ঘটা করে কেক কেটে জন্মদিন পালন! তাও কিনা রেল স্টেশনের! তাক লাগাচ্ছে গোবরডাঙা
Birthday Celebration : মোমবাতি জ্বেলে কেক কেটে অভিনব জন্মদিন পালন গোবরডাঙা রেল স্টেশনের

উত্তর ২৪ পরগনার শিয়ালদা - বনগাঁ শাখার ১৯তম স্টেশন গোবরডাঙ্গা। বাংলাদেশ লাগোয়া জেলার প্রাচীন জনপদ এটি। ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জনের আমলে এখানে গড়ে উঠেছিল রেলস্টেশনটি। তারপর সময়ের সঙ্গে অনেক বদল এসেছে এখানে। বেড়েছে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা। এমনকী এ স্টেশনের প্রাচীনত্বের কথা মাথায় রেখে আলাদা করে লোকাল চালু করারও সিদ্ধান্ত নেন সরকার।
এই স্টেশনটি ঘিরে প্রাচীনত্বের পাশাপাশি রয়েছে জমকালো ইতিহাসও। রয়েছে অভিনব ‘সাড়ে তিন নম্বর’ প্ল্যাটফর্ম। স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাঁদিকে প্রায় নজরে না-পড়া একটি ছোট্ট প্ল্যাটফর্ম। জঙ্গল, আগাছা গ্রাস করেছে ঠিকই কিন্তু আজও গোবরডাঙার সমৃদ্ধ জমিদারদের স্মৃতিচিহ্ন বহন করে চলেছে এই প্ল্যাটফর্মটি। তবে ওই সাড়ে তিন নম্বরটি কে বাদ দিলে বাকি যে তিনটি প্ল্যাটফর্ম, তা অবশ্য ব্যস্তমুখর।
প্রাচীন এই শহরটিকে ঘিরে নস্টালজিয়ার শেষ নেই। তবে কিনা রেল স্টেশনের জন্মদিন পালন, এ অবশ্য তাক লাগাতে বাধ্য। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁইছুঁই। সবরকম প্রস্তুতি সারা। কেকের ওপর মোমবাতি সাজানো। তাতে আগুনও ধরানো হয়েছে ইতিমধ্যে। অতঃপর ১২ টা বাজতেই করতালির শব্দে মুখর চারদিক। ধুমধাম করে কেক কেটে পালিত হল স্টেশনের জন্মদিন। স্টেশন তো নয়, যেন একেবারে রক্ত মাংসের কোনও প্রিয়জন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jonathan the Tortoise: প্রায় দু শতাব্দীর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এখন জোনাথান। কী না দেখেছে সে!
অভিনব কায়দায় রেলওয়ে স্টেশনের জন্মদিন পালনের এই নজির স্বভাবতই প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। আজ থেকে ১৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৮৩ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রথম ট্রেন পরিষেবা চালু হয় শিয়ালদা থেকে গোবরডাঙ্গার রুটে। সেই হিসেব মেনেই আজ তার জন্মদিন। বৃদ্ধ হলেও জৌলুস কমেনি তার। নিয়ত ব্যস্ততা ঘিরে জানান দেয় তার অস্তিত্ব।
এদিন কেক কাটা পর্ব মিটতেই স্টেশনে এসে দাঁড়ায় শিয়ালদা - বনগাঁগামী ট্রেন। একে একে ট্রেন থেকে নেমে আসা সকল যাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় জন্মদিনের চকলেট। এখানেই শেষ নয় এরপর আবারও কেক কাটার দ্বিতীয় পর্ব চলে স্টেশন মাস্টারের ঘরে। গোবরডাঙ্গার কিছু যুবক এবং প্রবীণ নাগরিকের যৌথ উদ্যোগে এই অভিনব আয়োজনের সাক্ষী থাকল প্রাচীন জনপদটি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই জন্মদিনের আদলে একটু একটু করে সেজে ওঠে গোবরডাঙ্গা স্টেশন চত্বর। টিকিট কাউন্টারের সামনে রঙিন চক দিয়ে বড় বড় করে লেখা হয় “গোবরডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন - শুভ জন্মদিন - ১৪০ তম বর্ষ”। আর পাশেই রাখা হয় একটি বড় কেক।
এই স্টেশন বহু মানুষের রুজি রুটির সংস্থান করে। তাই সেও আদতে বন্ধু এমনটাই মনে করছেন মূল উদ্যোক্তা মানিক ঘোষ। আর সেই ভাবনা থেকেই এই অভিনব আয়োজন বলেই জানিয়েছেন তিনি। আগামীতে বছর বছর এভাবেই নিজেদের প্রিয় স্টেশনটিকে সাজিয়ে গুছিয়ে জন্মদিন উপহার দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। এই উদ্যোগে সামিল হোক ভবিষ্যত প্রজন্মও, কাম্য সেটাই।
















