রাজ্যসভা থেকে হঠাৎ ইস্তফা, কেন সরছেন বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডা?
JP Nadda: লোকসভা নির্বাচনের আর দেরি নেই। যে কোনও মুহূর্তে ঘোষণা হয়ে যেতে পারে দিনক্ষণ। আর ঠিক এ সময়ে নড্ডার এই ইস্তফায় প্রবল জল্পনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।

সামনেই লোকসভা ভোট। তার আগে রাজনীতির আঙিনায় ব্যাপক রদবদল ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার বিজেপি নেতা জেপি নড্ডা। এবার ইস্তফা তাঁর। সোমবার হিমাচল প্রদেশ থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেতে ইস্তফা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে রাজ্যের চারটি রাজ্যসভা আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিলেন বিজেপির প্রার্থীরা। সেই জয়ের মাত্র দু-সপ্তাহের মাথাতেই বিরাট সিদ্ধান্ত নিলেন নড্ডা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Tapas Roy Resignation: সোমবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পর বেরিয়ে তাপস রায় বলেন, ”তৃণমূলে আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। দলের একাধিক বিষয়ে আমি আহত হয়েছি, কষ্ট পেয়েছি।"
বেশ কয়েকদিন ধরেই হিমাচল প্রদেশের রাজ্যরাজনীতি উত্তাল। সেখানে ক্ষমতায় কংগ্রেস থাকলেও কংগ্রেসের ভিতরের অন্তর্কলহের জেরে লোকসভা ভোটের আগেই ফায়দা তুলতে পারে বিজেপি। মধ্যিখানে সেই সম্ভাবনা খানিক স্তীমিত হয়ে এলেও ফের উস্কে উঠেছে আশঙ্কা। হিমাচল প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ইতিমধ্যেই কর্মী-সমর্থকদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যে কোনও পরিস্থিতিতে আরও একটি অবিজেপি রাজ্যের দখল নিতে পারে গেরুয়া শিবির। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হিমাচলের একটি মাত্র রাজ্যসভা আসনের ভোটাভুটিতে ক্রস ভোটিংয়ের দৌলতে শাসকদল কংগ্রেসকে হারিয়ে জয়ী হয় বিরোধী দল বিজেপি। তার পর থেকেই ওই রাজ্যে সরকার বদলের জল্পনা চলছে। কংগ্রেস বিধায়কদের ছ'জন ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেছেন। সেখানে কংগ্রেসের ফাটল আরও চওড়া হতে পারে বলে জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে জেপি নড্ডার মতো প্রভাবশালী বিজেপি নেতার হিমাচল প্রদেশের সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে নড্ডার ইস্তফার প্রভাব পড়তে চলেছে তার উপর, সেটাও চিন্তার বিষয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। এমনকী উস্কে উঠছে অন্য জল্পনাও।
তবে এর মধ্যে তেমন সংশয়ের কিছু নেই বলেই মনে করছে বিজেপির একটি অংশ। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে নিজের রাজ্য হিমাচল থেকে নির্বাচিত সাংসদ নড্ডা। আগামী এপ্রিলেই সেই মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ২০১২ সালে হিমাচল প্রদেশ থেকেই প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন জেপি নাড্ডা। ২০১৮ সালেও একই রাজ্য থেকে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে, হিমাচলে কংগ্রেস সরকার থাকায়, জেপি নাড্ডায় জয় নিশ্চিত ছিল না। সদ্য সমাপ্ত রাজ্যসভা নির্বাচনে গুজরাট থেকে বিজেপির টিকিটে তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, গুজরাত থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভা সাংসদ হিসাবে শপথ নেওয়ার আগে পূর্বতন পদ ছেড়েছেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Justice Abhijit Ganguly Tamluk: কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, ভগবানপুর আর খেজুরি বিধানসভা ইতিমধ্যেই বিজেপির দখলে।

লোকসভা নির্বাচনের আর দেরি নেই। যে কোনও মুহূর্তে ঘোষণা হয়ে যেতে পারে দিনক্ষণ। আর ঠিক এ সময়ে নড্ডার এই ইস্তফায় প্রবল জল্পনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি এবার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চলেছেন জেপি নাড্ডা? গত রবিবার, ১৯৫ প্রার্থীর প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল বিজেপি। আগামী বুধবার দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে পারে বলে খবর। তবে, বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায়, আগের পদ থেকে এদিন ইস্তফা দিলেন তিনি। নাড্ডা ছাড়াও আরও ৫৬ জন রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদকাল আগামী এপ্রিল মাসে শেষ হচ্ছে। রাজ্যসভার সংসদীয় বুলেটিনে বলা হয়েছে, “হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী রাজ্যসভার নির্বাচিত সদস্য শ্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা, রাজ্যসভায় তার আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং তাঁর পদত্যাগ ২০২৪ সালের ৪ মার্চ, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান গ্রহণ করেছেন।”
তবে সত্যিই কি তাই? বিজেপির অন্যতম স্তম্ভ জগৎপ্রকাশ নড্ডার হিমাচলের রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা কতটা প্রভাব ফেলতে সেখানকার রাজ্যবিজেপিতে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে শক্তিসঞ্চয়ের চেষ্টা ক্রমাগত করে চলেছে বিজেপি, সেই চেষ্টায় কোথাও জল পড়বে না তো নড্ডার সরে আসায়। প্রশ্ন উঠছেই। একই সঙ্গে বিজেপির অন্দরে তো বটেই, এবার কি মন্ত্রীসভাতেও জায়গা করে নেবেন নড্ডা। ২০২৪ লোকসভা ভোটে বিজেপির জয় যে একরকম নিশ্চিত বলেই মনে করছে গেরুয়াশিবির। সেই প্রত্যয় গোড়া থেকেই দেখিয়ে এসেছে তারা। মোদির তৃতীয় মন্ত্রিসভায় কি সত্যিই জায়গা করে নিতে চলেছেন এবার নড্ডা? তবে তার জন্য তো লড়তে হবে লোকসভা ভোটে। কোন আসন থেকে তাঁকে লড়াতে চলেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। উস্কে উঠেছে নানা জল্পনাই।







