বাংলায় বহুদিন বন্ধ MGNREGA তহবিল, শ্রমিকের প্রাপ্য মারার অজুহাতই কি কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত?

MGNREGA Scheme: প্রায় ২,৭০০ কোটি টাকা বাংলায় বকেয়া রয়েছে কেন্দ্রের ওই প্রকল্পে। তার মধ্যে ১৫০০ কোটি টাকা সেই সময়ের, যে সময় তহবিল বন্ধের বিল পাশও হয়নি।

Sohini Das
৩ মিনিট
বাংলায় বহুদিন বন্ধ MGNREGA তহবিল, শ্রমিকের প্রাপ্য মারার অজুহাতই কি কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত?

বাংলায় একশো দিনের কাজের বকেয়া নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত বহুদিনের। কোনওভাবেই বাংলায় চেপে বসতে পারছে না বিজেপি। তাই কি বাংলাকে ভাতে মারার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তার উপর বাংলা থেকে বারবার প্রবল হয়েছে বিজেপি বিরোধিতার জের। আর তার ফলই কি ভুগছে বাংলার একশো দিন কাজের শ্রমিকেরা। নাকি এর বাইরেও কাজ করছে অন্য কোনও সমীকরণ! বহু দিন ধরেই একশো দিনের কাজের বকেয়া চেয়ে এসেছে রাজ্য। আবেদন-নিবেদন, চিঠি চালাচালি, কোনও কিছুতেই কাজের কাজ হয়নি। শেষপর্যন্ত মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্পে বাংলায় তহবিল বন্ধই করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার ফলে একশো দিনের শ্রমিকেরা MGNREGA প্রকল্পের আওতায় বাংলার শ্রমিকেরা আর কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে কোনও টাকা পাচ্ছেন না। তার জন্য এরমধ্যে আস্ত একটি বিলও পাশ করে ফেলেছে কেন্দ্র। তবে দেখা যাচ্ছে, সেই বিল পাশ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে থেকেই একশো দিনের কাজের তহবিল বাংলায় বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার।

কথাতেই আছে, 'রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়'। তারই প্রকৃষ্টতম উদাহরণ বোধহয় এই MGNREGA প্রকল্প। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে কার্যত প্রাণ যাচ্ছে এ রাজ্যের একশো দিনের শ্রমিকদের। ২০২২ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক (MoRD)মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি (MGNREGA)-এর ২৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে বাংলায় MGNREGA তহবিল বন্ধ করার বিল পাস করে। কিন্তু কাগজকলম বলছে, ওই বিল পাশের অন্তত তিন মাস আগে থেকেই বাংলায় ওই খাতে টাকা পাঠানো সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকেই বাংলায় বন্ধ ওই তহবিল।

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের তথ্য জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এই প্রকল্প নিয়ে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (ATR) চেয়ে পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। বহুদিন ধরেই এ রাজ্যে ১০০ দিনের প্রকল্প নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে তদন্তের জন্য একটি কেন্দ্রীয় দলও পাঠিয়েছিল বিজেপি সরকার। সেই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অ্য়াকশন টেকেন রিপোর্ট রাজ্যের কাছে চেয়েছিল কেন্দ্র। ঢিলেমি করে করে ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেয় রাজ্য। সেই রিপোর্ট সন্তোষজনক নয় বলে দাবি করে কেন্দ্র ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে। এরপরে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে নতুন করে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যা আর কেন্দ্রের কাছে জমা পড়েনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৫ মাসের শিশুর লাশ ব্যাগে ঝুলিয়ে ফিরছে বাবা! বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিকরা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে

Kaliaganj Child Death: অভাব রাজ্যের সীমানা ঘুচিয়ে দেয়। অভাব এরাজ্যের বাবার সঙ্গে অন্য রাজ্যের বাবাকে এক পংক্তিতে দাঁড় করিয়ে দেয়।

এর পরেই বাংলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় কেন্দ্র। MGNREGA-র ২৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে বাংলার জন্য ওই তহবিল বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। জানানো হয়, রাজ্যের কাছ থেকে সন্তোষজনক রিপোর্ট না পেয়েই এই কড়া পদক্ষেপ। যতক্ষণ না রাজ্য এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মেনে চলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে রাজ্যের ১০০ দিনের কাজের তহবিল।

এ রাজ্যের অসংখ্য নিম্ন ও অতিনিম্নবিত্ত পরিবারের সংসার চলে এই একশো দিনের কাজ করে। পুকুর কাটা, রাস্তা তৈরি, সাফাইয়ের মতো ১০০ দিনের কাজ করেই তাদের ক্ষুদপিপাসা নিবৃত্তি হয়। সাধারণ ভাবে কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বেতন পান MGNREGA শ্রমিকেরা। রাজ্য সরকারের পাঠানো ফান্ড ট্রান্সফার অর্ডারের ভিত্তিতে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের থেকে সরাসরি শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে ওই বেতন পাঠানো হয়। রাজ্যের কাজের ভিত্তিতে গ্রামোন্নয়নন মন্ত্রক প্রতিদিন ওই বেতন দিতে থাকে রাজ্যের পাঠানো FTO মিলিয়ে। কারও বেতন বাকি থেকে গেলে তার উপরে ০.০৫ শতাংশ হারে তার উপরে সুদও দেয় কেন্দ্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও শোষণের শিকার অসংগঠিত ক্ষেত্রের কোটি কোটি শ্রমিক

ভারতে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজকর্ম করে উপার্জন করেন এমন মানুষের সংখ্যা অন্তত ৫০ কোটি। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই লাগাতার অসহনীয় শোষণের শিকার।

তবে এ সকলই এখন ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজদুর সমিতি (PBKMS) নামে একটি শ্রমিক সংগঠনের তরফে অনুরাধা তলওয়ার জানিয়েছেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ওই তহবিল একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছে সংগঠনটি। জানা গিয়েছে, প্রায় ২,৭০০ কোটি টাকা বাংলায় বকেয়া রয়েছে কেন্দ্রের ওই প্রকল্পে। তার মধ্যে ১৫০০ কোটি টাকা সেই সময়ের, যে সময় তহবিল বন্ধের বিল পাশও হয়নি। ওই শ্রমিক সংগঠনের দাবি, এ ভাবে তহবিল বন্ধ করে দেওয়া অন্যায্য। এই ধরনের কাজ করার অধিকার নেই গ্রামন্নোয়ন মন্ত্রকের। যদিও এ ব্যাপারে মন্ত্রকের তরফে কোনও সদুত্তর মেলেনি।

ওই ১৫০০ কোটি টাকা বকেয়ার সুদ দাঁড়ায় অন্তত ২০০ কোটি টাকা। আসলেরই ঠিকঠিকানা নেই। সুদের আশাটুকুও করার অবস্থায় নেই এ বাংলার দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের। কেন্দ্রের এই মনোভাব শ্রমিকবিরোধী বলেই দাবি করেছে শ্রমিক অধিকার গ্রুপগুলি। ইতিমধ্য়েই শুরু হয়েছে 'বিজেপি হঠাও! NRGEGA বাঁচাও' ক্যাম্পেনও। ২০২৪ ভোটের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে এই শ্রমিরবিরোধী কার্যকলাপকেই হাতিয়ার করতে চাইছে একাধিক শ্রমিক সংগঠন।

আদতে যেভাবে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আড়ালে গরিব, খেটে খাওয়া মানুষকে বঞ্চনা করার অবিরাম চেষ্টা চালাচ্ছে দুই সরকারই, তার নিন্দা করেছে একাধিক বুদ্ধিজীবী মহল। আসলে এই ছদ্ম লড়াইয়ের মলাটে টাকা বাঁচাচ্ছে কেন্দ্র, রাজ্য উভয়েই। আর শহর সাজাতে, ঝলমলে লোকসভা ভবনের মতো চাকচিক্যময় স্থপতি বানাতে কিংবা দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশসফরের পিছনে খরচ হয়ে যাচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের রক্তঘাম জল করা পারিশ্রমিকটুকু! এই 'অচ্ছে দিন'-ই দেশের মানুষ চেয়েছিল বুঝি!

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।