বিএসএফ জওয়ানকে কুপিয়ে খুন! গুজরাটের যে ঘটনায় শিউরে উঠতেই হয়
Crime: মেয়ের অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিয়ে প্রতিবাদে গুজরাটে বিএসএফ সদস্যকে খুন

‘ভাইরাল’ এই শব্দটির সঙ্গে আমরা সকলেই এখন পরিচিত। একটা ক্লিক থেকে অজস্র ক্লিকে নিয়ত ব্যক্তিগত জীবনও এখন সামাজিক মাধ্যমে সংকলের মুঠোবন্দি। অন্তর্জালে আটকা পড়েই এখন গোটা সমাজটা এগোচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া নামক মোক্ষম এক অস্ত্র এখন ঘরে ঘরে। সেখানে হামেশাই অনেকে ব্যক্তিগত জীবনকে তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক মানচিত্রে এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে অনেকটা বদল এসেছে। শিক্ষামূলক নানা আলোচনাও এখন সহজেই পোঁছে যায় বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু এ হেন একটা মাধ্যমের এই ছড়িয়ে পড়াকেই অস্ত্র করেছে একদল কুচক্রী। কারোর অমতে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে, ভিডিও তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছে গণমাধ্যমে।
এরকমই একটি মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে গুজরাট রাজ্য। সম্প্রতি নেটমাধ্যমে গুজরাটের এক কিশোরীর অশ্লীল ভিডিও তুলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনা জানাজানি হতেই প্রতিবাদ করেন ওই কিশোরীর পিতা। সীমান্ত বাহিনীর তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যক্তির নাম ভাঘেলা। তিনি বিএসএফের ৫৬তম ব্যাটালিয়নে হেড কনস্টেবল ছিলেন। ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি, সেই সময়েই ঘটেছে ঘটনাটি। জানা গিয়েছে, মেয়ের ভিডিও নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই রীতিমতো পিটিয়ে তাঁকে খুন করে অভিযুক্তের পরিবার। ঘটনার পরপরই ভাঘেলার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিএসএফ গুজরাট পুলিশ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Video Chat Sex Trap: যৌনতার টোপ দেখিয়ে জালবন্দি করার ভূরি ভূরি উদাহরণ থাকলেও অনলাইনে এই ফাঁদ নাকি আতঙ্কের! কেন, কী ঘটছে?
প্রসঙ্গত জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল স্কুল পড়ুয়া ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর। দুটি পরিবারই গুজরাতের নাদিয়াদ গ্রামের চাকলাসি এলাকার বাসিন্দা। প্রেমের সম্পর্কে থাকাকালীন কিছু ঘনিষ্ট মুহূর্তের ভিডিও করে রেখেছিল ছেলেটি যা নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেই ঘটনার রূপরেখা বদলে যায়। এমনকি ভাইরাল ওই ভিডিওটিতে কিশোরীর পাশাপাশি অভিযুক্ত কিশোরকেও দেখা গিয়েছে বলে, সূত্রের খবর। মেয়ের এই খবর শুনেই এক ভাইপো, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে যান মৃত জওয়ান। অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলেটির পরিবার। শুধু তাই নয়, ঐ জওয়ান ও তার পরিবারকে আক্রমণ করে তারা। চলতে থাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বেধড়ক মারধর। একটা সময় পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওই জওয়ানকে খুন করে কিশোরটির পরিবার। সিনিয়র পুলিশ অফিসার ভি.আর বাজপাই জানিয়েছেন, এই ঘটনার সাত অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম শব্দবন্ধটি বর্তমানে বদলে দিয়েছে অপরাধ জগতের চিরাচরিত ধারণাকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই খুব জনপ্রিয় হয়েছে এই ধরনের ক্রাইম। প্রযুক্তি যত উন্নত হয়ে উঠছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে এই জাতীয় অপরাধ। নেটমাধ্যমকে ব্যবহার করে মূলত করা হয় এই ধরনের ক্রাইম। হ্যাকিং, ইলেকট্রনিক ফর্মে রয়েছে তথ্য চুরি করা, মেইল বম্বিং এর পাশাপাশি মানুষের গোপন মুহূর্তের ফুটেজ নিয়ে তার অমতে ছড়িয়ে দেওয়া এগুলো আকচার ঘটছে। আজকের গুজরাটের ঘটনা তাই কোনও ব্যতিক্রম নয়। এর বিরুদ্ধে রয়েছে আইন অথচ তাই ফাঁক দিয়ে অপরাধও চলছে। তাই এই মুহূর্তে পরিস্থিতির বদলে শুধু আইনের ওপর জোর দিলেই যে সার্বিক পরিস্থিতি বদলাবে না সেকথা বলেছে বিশেষজ্ঞরা। সমাজের অন্ধকার মোচনে মনোবিদদের ভূমিকাকে তাই যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বর্তমানে। বিজ্ঞানকে আশীর্বাদ না ভেবে অভিশাপ ভেবে বসা এই সমাজের তো বদল দরকার।
















