লুচি-ছোলার ডাল থেকে পেটাই পরোটা! মহালয়ার ভোরে চেখে দেখুন উত্তরের সেরা জলখাবার

Mahalaya 2022: মহালয়ার সকালে কোথায় করবেন প্রাতরাশ? জেনে নিন।

Raktim Dey
৪ মিনিট
লুচি-ছোলার ডাল থেকে পেটাই পরোটা! মহালয়ার ভোরে চেখে দেখুন উত্তরের সেরা জলখাবার

কথায় আছে, বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আবার ভোজনরসিক বলেও বাঙালির যথেষ্ঠ সুনাম রয়েছে। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর আবহের সূচনা মহালয়া থেকেই হয়। তাই মহালয়ার দিন সকালে রেডিওতে 'মহিষাসুরমর্দিনী', গঙ্গার ঘাটে তর্পন এবং কুমারটুলিতে ভিড় জমানোর মাঝেই বাঙালি ঢুঁ মারে বিভিন্ন পরিচিত খাবারের দোকানে, জলখাবারের সন্ধানে। উত্তর কলকাতায় কুমোরটুলির কিছু দূরেই বাগবাজার এবং শ্যামবাজারে রয়েছে এইরকম বহু দোকান, যাদের জনপ্রিয়তা সারা বছর বজায় থাকলেও মহালয়ার দিন সকালের ভিড় তাদেরও গলদঘর্ম করে তোলে।

হরিদাস মোদক

শ্যামবাজারের আদি হরিদাস মোদকের দোকান প্রায় ২৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বহু মানুষের রসনাতৃপ্তির এক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের খ্যাতি বজায় রাখতে পেরেছে। শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড় থেকে আরজি কর রোডে কালী মন্দিরের বিপরীতে জৈন জলছত্রর ঠিক পিছনে রয়েছে এই দোকান। এই দোকানে কলাপাতায় গরম গরম হিংয়ের কচুরির সঙ্গে সুমিষ্ট ছোলার ডাল বহু মানুষের জিভে জল আনতে বাধ্য। মিষ্টির মধ্যে কাঁলাকাদ, ছানার জিলিপি, কালোজাম এই দোকানের খ্যাতি বাড়িয়ে তুলেছে। কচুরি ছাড়াও এই দোকানের মূল আকর্ষণ, লুচি এবং ছোলার ডাল পাওয়া যায়। কথিত আছে যে, শ্রীরামকৃষ্ণদেব থেকে প্রখ্যাত নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষের মতো অনেকেই এই দোকানের লুচি-কচুরির স্বাদ আস্বাদন করেছেন।

হরিদাস মোদক

শীতল আশ্রম

শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড়েই রয়েছে হরিদাস মোদকের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রকমের খাবার পরিবেশন করা একটি দোকান। তার নাম 'শীতল আশ্রম'। শ্যামবাজারের পাঁচমাথার মোড় থেকে এ.পি.সি রোড ধরলেই পৌঁছনো যায় এই দোকানে। চা, কফি, টোস্ট, অমলেটের মতো খাবার এই দোকানে পাওয়া যায়। এক কাপ চা এবং মাখন, চিনি অথবা গোলমরিচ মাখানো টোস্টের পাশাপাশি চিজ-চিকেন এগ টোস্ট অথবা চিকেন অমলেট জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। সারা বছর প্রাতঃভ্রমণকারীদের বাড়ি ফেরার আগের একটা পছন্দের ঠিকানা হলেও উৎসবের মরশুমে বিভিন্ন স্বাদের খাবারের স্বাদ পেতে বহু মানুষ এই দোকানে ভিড় করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাছের কচুরি থেকে মৌরি লজেন্স, অবহেলিত হয়েও টিকে আছে কলকাতার যেসব খাবার

হারিয়ে যেতে থাকা খাবারের তালিকার মধ্যে জলখাবারের বিভিন্ন পদ থেকে কিছু বিশেষ লজেন্স অবধি সবকিছুই রয়েছে।

শীতল আশ্রম

পটলার কচুরি

বাঙালিয়ানা এবং বাগবাজার প্রায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই বাগবাজারে রয়েছে কিছু এমন খাবারের দোকান যাদের নাম বহু দূর অবধি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় একশো বছরের দোরগোড়ায় পৌঁছে আজও সমান জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে পটলার কচুরি। বাগবাজার স্ট্রিটের ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের বিপরীতে এই কচুরির দোকান। দোকানে বসে খাবার জায়গা নেই। দোকানের কোনও চকমকি সাইনবোর্ড নেই। তবুও শুধু মানুষের স্বাদকোরক এবং মন খুশি করার উপায় খুঁজে বের করেছে এই দোকান। সেই উপায় রয়েছে এই দোকানের খাবারের স্বাদের মধ্যে। শালপাতায় গরম কচুরি এবং হালকা লাল ঝোলের আলুর দমের স্বাদ মানুষকে বারবার এই দোকানে টেনে নিয়ে আসে। পুরে ঠাসা কচুরি বাদে এই দোকানের চপ বহু মানুষের কাছেই অতিশয় সুখাদ্য বলেই বিবেচিত হয়।

পটলার কচুরি

কালিকা মিষ্টান্ন ভান্ডার

বর্তমান কলকাতায় খুব অল্প কিছু দোকানে কচুরির সঙ্গে ছোলার ডাল পরিবেশন করা হয়। বাঙালির খুব প্রিয় এই দু'টি পদ একসঙ্গে উত্তর কলকাতার বহু দোকান থেকে অদৃশ্য হতে শুরু করলেও কিছু দোকান আজও এই দু'টি পদ পরিবেশ করে চলেছে। শ্যামবাজারের আদি হরিদাস মোদকের মতো বাগবাজারের কালিকা মিষ্টান্ন ভান্ডার আজও কচুরির সঙ্গে ছোলার ডাল পরিবেশন করে। যদিও এই দোকানের ছোলার ডালের মধ্যে আলুর টুকরো লক্ষ করা যায়, তবুও সেই কচুরি এবং ছোলার ডালের জুটি যে বহু মানুষের মন জয় করছে- তা বলাই বাহুল্য। বাগবাজার স্ট্রিটের উপর অবস্থিত এই দোকানটি একশো বছরের যাত্রা সম্পূর্ণ করেও আজও নিজের সুনাম অক্ষত রেখেছে কালিকা। সকালবেলা খুব অল্প সময়ের জন্য এই দোকানে কচুরি এবং ছোলার ডাল পাওয়া যায়। তাই এই অনবদ্য স্বাদ আস্বাদনের ক্ষেত্রে শুভস্য শীঘ্রম মন্ত্র মেনে চলতে হবে।

ভোলানাথ কেবিন

বাগবাজারের গিরিশ ঘোষের একদিকে রয়েছে ভোলানাথ কেবিন। চা, টোস্ট, ঘুগনির মতো সাধারণ অথচ জনপ্রিয় খাবার পরিবেশন করেই দীর্ঘদিনের এই প্রতিষ্ঠান নিজের সুনাম অর্জন করেছে। সঙ্গে ডিমের পোচ, অমলেট, ডিম টোস্টও ভোলানাথ কেবিনের অন‍্যতম আকর্ষণ। আজও এই দোকানে মাটির উনুনে রান্না করা হয়। অনেকের মতে সেই মাটির উনুন এই দোকানের রান্নার আলাদা স্বাদ এনে দেয়। এই দোকানের আরও একটা বিশেষত্ব হলো এই দোকানের চায়ের কাপ। আমাদের পরিচিত চায়ের কাপের থেকে আকারে এবং আয়তনে অনেকটা আলাদা এক ধরনের কাপে এই দোকানে চা পরিবেশন করা হয়। সারা বছর প্রধানত প্রাতঃভ্রমণকারী এবং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা এই দোকানে ভিড় জমালেও উৎসবের সময়ে বহু প্রান্ত থেকে কুমোরটুলিতে আসা বহু মানুষ এই দোকানে ভিড় জমান।

পেটাই পরোটা

শুধুমাত্র কচুরি, ছোলার ডাল অথবা টোস্ট-ঘুগনি নয়, এই এলাকায় রয়েছে আরও এক ধরনের জলখাবার। এই খাবার পরিবেশন করে কোনও দোকান বিখ্যাত না হলেও খাবারটি বেশ জনপ্রিয়। বহু মানুষ তাই সকালে কচুরি অথবা টোস্ট ছেড়ে পেটাই পরোটার প্রেমে মজে। বাগবাজারের বলরাম মন্দিরের কাছে এবং শ্যামবাজারে চ্যাটার্ড ব্যাঙ্কের কাছে কিছু স্টলে এই খাবার পাওয়া যায়। চটজলদি, সস্তা এবং মুখরোচক এই খাবার বহু মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। দুই বছর পুজোর আনন্দ কিছুটা মাটি হওয়ার পরে এই বছর বাঙালি তৈরি হচ্ছে উৎসব পালন করতে এবং সেই সুযোগে কিছু বিখ্যাত দোকানে ঢুঁ মেরে নিজের রসনাতৃপ্তি করতে।

লিখেছেন
Raktim Dey
Raktim Dey
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।