ধর্ষকদের ছাড় দেওয়া, ব্রিজ দুর্ঘটনার পরেও কেন গেরুয়াতেই ঝুঁকে গুজরাট

Gujarat Elections 2022: গুজরাতে ক্ষমতা হারানোর ভয় কি আদৌ আছে বিজেপি-র?

pampii adhikari
৪ মিনিট
ধর্ষকদের ছাড় দেওয়া, ব্রিজ দুর্ঘটনার পরেও কেন গেরুয়াতেই ঝুঁকে গুজরাট

‘বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান’ দেশের কথা লিখে গিয়েছিলেন কবি। জনগণের মনের জাগরণ ঘটাতে গেয়েছিলেন গান। কিন্তু বাঙালি কবি গুজরাতের মন কতটা পড়তে পেরেছিলেন, এই প্রশ্ন অবান্তর নয়। কারণ ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার আগে হোক বা পরে, গুজরাতের রাজনীতি ও সমাজনীতি বরাবরই একমুখী। স্বাধীনতার ‘অমৃতকাল’-এও বিশেষ রদবদল ঘটেনি। নইলে ২০০২-এর গণহত্যা, বিলকিস বানোর প্রতি ঘোর অবিচার, মোরবিতে মানুষের ঘটানো সলিল-সমাধির পরেও ‘গুজরাত মডেল’-এর গুণকীর্তন শোনা যেত না। চোখের সামনে শিক্ষা, দীক্ষা, বীক্ষা ধূলিসাৎ হতে দেখেও গুজরাতে ভারতীয় জনতা পার্টি-র ভোটের ঝুলি উপচে পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী শোনা যেত না দিকে দিকে।

‘এক দেশ এক নির্বাচন’ হোক বা ক্ষমতার একত্রীকরণ, অথবা ধর্মের নিরিখে নাগরিকত্ব প্রদানের নিদান, বিশেষ সম্প্রদায়কে দেশছাড়া করার আহ্বান, গত আট বছরে একটু একটু করে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর পলেস্তরা ধসে গিয়েছে অনেকটাই। চুনকাম চাপিয়ে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তার ওপর প্রলেপ দেওয়ার স্বপ্ন বুনছেন অনেকেই। ভারতীয় রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে গুজরাতের দিকে তাই তাকিয়ে রয়েছেন অনেকেই। ঘরের মাঠে বিজেপি-র মোকাবিলা করতে পারলেই, বাকি পথ পেরনোর অক্সিজেন জোগাড় হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের স্বপ্ন যে মাঠে মারা যেতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলেছে ইতিমধ্যেই।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বিধানসভা নির্বাচনের ভোটদান মিটে গিয়েছে গুজরাতে। দ্বিতীয় সপ্তাহে ফলাফল প্রকাশ। কিন্তু বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, গুজরাতে আরও একবার প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে বিজেপি-র। আগাম পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮২ আসনের গুজরাত বিধানসভায় অর্ধেকেরও বেশি, ১৩২ আসন বিজেপি-র দখলেই থাকবে। ২০১৭ সালে প্রত্যাশা জাগালেও, এবার আরও নেমে সাকুল্যে ৩৮ আসন পেতে পারে কংগ্রেস। বরং প্রথমবার গুজরাতে পা রেখে কংগ্রেসর ভোট কেটে নিয়ে যেতে পারে আম আদমি পার্টি। সেক্ষেত্রে গুজরাতের ভূমিপুত্র নরেন্দ্র মোদি আরও একবার অদম্য প্রমাণিত হবেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে আরও ক্ষমতা বাড়বে তাঁর দল বিজেপি-র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি ম্যাজিক না কি শাহি-শ্রম? কোন মন্ত্রে গুজরাতে ফের পদ্ম-হাতছানি

Gujarat Elections 2022: সব মিলিয়ে কে জিতবে? বিজেপি না কংগ্রেস না কি নজির গড়বে আম আদমি দল?

রাজনীতির ময়দানে দুর্বল পক্ষ বরাবরই বুথফেরত সমীক্ষাকে খাটো করে দেখে। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না। রাহুল গান্ধী ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, প্রচারে ন্যূনতম সময় ব্যয় না করলেও, এ‌বারে তাদের ক্ষমতায় আসা আটকানো যাবে না বলে দৃঢ় বিশ্বাস কংগ্রেসের। কিন্তু ২০১৭-য় বিজেপি-কে কড়া টক্কর দেওয়া কংগ্রেসে, গুজরাতের আহমেদ প্যাটেলের অভাব টের পাওয়া যাচ্ছে ভালোমতোই। দলবদলের হিড়িকে ২০১৭-য় পাওয়া জেতা আসনসংখ্যাও কমেছে। তার ওপর অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তাঁর দল আপের ভোটে ভাগ বসানোর ঝুঁকিও রয়েছে। বুথফেরত সমীক্ষাতেও তাই ব্যাকফুটেই রয়েছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের কেউ কেউ বলছেন, বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার মাসুল গুনতে হবে বিজেপি-কে। সংখ্যালঘু মুসলিম এবং মহিলারা কংগ্রেসের থেকে মুখ ফেরাবেন না। নির্বাচনী ইস্তেহারে বিলকিসের ধর্ষকদের ফের জেলে পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও তাঁদের পক্ষেই যাবে বলে দাবি কংগ্রেস নেতাদের একাংশের। একই সঙ্গে মোরবিতে ঝুলন্ত সেতু বিপর্যয়ে শতাধিক প্রাণহানি, সেতুর টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতি, কারচুপির সুফলও ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। সর্বোপরি দলিত নেতা জিগনেশ মেভানি রয়েইছেন। পাটিদার নেতা হার্দিক প্যাটেলের দলবদলও প্যাটেলদের কংগ্রেসমুখী করবে বলে আশাবাদী কেউ কেউ।

কিন্তু গুজরাতের রাজনৈতিক ইতিসাহ সাক্ষী, দাঙ্গা, গণহত্যা, ধর্ষণ, ভুয়ো এনকাউন্টার, কোনও কিছুই গুজরাতকে টলায়নি। গুজরাত থেকেছে গুজরাতেই। মাঝে এদিক-ওদিক সামান্য টাল খেলেও, ফের ‘নিরাপদ’ আশ্রয়কেই ভরসা করেছে তারা। তার ইঙ্গিতও মিলেছে ইতিধ্যেই। কারাবাসের দীর্ঘ সময় প্যারোলে কাটিয়ে দেওয়া, তার পরেও শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত হওয়া, বিলকিসের ১১ জন ধর্ষকের মুক্তিতে দেশজুড়ে সমালোচনা হলেও, মোমবাতি মিছিল তো দূর, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খোলার তাগিদও অনুভব করেননি গুজরাতের সিংহভাগ নাগরিক। জেলের বাইরে থেকে মিষ্টিমুখ করিয়ে, মালা পরিয়ে তাঁদের বীরের সম্মানে সমাজে জায়গা পেতে দেখেও, তেমন ওজর-আপত্তি শোনা যায়নি রাজ্যবাসীর মুখে।

একই কথা প্রযোজ‍্য মোরবি বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও। দুর্নীতি, কারচুপির জলজ্যান্ত প্রমাণ হাতের কাছে থাকলেও, শিশু-সহ শতাধিক মানুষের সলিল সমাধিতে দেশে, এমনকী, বিদেশে সমালোচনা হলেও, গুজরাত মোটামুটি নীরবই থেকেছে। ঘড়ি তৈরির সংস্থা সেতু মেরামতির বরাত পেল কেন, সামান্য টাকা মাইনের টিকিট বিক্রেতা, নিরাপত্তারক্ষী গ্রেফতার হলেও, সংস্থার মালিক কীভাবে অধরা থেকে যান, আদ্যোপান্ত দুর্নীতির প্রমাণকে কীভাবে দৈব ঘটনা বলে তুলে ধরা হয় আদালতে, প্রশ্ন তোলেননি গুজরাতে। বরং মানুষ সেতুতে উঠতে গেলেন কেন, চায়ের দোকানে, রাস্তার মোড়ে, যুক্তি হয়ে উঠে এসেছে পাল্টা প্রশ্ন, যাতে বিজেপি সরকারের প্রতি নিষ্ঠা এবং আনুগত্যই প্রতিফলিত হয়েছে।

আর বিজেপি-র কথা! নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ভূমিপুত্র হওয়ার দরুণ, গুজরাত তাদের কাছে মর্যাদার লড়াই। কিন্তু গুজরাতে ক্ষমতা হারানোর ভয় কি আদৌ আছে বিজেপি-র? থাকার কোনও কারণও নেই। কারণ ২০০২ সালের দাঙ্গার পর আরও ফুলেফেঁপে ওঠে তাদের ভোটবাক্স। কচ্ছে লবণ-শ্রমিকরা ৩০ দিনে একবার পানীয় জল পেলেও, ‘গুজরাত মডেল’-এর স্বপ্ন হইহই করে বিকিয়েছে গোটা দেশে। মোষের শিংয়ের গুঁতোয় ট্রেনের গতি থামলেও, গুজরাতবাসীর স্বয়নে-স্বপনে বুলেট ট্রেন ছোটাতে পেরেছে তারা। আর রইল সংখ্যালঘু ভোট, ছ’কোটির জনসংখ্যায় মুসলিম মাত্র সাড়ে ৪৫ লক্ষ। তাদের ভোট না পেলেও, ক্ষমতায় আসা আটকাবে না বিজেপি-র।

তাই বিলকিসের ‘ব্রাহ্মণ সন্তান’ ধর্ষকদের দরাজ সার্টিফিকেট দেওয়া নেতা সিকে রাহুলজি-কে গোধরায় প্রার্থী করার আগে দ্বিতীয় বার ভাবতে হয় না বিজেপি-কে। গুজরাত দাঙ্গায় দোষী সাব্যস্ত, জামিনে ঘুরে বেড়ানো মনোজ কুলকার্নির ৩০ বছরের মেয়ে পায়েল প্রার্থী হন নারোদায়, ২০০২ সালে যেখানে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় ৯৭ জন মুসলিম নাগরিককে, মুসলিম মেয়েদের ধরে ধরে নিগ্রহ, গণধর্ষণ করা হয়। তাই কংগ্রেস বিজেপি-কে হারানোর দিবাস্বপ্নে মশগুল থাকলেও, দলের তরুণ নেতা, গুজরাতের ভূমিপুত্র জিগনেশ স্বীকার করে নেন যে, বিলকিসের প্রতি হওয়া অবিচার কংগ্রেসকে ভোট বাড়াতে সাহায্য করবে না কোনও ভাবেই। বিজেপি সরকারের বিরোধিতা করার উদ্যমই নেই মানুষের মধ্যে। আর যদিও বা ঘটে যায় কোনও মিরাকল, চার্টার্ড বিমান, নিরাপদ রাজ্য, বিলাসবহুল গেস্ট হাউস রয়েইছে। দান উল্টে দিতে বেশি সময় লাগার কথা নয়।

লিখেছেন
pampii adhikari
pampii adhikari
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?