মোদির বিজেপি ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাতে পারে নির্বাচনের ঠিক আগে, কেন বলছেন সত্যপাল?
BJP May Cause Ram Mandir Attack: বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ ছিলই, লোকসভা ভোটের আগে পুলওয়ামা কাণ্ড বিজেপির মদতেই ঘটেছে।

পুলওয়ামা ঘটয়েছিল বিজেপিই, নির্বাচনের ঠিক আগে ভোট কাড়তে- এমনটা বিশ্বাস করতেন বিরোধীরা। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগেও যদি এমনই কিছু ঘটে, আশ্চর্য হওয়ার নেই। জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল সম্প্রতি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন! তিনি বলছেন, মরিয়া বিজেপি চাইলে তাদের সাধের রাম মন্দিরে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, চাইলে কোনও বিজেপি নেতাকে খুনও করিয়ে দিতে পারে! ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া হলে মানুষ কতদূর যেতে পারে? ইতিহাসে এক ঝলক তাকানো যাক। ভারতের মহাকাব্য ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ, অন্ত্যজর উপর উচ্চবর্ণের জুলুম 'জায়েজ' করে ফেলেছে। মন্ত্রণা আর বিষ আমাদের রক্তে। বহু যুগ ধরেই নানা শাসক সেই বিষের চারাটিকে সযত্নে আগল দিয়েছে, সার জল দিয়ে মহীরুহে পরিণত করেছে। এবার সেই বিষবৃক্ষের ফল পেতে মরিয়া শাসক কতদূর যাবে? ক্ষমতা এমন, যাতে বৃহত্তর কিছু অর্জনের জন্য বৃহৎকে সহজেই বলি দেওয়া যায়। নিজের এক কীর্তিকে ধ্বংস করেই আরেক কীর্তি গড়তে হয়, তাতে 'কোল্যাটেরাল ড্যামেজ' যাই হোক না কেন, তা নেহাতই সামান্য। মানুষের প্রাণ চিরকালই সস্তা। বিশ্বস্ত বোড়েদের মুন্ডু কেটেই রাজারা পতাকা উড়িয়েছে। শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ ছিলই, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে পুলওয়ামা কাণ্ড বিজেপির মদতেই ঘটেছে, যাতে জাতীয়তাবাদের ধ্বনি দিয়ে আর পাকিস্তানের মুণ্ডপাত করে হেলায় জিতে নেওয়া যায় বিষবৃক্ষের হাওয়ায় বড় হওয়া দেশের দিল। ২০২৪ এসে গিয়েছে প্রায়। আরেকটা লোকসভা নির্বাচন। ইন্ডিয়া বনাম এনডিএ-র লড়াইতে ইতিমধ্যেই রাস্তা কঠিন হতে শুরু করেছে। দেশের ভোট কাড়তে এবার কোন মরিয়া পথে হাঁটবে বিজেপি? জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন গভর্নর সত্যপাল মালিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনছেন, তাতে আতঙ্ক সীমা ছাড়াচ্ছে! এমনও কি সম্ভব? রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য রামমন্দিরে বিস্ফোরণ ঘটাতে চলেছে বিজেপি?
সত্যপাল মালিক বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি অত্যন্ত বিপজ্জনক একজন মানুষ। তিনি যেনতেন প্রকারেণ জিততে চাইবেনই। এমনকী এত কোটি টাকা দিয়ে গড়া রাম মন্দিরে হামলা চালাতে পারেন তারা বা নোংরা কৌশলের অংশ হিসাবে বিজেপির যে কোনও শীর্ষ নেতাকে হত্যা করাতে পারেন! প্রধানমন্ত্রী মোদির নির্মম নির্বাচনী কৌশলের কথা স্মরণ করিয়ে সত্যপাল মালিক বারেবারে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার কথা উল্লেখ করেছেন। সত্যপালের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি ইচ্ছাকৃতভাবেই সেবার সেনাদের বলি দিয়েছিলেন দেশের 'সেন্টিমেন্ট' জিততে! যে এই জাতীয় ঘটনা ঘটাতে পারে, সে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য যা খুশি তাই করতে পারে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Shaligram Stones Ayodhya Ram Mandir : পবিত্র এই শিলা খোদাই করেই নাকি মন্দিরের জন্য রাম-সীতার মূর্তি তৈরি করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই কাজ শুরু হতে এখনও খানিক সময় লাগবে।
"सत्ता की खातिर राम मंदिर पर करवा सकते हैं हमला या फिर BJP के किसी बड़े नेता को मरवा सकते हैं"
◆ सोशल मीडिया पर वायरल हुआ जम्मू-कश्मीर के पूर्व राज्यपाल सत्यपाल मलिक का बयान
SatyaPal Malik | Ram Mandir
— News24 (@news24tvchannel)
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ian Cardozo Indian army: ৮৫ বছর বয়সে আসার পরও সেই সাহস এতটুকুও কমেনি! মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজো আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা
সত্যপাল একা নন, পুলওয়ামা যে বিজেপির মদতেই ঘটানো এমন অভিযোগ তুলেছিলেন দেশের বহু বিরোধী নেতা এবং সাধারণ মানুষও। সত্যপালের ব্যাখ্যা, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানেন কীভাবে দেশ শাসন করতে হয়, কতটা ভয় তৈরি করতে পারলে, কতটা ঘৃণা ছড়াতে পারলে ভোট চলে আসে ইভিএমে। সত্যপালের দাবি নরেন্দ্র মোদির এখনই পদত্যাগ করাই ভালো কারণ, স্বাভাবিক পথে তিনি ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে সফল হতে পারবেন না। তাই অস্বাভাবিক নয় যদি ঠিক ভোটের কিছু আগেই রামমন্দিরে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে আর সমস্ত দায় চাপানো হয় সংখ্যালঘুদের উপর। সারাদেশে কী ভয়াবহ আগুন জ্বলবে সহজেই অনুমেয়। সেই আগুনে নিজেদের ভোটের বাজার গরম করবে বিজেপি। শীর্ষস্থানীয় কোনও বিজেপি নেতাকে খুন করিয়ে দিয়েও দেশের মানুষের সহমর্মিতা কিনে নিতে পারে এই দল।
পুলওয়ামার ঘটনা যখন ঘটে সত্যপাল ছিলেন জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল। সত্যপাল মালিক জানিয়েছিলেন, পুলওয়ামা হামলার বিষয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল। দ্য ওয়্যারের একটি সাক্ষাত্কারে সত্যপাল উল্লেখ করেছিলেন যে, সিআরপিএফ কনভয় তাদের লোকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিমান চেয়েছিল কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তা দিতে অস্বীকার করে। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যে এই জওয়ানদের মৃত্যু আসলে তাঁদেরই দোষে হয়েছে, বিমানের অনুমতি দিলেই এই মৃত্যু রোখা যেত, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। সত্যপাল মালিক সেই সময় বলেছিলেন, পুলওয়ামার ঘটনায় গোয়েন্দাদের ব্যর্থতাও ছিল চরম কারণ ৩০০ কিলোগ্রাম RDX বিস্ফোরক নিয়ে একটা গাড়ি পাকিস্তান থেকে এসে ১০-১৫ দিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের রাস্তায়, গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, অথচ কেউ বুঝল না এটা কীভাবে সম্ভব?
মণিপুর হিংসাও কি বিজেপির ইন্ধন পাচ্ছে? সত্যপালের অভিযোগ, সরকারই অস্ত্র সরবরাহ করে রাজ্যে তাণ্ডব চালাচ্ছে। কারণ এই হিংসায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলি সাধারণ মানুষের কাছে মোটেও সহজলভ্য নয়। ইনসাস রাইফেল বাজারে পাওয়া যায় না কিন্তু সরকারের সেনাবাহিনীতে পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতি নিযুক্ত হন সত্যপাল। তবে, দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিবাদকে সমর্থন করেছিলেন তিনি। গ্লোবাল জাট সামিটে তাঁর বক্তৃতায় তিনি কৃষকদের প্রতিবাদ সম্পর্কে ভারত সরকারকে সতর্ক করেছিলেন।






