বোমায় বিধ্বস্ত পা, নিজেই ছুরি দিয়ে কেটে বাদ দিলেন এই ভারতীয় সেনানায়ক

Ian Cardozo Indian army: ৮৫ বছর বয়সে আসার পরও সেই সাহস এতটুকুও কমেনি! মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজো আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা

Aritra Som
৪ মিনিট
বোমায় বিধ্বস্ত পা, নিজেই ছুরি দিয়ে কেটে বাদ দিলেন এই ভারতীয় সেনানায়ক

মাথায় কমে আসা সাদা চুল, মুখে সাদা চাপদাড়ি। বয়সের ভারে চামড়াও কুঁচকেছে খানিকটা। কিন্তু এসবের আড়ালে শক্ত, কঠিন চেহারাটা একই থেকে গিয়েছে। ৮৫ বছর বয়সী মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজোকে এখনও বৃদ্ধের খাতায় ফেলা যায় না। সম্প্রতি তাঁর নতুন বই ‘কার্তুস সাব’ (Cartoos Saab: A Soldier’s story of Resilience in Adversity) বইটি উদ্বোধনের সময়ও তাঁর চোখের দৃষ্টি একেবারে তাজা। আর পা? মেজর কার্ডোজোর পা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে একটা আলাদা জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারত-পাক যুদ্ধে তাঁর একটি পা একেবারে বাদ যায়। সেটাই এক রোমহর্ষক কাহিনি। আরও ভালো করে বললে, সাহস, কর্তব্যবোধ আর হার না মানা এক সেনা নায়কের কাহিনি। ভারতের প্রথম ওয়ার ডিজেবেলড সেনা অফিসার, যিনি ব্যাটেলিয়ন ও ব্রিগেড সামলেছেন। বলিউডও ইয়ান কার্ডোজোকে নিয়ে একটি সিনেমার পরিকল্পনা করেছে। ২০২৩-এ মুক্তি পাবে সেই 'গোর্খা' সিনেমাটি। তাতে মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজোর ভূমিকায় থাকবেন স্বয়ং অক্ষয় কুমার।

গল্পটা শুরু হয়েছিল ১৯৩৭ সালের ৭ আগস্ট থেকে। মুম্বইয়ের (তৎকালীন বম্বে শহর) মতো এক স্বপ্ননগরীতে ভিনসেন্ট এবং ডায়ানা কার্ডোজোর কোলে জন্ম নেন ইয়ান কার্ডোজো। সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল ও কলেজের প্রাক্তনী ইয়ানের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল গোড়া থেকেই। সেই লক্ষ্যেই ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে (এনডিএ) যাওয়া, তারপর ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হওয়া। সেখান থেকেই তাঁর যাত্রা শুরু ফিফথ রেজিমেন্ট গোর্খা রাইফেলসে। পরবর্তীকালে এই রেজিমেন্টেরই চতুর্থ ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার হন ইয়ান কার্ডোজো। এই ব্যাটেলিয়নই ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ – দু’টি ভারত-পাঁক যুদ্ধের সাক্ষী। আর এই দুই যুদ্ধেই গোর্খা বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার পদে ছিলেন মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পুলওয়ামা বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড? ইমরানের কাঁটা নয়া পাক সেনাপ্রধানের আসল পরিচয় জানুন

Pakistan New Army in Chief: জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হতে চলেছেন জেনারেল আসিম মুনির আহমেদ। কী তাঁর পরিচয়?

১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধ অনেক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। বাংলাদেশ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের অত্যাচার, রাজাকারদের তাণ্ডব, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সমস্ত বিশ্বের নজর ছিল এদিকেই। অ্যালেন গিনসবার্গ যশোর রোডের ছবি তুলে ধরলেন কবিতায়। সেই সময়ই মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ১৯৬৫-র পর ফের শুরু হয় ভারত-পাকিস্তান সম্মুখ সমর। সেই যুদ্ধে নিজের ফৌজর সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন ইয়ান কার্ডোজোও। সিলেটের যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এই বাহিনীতে থাকাকালীনই তাঁর নতুন নাম হয় ‘কার্তুস সাব’। গোর্খা সৈন্যরা ইয়ান কার্ডোজোর নাম মনে রাখতে পারতেন না, উচ্চারণও করতেও অসুবিধা হতো। তাই এমন নাম।

যাই হোক, এবার আসল ঘটনায় আসা যাক। শুরুর দিকে ইয়ান কার্ডোজো এই যুদ্ধের অংশ ছিলেন না। যুদ্ধ চলাকালীন তাঁর সেনাবাহিনীর এক অফিসার শহিদ হয়ে যান। তখন তাঁর জায়গায় কার্ডোজোকে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সময়ই তিনি ভারতীয় সেনার প্রথম হেলিকপ্টার মিশনের অংশীদারও হন। বাংলাদেশের মাটিতে নেমে হাতে বন্দুক তুলে নেন তিনি। খাবারের অভাব, গুলি-বারুদও কমে আসছে। তবুও লড়াইয়ের ময়দান ও নেতৃত্ব প্রদানের জায়গা থেকে একচুলও সরেননি ইয়ান কার্ডোজো। এদিকে ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক ১৬ ডিসেম্বরের দিন চলে এল। ঢাকায় পতন হল পশ্চিম পাকিস্তানের। তার দু’দিন পর হঠাৎই ইয়ান কার্ডোজোর কাছে একটা খবর এল। স্থানীয় বেশকিছু মানুষের সঙ্গে বিএসএফের কয়েকজন জওয়ানও বন্দি হয়ে আছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশনে উদ্যত হলেন কার্ডোজো সাহেব। কিন্তু প্রথমে তাঁর রেজিমেন্টেরই অফিসাররা একটু দোনোমোনো করতে থাকেন। যুদ্ধ তো শেষ হয়ে গিয়েছে, তার ওপর ওটা বিএসএফের ব্যাপার। গোর্খা রাইফেলসের কি যাওয়া উচিত? কে জানে, বিপদও ঘনিয়ে আসতে পারে শেষ মুহূর্তে। কিন্তু নিজের প্রতিজ্ঞায় অটল ছিলেন ইয়ান কার্ডোজো। শেষমেশ তিনি রওনা দিলেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মত্ত ছিলেন পদ্মাবৎ বিরোধিতায়! গুজরাত ভোটে বিজেপির ভরসা, কে এই করণী সেনা প্রধান?

Gujarat Elections Candidate 2022: ২০১৮-এর অক্টোবর মাসে করণী সেনার মহিলা শাখার রাজকোট-সভাপতি হন রিভাবা। বরাবর বিজেপির সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাঁর।

পরে নিজের বইয়ে কার্ডোজো সাহেব বলছেন, “হয়তো না গেলেই ভালো হতো।” সেই সময়ের বাংলাদেশের মাঠে ঘাটে মাইন ছড়িয়ে রেখেছে পাকিস্তানি সেনারা। সেই মাইনের হদিশ ইয়ান কার্ডোজোর কাছে ছিল না। যাওয়ার পথে অজান্তেই পাকিস্তানের একটি পি২ মাইনে তাঁর পা গিয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে ফেটে উঠল মাইনটি। সমস্ত দিকে ধোঁয়ায় ভরে গেল। মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজোও ছিটকে গিয়ে পড়লেন একদিকে। গোটা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা, রক্তে ভেসে যাচ্ছে মাটি। চোখের সামনে সমস্তটাই ঝাপসা, কে দাঁড়িয়ে আছে, কোথায় তিনি কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। ইয়ান কার্ডোজো কেবল দেখলেন, তাঁর একটি পা-কে আর পা বলে চেনা যাচ্ছে না। মাংস আর হাড়ের একটা পিণ্ড হয়ে কোমরের সঙ্গে লেগে আছে মাত্র। রক্ত আর ধোঁয়ায় ভেসে যাচ্ছে জায়গাটা। সেই সময়ই স্থানীয় এক ব্যক্তি রক্তাক্ত, গুরুতর আহত ইয়ান কার্ডোজোকে দেখতে পান। আরও কয়েকজন মিলে ধরাধরি করে তাঁকে গাড়িতে তোলা হল। এঁরা কে? কোথায় যাচ্ছেন তিনি? গাড়িটা কার? মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজোর কিছুই মনে নেই তখন…

কোনওরকমে তাঁকে ব্যাটেলিয়নের হেড কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হল। তাড়াতাড়ি সেনা হাসপাতালে খবর দেওয়াহল, সঙ্গে রেডিও মারফৎ হেলিকপ্টারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছিল। যন্ত্রণার মধ্যেও কার্ডোজো দেখলেন, রক্তের স্রোত থামতেই চাইছে না। পা বলে যে বস্তুটি তখনও লেগে রয়েছে শরীরে, সেটি আরও বিপদ ডেকে আনবে। আচ্ছা, যন্ত্রণা কমানোর জন্য একটু মরফিন পাওয়া যাবে? প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই জবাব এল, পাকিস্তানি সেনাদের শেল হামলায় সমস্ত ওষুধপত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিচ্ছু নেই আর। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ইয়ান কার্ডোজো। যন্ত্রণা সহ্য করেই এই পা কেটে বাদ দিতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, সার্জিক্যাল ছুরি জাতীয় কিছুই নেই ওখানে। থাকার মতো আছে কেবল খুকরি, গোর্খাদের চাকু। শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিধ্বস্ত পা, সেখানে লেগে আছে ঘাস, কাদা, মাটি আর বোমার টুকরো। যদি ইনফেকশন হয়ে যায়, তাহলে তো আরও বিপদ!

চটপট কিছু একটা ভাবলেন ইয়ান কার্ডোজো। পাশেই ছিলেন তাঁর সঙ্গী বলবাহাদুর। এই অবস্থা দেখে তিনিও রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়েছেন। তাঁর দিকে তাকিয়ে কার্ডোজো খুকরি চাইলেন। বের করার পর বলবাহাদুরকে বললেন, “পা-টা কেটে বাদ দিয়ে দাও। দেরি করো না।” বল্বাহাদুর কিছুতেই রাজি নয়। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করাটা ঠিক হবে না। বরং ডাক্তার আসুক আগে। এক মুহূর্তও দেরি করলেন না ইয়ান কার্ডোজো। বলবাহাদুরের হাত থেকে খুকরিটা নিলেন, তারপর নিজেই জখম পা-টি কেটে বাদ দিয়ে দিলেন। বলবাহাদুরকে বললেন কাটা পা-টি মাটিতে পুঁতে দিতে। খানিক পরে ডাক্তার ঢুকে একেবারে অবাক! “এটা কী করলেন, স্যার?” ততক্ষণে ইয়ান কার্ডোজোর নির্দেশ এসে গিয়েছে, “দ্রুত ব্যান্ডেজ বাঁধো”।

শেষমেশ তিনি দেশে ফিরলেন। তাঁর বীরত্ব, সাহসিকতার জন্য একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গিয়ানি জাইল সিংয়ের থেকে অতি বিশ্বস্ত সেবা মেডেল পান। পাশাপাশি পান সেনা মেডেলও। এত বছর পরও, ৮৫ বছর বয়সে আসার পরও সেই সাহস এতটুকুও কমেনি। ভারতের ম্যারাথনে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী মেজর জেনারেল ইয়ান কার্ডোজো আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।