মোদির বিজেপি ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাতে পারে নির্বাচনের ঠিক আগে, কেন বলছেন সত্যপাল?

BJP May Cause Ram Mandir Attack: বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ ছিলই, লোকসভা ভোটের আগে পুলওয়ামা কাণ্ড বিজেপির মদতেই ঘটেছে।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
মোদির বিজেপি ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাতে পারে নির্বাচনের ঠিক আগে, কেন বলছেন সত্যপাল?

পুলওয়ামা ঘটয়েছিল বিজেপিই, নির্বাচনের ঠিক আগে ভোট কাড়তে- এমনটা বিশ্বাস করতেন বিরোধীরা। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগেও যদি এমনই কিছু ঘটে, আশ্চর্য হওয়ার নেই। জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল সম্প্রতি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন! তিনি বলছেন, মরিয়া বিজেপি চাইলে তাদের সাধের রাম মন্দিরে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, চাইলে কোনও বিজেপি নেতাকে খুনও করিয়ে দিতে পারে! ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া হলে মানুষ কতদূর যেতে পারে? ইতিহাসে এক ঝলক তাকানো যাক। ভারতের মহাকাব্য ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ, অন্ত্যজর উপর উচ্চবর্ণের জুলুম 'জায়েজ' করে ফেলেছে। মন্ত্রণা আর বিষ আমাদের রক্তে। বহু যুগ ধরেই নানা শাসক সেই বিষের চারাটিকে সযত্নে আগল দিয়েছে, সার জল দিয়ে মহীরুহে পরিণত করেছে। এবার সেই বিষবৃক্ষের ফল পেতে মরিয়া শাসক কতদূর যাবে? ক্ষমতা এমন, যাতে বৃহত্তর কিছু অর্জনের জন্য বৃহৎকে সহজেই বলি দেওয়া যায়। নিজের এক কীর্তিকে ধ্বংস করেই আরেক কীর্তি গড়তে হয়, তাতে 'কোল্যাটেরাল ড্যামেজ' যাই হোক না কেন, তা নেহাতই সামান্য। মানুষের প্রাণ চিরকালই সস্তা। বিশ্বস্ত বোড়েদের মুন্ডু কেটেই রাজারা পতাকা উড়িয়েছে। শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ ছিলই, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে পুলওয়ামা কাণ্ড বিজেপির মদতেই ঘটেছে, যাতে জাতীয়তাবাদের ধ্বনি দিয়ে আর পাকিস্তানের মুণ্ডপাত করে হেলায় জিতে নেওয়া যায় বিষবৃক্ষের হাওয়ায় বড় হওয়া দেশের দিল। ২০২৪ এসে গিয়েছে প্রায়। আরেকটা লোকসভা নির্বাচন। ইন্ডিয়া বনাম এনডিএ-র লড়াইতে ইতিমধ্যেই রাস্তা কঠিন হতে শুরু করেছে। দেশের ভোট কাড়তে এবার কোন মরিয়া পথে হাঁটবে বিজেপি? জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন গভর্নর সত্যপাল মালিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনছেন, তাতে আতঙ্ক সীমা ছাড়াচ্ছে! এমনও কি সম্ভব? রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য রামমন্দিরে বিস্ফোরণ ঘটাতে চলেছে বিজেপি?

সত্যপাল মালিক বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি অত্যন্ত বিপজ্জনক একজন মানুষ। তিনি যেনতেন প্রকারেণ জিততে চাইবেনই। এমনকী এত কোটি টাকা দিয়ে গড়া রাম মন্দিরে হামলা চালাতে পারেন তারা বা নোংরা কৌশলের অংশ হিসাবে বিজেপির যে কোনও শীর্ষ নেতাকে হত্যা করাতে পারেন! প্রধানমন্ত্রী মোদির নির্মম নির্বাচনী কৌশলের কথা স্মরণ করিয়ে সত্যপাল মালিক বারেবারে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার কথা উল্লেখ করেছেন। সত্যপালের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি ইচ্ছাকৃতভাবেই সেবার সেনাদের বলি দিয়েছিলেন দেশের 'সেন্টিমেন্ট' জিততে! যে এই জাতীয় ঘটনা ঘটাতে পারে, সে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য যা খুশি তাই করতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অযোধ্যার রামমন্দিরে ৬ কোটি বছরের পুরনো শালগ্রাম! ইতিহাস নাকি মিথ?

Shaligram Stones Ayodhya Ram Mandir : পবিত্র এই শিলা খোদাই করেই নাকি মন্দিরের জন্য রাম-সীতার মূর্তি তৈরি করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই কাজ শুরু হতে এখনও খানিক সময় লাগবে।

"सत्ता की खातिर राम मंदिर पर करवा सकते हैं हमला या फिर BJP के किसी बड़े नेता को मरवा सकते हैं"

◆ सोशल मीडिया पर वायरल हुआ जम्मू-कश्मीर के पूर्व राज्यपाल सत्यपाल मलिक का बयान

SatyaPal Malik | Ram Mandir

— News24 (@news24tvchannel)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বোমায় বিধ্বস্ত পা, নিজেই ছুরি দিয়ে কেটে বাদ দিলেন এই ভারতীয় সেনানায়ক

Ian Cardozo Indian army: ৮৫ বছর বয়সে আসার পরও সেই সাহস এতটুকুও কমেনি! মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজো আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা

সত্যপাল একা নন, পুলওয়ামা যে বিজেপির মদতেই ঘটানো এমন অভিযোগ তুলেছিলেন দেশের বহু বিরোধী নেতা এবং সাধারণ মানুষও। সত্যপালের ব্যাখ্যা, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানেন কীভাবে দেশ শাসন করতে হয়, কতটা ভয় তৈরি করতে পারলে, কতটা ঘৃণা ছড়াতে পারলে ভোট চলে আসে ইভিএমে। সত্যপালের দাবি নরেন্দ্র মোদির এখনই পদত্যাগ করাই ভালো কারণ, স্বাভাবিক পথে তিনি ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে সফল হতে পারবেন না। তাই অস্বাভাবিক নয় যদি ঠিক ভোটের কিছু আগেই রামমন্দিরে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে আর সমস্ত দায় চাপানো হয় সংখ্যালঘুদের উপর। সারাদেশে কী ভয়াবহ আগুন জ্বলবে সহজেই অনুমেয়। সেই আগুনে নিজেদের ভোটের বাজার গরম করবে বিজেপি। শীর্ষস্থানীয় কোনও বিজেপি নেতাকে খুন করিয়ে দিয়েও দেশের মানুষের সহমর্মিতা কিনে নিতে পারে এই দল।

পুলওয়ামার ঘটনা যখন ঘটে সত্যপাল ছিলেন জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল। সত্যপাল মালিক জানিয়েছিলেন, পুলওয়ামা হামলার বিষয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল। দ্য ওয়্যারের একটি সাক্ষাত্কারে সত্যপাল উল্লেখ করেছিলেন যে, সিআরপিএফ কনভয় তাদের লোকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিমান চেয়েছিল কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তা দিতে অস্বীকার করে। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যে এই জওয়ানদের মৃত্যু আসলে তাঁদেরই দোষে হয়েছে, বিমানের অনুমতি দিলেই এই মৃত্যু রোখা যেত, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। সত্যপাল মালিক সেই সময় বলেছিলেন, পুলওয়ামার ঘটনায় গোয়েন্দাদের ব্যর্থতাও ছিল চরম কারণ ৩০০ কিলোগ্রাম RDX বিস্ফোরক নিয়ে একটা গাড়ি পাকিস্তান থেকে এসে ১০-১৫ দিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের রাস্তায়, গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, অথচ কেউ বুঝল না এটা কীভাবে সম্ভব?

মণিপুর হিংসাও কি বিজেপির ইন্ধন পাচ্ছে? সত্যপালের অভিযোগ, সরকারই অস্ত্র সরবরাহ করে রাজ্যে তাণ্ডব চালাচ্ছে। কারণ এই হিংসায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলি সাধারণ মানুষের কাছে মোটেও সহজলভ্য নয়। ইনসাস রাইফেল বাজারে পাওয়া যায় না কিন্তু সরকারের সেনাবাহিনীতে পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতি নিযুক্ত হন সত্যপাল। তবে, দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিবাদকে সমর্থন করেছিলেন তিনি। গ্লোবাল জাট সামিটে তাঁর বক্তৃতায় তিনি কৃষকদের প্রতিবাদ সম্পর্কে ভারত সরকারকে সতর্ক করেছিলেন।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।