritu #जिष्णु (@RituRathaur)

হিন্দু মহাসভা রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও অস্বীকার করেছে, কারণ এটি নাকি আসলে 'বিজেপি-স্পন্সরড রাজনৈতিক প্রোগ্রাম'। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে হিন্দু মহাসভা চিঠি লিখেছিল যে ট্রাস্টটি চারটি পীঠ বা ধর্মীয় মন্দিরের প্রধানদের আমন্ত্রণ না জানিয়ে সনাতন ধর্মকে অপমান করেছে। চম্পত রাই ১৮ ডিসেম্বর বলেছিলেন, প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি এবং মুরলি মনোহর যোশীকে স্বাস্থ্যের কারণে অনুষ্ঠানে 'না আসার অনুরোধ' করা হয়েছে। অন্য দিকে নবতিপর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে! হিন্দুত্ববাদীদেরই একাংশ বলছে, বিজেপি দুই বরিষ্ঠ নেতাকে একেবারেই সরিয়ে দিয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবেই। বলিউডের তারকা এবং বিরোধী নেতাদেরও যেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেখানে আডবানি এবং চারটি পীঠের শঙ্করাচার্যদের না ডাকায় ক্ষুব্ধ তারা।

হিন্দুত্ববাদীদের এই অংশের সমর্থকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বিজেপি সরকার মুসলিম ভাস্কর এবং কারিগরদের মন্দিরের কাজ করার অনুমতি দিল! মন্দিরে মুসলিমদের কাজ করতে দেওয়া নাকি 'কংগ্রেস ও জিহাদি'-দের কাজের থেকেও খারাপ। এবং এখানেও বিজেপি আসলে সমস্ত সম্প্রদায়ের কাছে ভোট প্রচার করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকেই মাথায় রাখছে।

हिंदू महासभा के वरिष्ठ पदाधिकारीयों को चंपत राय द्वारा मंदिर प्रांगण मे किए जा रहे भाजपा प्रायोजित राजनैतिक कार्यक्रम के लिए भेजे गए निमंत्रण पत्र का यथोचित प्रतिउत्तर भेज दिया गया है

हिन्दुओ को बरगलाने के उद्देश से भाजपा द्वारा किए जा रहे इस कुत्सित प्रयास का हम समर्थन नहीं करते

— Hindu Mahasabha Uttar Pradesh (@ABHMSUP)

মন্দিরে মুসলমান শিল্পীদের নিয়োগ করা নিয়ে বিতর্ক থামাতে মন্দির ট্রাস্ট তিনজন ভাস্করের নাম প্রকাশ করে যাদের কাজের মধ্যে একজনের তৈরি মূর্তিই গর্ভগৃহে বসানো হবে। ভাস্কর অরুণ যোগীরাজের মূর্তিই বসছে ভেতরে। হিন্দু মহাসভার সভ্যদের আরও দাবি, মন্দির এবং যে মূর্তি ভিতরে স্থাপন করা হবে তা হিন্দু শাস্ত্রে বর্ণিত নির্দেশিকা অনুসারে তৈরি করা হয়নি। অনেকে বলছেন, মন্দিরের খোদাইকর্মে ইসলামিক প্রভাব রয়েছে। তাই 'রামলালা'র মন্দিরের গর্ভগৃহে মুঘল স্থাপত্যের চিহ্ন থাকছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি শেষ পর্যন্ত বিজেপিরই উপকার করছে। এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মন্দিরের শ্রমিক ও শিল্পীদের ধর্ম নিয়ে এমন মনোভাব পোষণ বিজেপিরই সুবিধা করে দেবে। হিন্দু মহাসভার মতো সংস্থাগুলির সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব নেই। কিন্তু তারা প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য চরম ডানপন্থী অবস্থান নেয়। কিন্তু যে মুহূর্তে, বিজেপি বা সংঘ পরিবার কোনও সত্যিকারের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে হিন্দু মহাসভা আবার একসঙ্গে মিলে যাবে। এই সমস্ত নিন্দা, রাগ, সমালোচনা নেহাতই অগভীর। শিকড়ে শক্ত হিন্দুত্ববাদীরা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।