আবর্জনা সংগ্রহ করে দুশো কোটির ব্যবসা! এই যুবকের সাফল্য হার মানাবে বলিউডকে

শুধুমাত্র নিজের স্বপ্নপূরণ করাই নয়, এই কাজের মাধ্যমে সন্দীপ ভাই প্যাটেল সমাজকল্যাণও করে চলেছেন নিঃশব্দে।

Sayan Das
৩ মিনিট
আবর্জনা সংগ্রহ করে দুশো কোটির ব্যবসা! এই যুবকের সাফল্য হার মানাবে বলিউডকে

মানুষের জীবনে সাফল্যের কাহিনি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হয়। তবে গল্পগুলি আলাদা হলেও এই গল্পের স্রষ্টারা জানেন সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। সাফল্যের শিখরে পৌঁছনোর নেপথ্যে অক্লান্ত পরিশ্রমের একটা নেপথ্য আখ্যান থাকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা খবরের কাগজে আমাদের সামনে এরকম বিভিন্ন মানুষের সাফল্যের কাহিনি উঠে আসে, যা আমাদের নতুন স্বপ্নের দিকে চালিত করে। আবার এমন মানুষের কথাও জানতে পারি যারা সোশ্যাল মিডিয়াতেই পরিচিতি লাভ করেছেন। এক্ষেত্রে ভুবন বাদ্যকর থেকে শুরু করে রানু মণ্ডলের মতো শিল্পীরা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ যদি তার কাজের প্রতি সৎ এবং লক্ষ্যে স্থির থাকে, তবে একদিন না একদিন সে ঠিক সাফল্য অর্জন করবেই। আজকেও এমন এক কাহিনি তুলে ধরা হবে, যেখানে শত বাধা সত্ত্বেও জীবনযুদ্ধে জয়লাভ করে এক যুবক।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক গুজরাটি যুবকের কাহিনি সকলের সামনে উঠে এসেছে, যা হতবাক করছে গোটা দেশবাসীকে। জানা গিয়েছে, প্রথমে লন্ডনে গিয়ে এমবিএ (MBA) পাশ করেন সন্দীপ ভাই প্যাটেল নামে ওই যুবক। তবে বিদেশে কাজের উপযুক্ত সুযোগ না মেলায় ফিরে আসতে হয় দেশের মাটিতে। আর সেই সিদ্ধান্তই জীবনে আমূল পরিবর্তন ঘটাতে সহায়তা করে। বর্তমানে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে চলেছে গুজরাটি এই বাসিন্দা। তবে শুরুটা তাঁর একদমই মসৃণ ছিল না। বহু উপেক্ষা সহ্য করে এবং প্রতিটি পদে বাধা সত্ত্বেও নিরলস পরিশ্রমের মধ্যে দিয়েই সাফল্য অর্জন করে চলেছে সন্দীপ। তাঁর জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং বর্তমানের সাফল্যের আখ্যানই তুলে ধরব পাঠকেক সামনে।

গুজরাটের বাসিন্দা সন্দীপ ভাই প্যাটেল বর্তমানে 'নেপরা রিসোর্সেস' নামক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন এবং এর মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যেই কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে চলেছেন তিনি। শুনলে আশ্চর্য হবেন, তবে বর্তমানে এটি দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল শুষ্ক বর্জ্য ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হয়ে উঠেছে। এরকম সংস্থা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই হয়তো পূর্বে শোনেনি, তবে বর্তমানে এটি সন্দীপের উপার্জনের পথ হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে 'নেপরা রিসোর্সেস' সংস্থা প্রতিদিন ৫০০ টনের ওপর শুকনো বর্জ্য পদার্থ আদান প্রদান করে চলেছে বলে খবর। আর এই কাজের মাধ্যমেই বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার উপর অর্থ ইনভেস্ট ইন্ডাস্ট্রিতে লেনদেন করেছেন সন্দীপ ভাই প্যাটেল।

সামান্য কয়েক বছরে এই পরিমাণ অর্থের জোগান সুনিশ্চিত করা যে কোনো মানুষের কাছে যথেষ্ট মুশকিল কাজ। আর বর্তমানে সেটাই করে দেখিয়েছেন গুজরাটি এই বাসিন্দা। উল্লেখ্য, কলেজে পড়াকালীন ব্যবসার প্রতি এক বিশেষ ঝোঁক দেখা যায় সন্দীপের। তার বন্ধু এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের অধিকাংশরাই ব্যবসা করতেন। সেখান থেকেই তাঁর আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পায়। তবে এরপর লন্ডনে গিয়ে এমবিএ পড়া শুরু করেন তিনি। অবশ্য সেখানে ভালো কোন সুযোগ না মেলায় অবশেষে ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে ছাত্রজীবনে দেখা স্বপ্নের পথে পা বাড়ান সন্দীপ। তবে শুরুর যাত্রা একদমই ভালো হয় না তাঁর। প্রথমে পরিবহণ এবং পরে কেমিক্যাল ট্রেডিং ব্যবসা দিয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে সেগুলি মুখ থুবড়ে পড়ে। পরবর্তীতে আসে নেপরা রিসোর্স-এর মাধ্যমে ডিজিটাল শুষ্ক বর্জ্য পদার্থ ম্যানেজমেন্টের ধারণা। তবে আবর্জনা নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন শুরু হলেও তা হয় না একদম মধুর।

বন্ধুমহলে এবং পাড়া-প্রতিবেশী মধ্যে অনেকেই তাঁর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে মজা করতে থাকে। বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে এসে কিভাবে একজন আবর্জনা নিয়ে ব্যবসা চালাতে পারে, তা নিয়ে সন্দীপকে বহু কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি। এক্ষেত্রে ব্যবসা বৃদ্ধি করার জন্য একাধিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার মাধ্যমে ক্রমশ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার অস্ত্রে শান দিতে থাকে সন্দীপ। তবে সকল বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেই যে সমান সুযোগ আসে, তা একদমই নয়। এক্ষেত্রে বহু প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। এমনকি একবার ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডের কারণে সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়ে সেই ব্যবসা। তবে তা সত্ত্বেও সেই পরিস্থিতি দমাতে পারেনি সন্দীপকে এবং বহু পরিশ্রমের মাধ্যমে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে গড়ে তোলেন বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল বর্জ্য ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।

বর্তমানে তাঁর টার্নওভার প্রায় ২০০ কোটির বেশি বলে জানা গিয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবসা শুরু করার স্বপ্নের ফলে বর্তমানে শুধুমাত্র সন্দীপ সুবিধা পেয়েছেন তা নয়, সংশ্লিষ্ট মানুষেরাও লাভের মুখ দেখছেন, মুখ হাসি ফুটছে তাদের। বলে রাখা ভাল, পূর্বে আবর্জনা তোলার কাজ করে গুজরাটের একাধিক বাসিন্দারা মাসে যে পরিমাণ টাকা উপার্জন করতেন, তাতে তাদের সংসার চলত কোনোমতে। সেখানে সম্প্রতি সন্দীপের নেপরা রিসোর্সেস কোম্পানিতে যোগদান করে তাদের ন্যূনতম বেতন প্রতি মাসে প্রায় আট হাজার টাকা। আগের থেকে অনেকটা ভালো আছেন তারা। ফলে বলতেই হবে যে, শুধুমাত্র নিজের স্বপ্নপূরণ করাই নয়, এই কাজের মাধ্যমে সন্দীপ ভাই প্যাটেল সমাজকল্যাণও করে চলেছেন নিঃশব্দে। আবার পরিবেশ দূষণ রোধেও প্রতিদিন তাঁর দলের ভূমিকা থাকছে। এই না হলে কাজের মতো কাজ!

লিখেছেন
Sayan Das
Sayan Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।