আন্দামানে ভাসছে নৌকা, যেভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন শ’দেড়েক রোহিঙ্গা
Rohingya : মায়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় হল এই রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সালে যখন সে দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন অভিযান শুরু হয় তখন প্রাণ বাঁচাতে তারা আশ্রয় নেয় প্রতিবেশী বাংলাদেশে

খাবার নেই, জল নেই, নেই বেঁচে থাকার রসদ। গত দুই সপ্তাহ ধরে এরকমই ভয়ানক অবস্থায় মাঝ সাগরে আটকে রয়েছে একটি ভাসমান নৌকা। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রে ওপর ওই নষ্ট নৌকায় ভাসছে প্রায় ১৫০ রোহিঙ্গা। বিবিসির একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এইভাবেই মাঝ সমুদ্রে আটকে রয়েছে নৌকাটি। প্রাথমিক যেটুকু যা ছিল, সেগুলোও ফুরিয়ে গিয়েছে সময়ের সঙ্গে। এখন টিকে থাকাটাই দুষ্কর হয়ে গিয়েছে তাদের। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে প্রাণও হারিয়েছে তিনজন শিশু সহ নৌকার কয়েকজন যাত্রী।
জানা গিয়েছে, মাছ ধরার কাজেই ব্যবহৃত হয় এই ধরনের নৌকা। এতে চেপেই বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। গত মাসের শেষ দিকে শুরু হয় যাত্রা। তারপর মাঝ সমুদ্রে বিকল হয়ে পড়ে নৌকাটি। সেই থেকেই একপ্রকার জীবন মরণের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সকলে। আশেপাশের দেশগুলোর কাছে ইতিমধ্যেই সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘ। যদিও এখন পর্যন্ত ওই অনুরোধে কোনও দেশ সাড়া দেয়নি বলেই জানায় বিবিসি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Fish and Paresh Rawal: মুখের ভাষা বাংলা হওয়ার ভিত্তিতে অসমে ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালি ও ৫ লক্ষ মুসলমান বাঙালি, মোট ১৭ লক্ষ বাঙালিকে নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নৌকায় থাকা লোকজন স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে আবেদন জানিয়েছেন সাহায্যের, এমনটাই জানা গিয়েছে প্রতিবেদনে। যে নৌকায় তারা পাড়ি দেন, সেটাই খুবই সাধারণ মানের। মাথার ওপর একটু ছোট ছাদ ছাড়া অবলম্বন বলতে কিছুই নেই। যতদূর ধারণা করা যাচ্ছে যে, সম্ভবত সমুদ্রে রওনা দেওয়ার দিন কয়েকের মাথাতেই বিকল হয়ে পড়ে যন্ত্র। তারপর থেকে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে ভারতীয় জলসীমার কয়েকশ কিলোমিটার দূরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সমুদ্রে ভাসছে নৌকাটি।
মায়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় হল এই রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সালে যখন সে দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন অভিযান শুরু হয় তখন প্রাণ বাঁচাতে তারা আশ্রয় নেয় প্রতিবেশী বাংলাদেশে। তার পর থেকে সে দেশের কক্সবাজার জেলার কুতুপালংয়ের শরণার্থী শিবিরেই বসবাস করে তারা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেখানকার পরিবেশও বাসের অযোগ্য হয়ে ওঠে। তাই খানিক সুখের আশায় তারা ঠিক করে মালেশিয়া পাড়ি দেবেন। যেহেতু শীতকালে সমুদ্রের গতিবিধি তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকে তাই এই সময়টিকেই উপযুক্ত ভেবে গত নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে একদল রোহিঙ্গা।
একদিকে বাংলাদেশ শিবিরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অন্য দিকে ‘বিদ্রোহ দমনের নামে’ মায়ানমারের পুনর্বার সামরিক অভিযান, কোণঠাসা করে দেয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে। এর আগেও বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অন্তত পাঁচটি নৌকা সমুদ্র পথে রওয়া দিয়েছে। ঝুঁকি আছে জেনেও, খানিকটা উন্নত জীবনের আশাতেই তারা পাড়ি দিয়েছেন এই পথে। এর মধ্যেই গত রবিবার সন্ধ্যায় শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে একটি রোহিঙ্গাদের নৌকা উদ্ধারও করে সে দেশের নৌবাহিনী। সেখানেও ছিলেন প্রায় একশোর বেশি রোহিঙ্গা। কিন্তু অন্যদিকে আন্দামান সাগরের মাঝপথে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে এখনও কোনরকম আশার আলো মেলেনি। কিন্তু রোহিঙ্গাদের এই পরিণতির দায় কি কেবল তাদের কুক্ষিগত? নাকি একটা বিষম সামাজিক নিয়মই রয়েছে এর নেপথ্যে! যে নিয়মই হয়তো আজ ঘা মেরে মেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়দের এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে! এখন অপেক্ষা কেবল অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জিত থাকার আলীর হদিশের। যার জেরে মুক্তি মিলবে আন্দামান সাগরে আটকে থাকা শত শত মানুষের।
















