এখন তখন অবস্থা পেলের, যা জানাচ্ছে ফুটবল সম্রাটের পরিবার
Pele health condition : ভালো নেই তিনি। একেবারেই ভালো নেই ফুটবল সম্রাট। ক্যানসারের মারণ থাবা ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে শরীরে।

ঘড়ির দিকে নজর সবার। প্রতিটা মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে ডাক্তারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা, পরিবারের মানুষের চোখের কোলে জল। অন্যদিকে সেই উৎকণ্ঠার ঢেউ সাও পাওলো, ব্রাজিলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পৃথিবীতে। পেলে কেমন আছেন? আপামর ফুটবল ভক্তদের প্রশ্নে মাথা নাড়াচ্ছেন সাও পাওলোর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালের ডাক্তাররা। ভালো নেই তিনি। একেবারেই ভালো নেই ফুটবল সম্রাট। ক্যানসারের মারণ থাবা ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে শরীরে।
বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীনই খবরটা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এমনিতেই ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ লড়ছিলেন অনেকদিন ধরে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সবার প্রশ্ন, পেলের কী হল? তড়িঘড়ি হাসপাতালে কেন? কিন্তু আশ্বস্ত করেছিলেন ফুটবল সম্রাট নিজেই। বলেছিলেন, নিছকই রুটিন কিছু পরীক্ষা। বহুদিন ধরে এই রুটিন চেকআপের মধ্যেই দিন কাটছে তাঁর। সে জন্যই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Pele : ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সম্রাট তিনিই
কিন্তু অবস্থা খারাপ হতে শুরু করল তারপরই। ক্যানসারের সঙ্গে তাঁর দুর্বার গতি কিছুতেই কাজ করছে না। ট্যাকল করে বারবার তাঁকে থামিয়ে দিচ্ছে। একটা সময় পর চিকিৎসকরা দেখলেন, কেমোথেরাপি কোনও কাজই দিচ্ছে না। শেষমেশ যন্ত্রণা কমাতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে পেলেকে ভর্তি করা হয়। সেখানে শুয়েই ফুটবল বিশ্বকাপের দিকে নজর রাখছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর শরীর ফের ভেঙে পড়ে। পেলের মেয়ে কেলি নাসচিমেন্তো বাবাকে জড়িয়ে ধরে ছবি পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে লেখা, আরও একটা রাত। এখনও লড়াই জারি রয়েছে।
এর মধ্যেই হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পেলের ক্যানসারের প্রভাব পড়েছে তাঁর শরীরেও। ৮২ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির কিডনি, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলছে এই রোগ। ফলে একটু একটু করে ক্লান্ত হচ্ছেন তিনি। তাঁর ক্যানসার এই মুহূর্তে অ্যাডভান্সড স্টেজে। ক্রিসমাসের সময়ও বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি। সেই জোর আর নেই পেলের। হাসপাতালে ছুটে আসে তাঁর পরিবার। সেখানেই একসঙ্গে হয় ক্রিসমাস উদযাপন। বাড়ির লোকেরা এখনও বসে রয়েছেন সাও পাওলোর ওই হাসপাতালে। পেলের ছেলে আদ্রিয়ানোও বলছেন, বাবা, আমার শক্তি, জীবন তোমায় দিলাম। সুস্থ হয়ে ওঠো তুমি।
গোটা পৃথিবী যেন সেই কথাই বলছে। সমস্ত আয়ু নিয়ে বেঁচে থাকুন পেলে। কিন্তু মাথা নাড়াচ্ছেন ডাক্তাররা। আপাতত হাসপাতালে পেলের হাত ধরে বসে রয়েছেন তাঁর পরিবারের মানুষজন। কখন কী হবে, বলা যাচ্ছে না কিছুই।















